বিএনপির রাজনীতি লাশের ওপর প্রতিষ্ঠিত: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

1659537309.bg-6754.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির রাজনীতি লাশের ওপর প্রতিষ্ঠিত, সেই কারণে তারা লাশ সৃষ্টি করতে চায়। আর আগস্ট মাস আসলেই তাদের এই প্রবণতাটা আরো বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, সেজন্য ভোলাতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটিয়েছে বিএনপি। সারা বাংলাদেশে তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে লাশ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের গত কয়েক দিনের উসকানিমূলক বক্তব্য এটিই প্রমাণিত হয়। তবে জনগণ তাদের সেই সুযোগ দেবে না।

বুধবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে ভোলায় ছাত্রদল নেতা নিহতের ঘটনায় বিএনপির হরতাল ডাকা ও একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে সরকার পতনের ডাক দিয়েছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের এসব প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী একথা বলেন। এ সময় বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম কেন্দ্রের পরিচালক এএসএম আবুল হোসেন, সিনিয়র প্রকৌশলী ভাস্কর দেওয়ান, আঞ্চলিক বার্তা নিয়ন্ত্রক হীরক খান উপস্থিত ছিলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির রাজনীতিটা লাশের ওপর প্রতিষ্ঠিত। জিয়াউর রহমান লাশের ওপর পাড়া দিয়েই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিল। ক্রমাগতভাবে বহু সৈনিকের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনা করেছে। ১৯টা ক্যু হয়েছে, শতশত নয় কয়েক হাজার সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর অফিসার এবং জওয়ানকে হত্যা করেছে জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকেও হত্যা করেছেন তিনি। লাশের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতা দখল করে ক্রমাগতভাবে লাশ সৃষ্টি করে দেশ পরিচালনা করেছে।

তিনি বলেন, এরপর বেগম খালেদা জিয়াও একইপথ অনুসরণ করেছে। ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে কীভাবে অগ্নিসন্ত্রাস করে মানুষকে পুড়িয়ে লাশ বানিয়ে সেই লাশ আবার পুড়িয়ে অঙ্গার করে ফেলেছে। লাশের ওপর দাঁড়িয়েই তাদের রাজনীতি।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ভোলায় তারা যে মিছিল ও সমাবেশ করবে তা পুলিশকে জানায়নি। এরপরও পুলিশ তাদের সহযোগিতা করেছে। যখন তারা দোকানপাট ভাঙচুর এবং পুলিশের প্রতি ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করল, বিএনপির সমাবেশ থেকে পুলিশের ওপর গুলি ছোড়া হয়েছে। সেই গুলিতে পুলিশের একজন কনস্টেবল আহত হয়েছে, আরেকজন কনস্টেবলকে ধরে নিয়ে গিয়ে বিএনপি অফিসে মারধর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আত্মরক্ষার্থে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। সেখানে তাদের দুজন কর্মী মৃত্যুবরণ করেছে। আগে যিনি মৃত্যুবরণ করেছে ডাক্তারের রিপোর্ট হচ্ছে তার হেড ইনজুরিতে মৃত্যু হয়েছে। হেড ইনজুরি ইট-পাটকেলের আঘাতেই হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। ইট পাটকেল তো বিএনপিই ছুড়েছে। তাদের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর দায়দায়িত্ব হচ্ছে বিএনপির। প্রকারান্তরে তাদের মৃত্যুর জন্যও দায়ী বিএনপি।

নাম ও সাইনবোর্ডসর্বস্ব বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিএনপি মিটিং করছে উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, তাদের এই মিটিং দেখে অনেকে আবার নতুন দল গঠন করার উৎসাহী হচ্ছে, বিএনপি কখন তাদের ডাকে। এ ধরনের পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র একটি ঐতিহাসিক বেতার কেন্দ্র। চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা প্রথম পাঠ করা হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধারা চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের ট্রান্সমিটার নিয়েই প্রথম স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু করেন। পরে ভারতের পক্ষ থেকে একটি ট্রান্সমিটার তাদের দেওয়া হয়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হচ্ছে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র। ট্রান্সমিশন যাতে আরো ভালো হয় সেজন্য সলিমপুরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাতে দেশের বেশিরভাগ জায়গায় চট্টগ্রাম বেতারকেন্দ্র শোনা যায়।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top