খুলনায় কোরবানি উপলক্ষে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুলিশের

97101397_2613122082299288_2352701372995993600_o.jpg

ঈদুল আযহা উপলক্ষে খুলনা মহানগরীজুড়ে তিন ধাপে নিরাপত্তা ছক তৈরি করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। গরুর হাট, ঈদের জামাত ও ঈদের পর ফাঁকা খুলনার জনগণের জানমাল রক্ষায় নেওয়া হয়েছে এ পদক্ষেপ।

পবিত্র ঈদুল আযহায় আইএসের বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে কড়া সতর্কতা হিসেবে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে গোটা শহর।

করোনার এই দুর্যোগ মুহূর্তে ঈদুল আযহাকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে এবারের ঈদের নামাজ ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে মসজিদে গিয়ে আদায় করতে হবে।

ঈদ ও এর পরে ছুটির দিনগুলোতে পুলিশ নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পুলিশের ঈদের ছুটিও সীমিত করা হয়েছে।

কেএমপি সূত্র জানায়, নাশকতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঈদের দিন মহানগরীর ৮ থানা এলাকায় তিন সহস্রাধিক সদস্য নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। এরমধ্যে পোশাকধারী পুলিশ ছাড়াও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা (ডিবি) ও বিশেষ শাখা (সিটিএসবি) পুলিশের সমন্বয়ে টিম মাঠে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করবে। মাঠে থাকবে র‌্যাবের টইল দলও।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, বিশেষ করে টাউন জামে মসজিদ ও বাইতুন নূর কমপ্লেক্স জামে মসজিদসহ বড় বড় মসজিদগুলো ঘিরে থাকবে পুলিশের ফোর্স। ঈদের পরে দিনে ও রাতে পুলিশের টহল টিম মহানগরী এলাকায় নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।

এ বিষয়ে  খুলনা  মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) কানাই লাল সরকার বলেন, ঈদ উৎসবকে সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ঈদের ছুটিতে মহানগরী অনেকটা ফাঁকা হয়ে যায়। এসময় বাসাবাড়ি ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় চুরির পরিমাণ বেড়ে যায়। এছাড়া রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকায় ছিনতাইকারীরা এ সময় তৎপর হয়ে ওঠে। এ জন্য ঈদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত মার্কেট কেন্দ্রিক বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ঈদের দিন ঈদগাহ কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। ঈদের পরে বাসাবাড়ি, শপিং মল ও জুয়েলারি দোকানগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যেই র‌্যাব-পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিট, মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। ঈদের আগে, ঈদ ও ঈদ পরবর্তী সময়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কাজ করবে।

তিনি জানান, শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপনের জন্য পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব) ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োজিত করা হয়েছে। মহানগরীর বিভিন্ন সড়কে পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে এবং সন্দেহজনক মনে হলে চেকপোস্টে তল্লাশি চলবে। ঈদের জামাতে নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের জায়নামাজ ও টুপি ছাড়া কোনো প্রকারের ব্যাগ বহন করতে নিষেধ করা হয়েছে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: নিরাপত্তা সতর্কতা!!!