কোরবানির ঈদ: মশলার বাজারে তারতম্য

sonalinews-big-20180810164235.jpg

ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র দুইদিন। আর এ সময়টাতে রাজধানীর মশলার পাইকারি ও খুচরা বাজারে চলছে দামের ব্যাপক তারতম্য। কয়েকটি মসলা জাতীয় পণ্যের দাম কেজিতে রাখা হচ্ছে ১০ টাকা করে বেশি। যদিও দাম বাড়ার বিষয়ে এই দুই স্তরের ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে মতবিরোধ, দুষছেন পরস্পরকে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার শ্যামবাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ টাকা, ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৯ থেকে ২১ টাকা, দেশি রসুন আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা আর চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে। এছাড়া এ বাজারে প্রতি কেজি আকারভেদে চায়না আদা বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা, কেরালা (যেটা দেশি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে) বিক্রি হচ্ছে আকারভেদে ১০০ থেকে ১০৫ টাকার মধ্যে।

তবে খুচরা বাজারে এসব পণ্যের দাম বেশ বাড়তি। এর ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে ক্রেতারা। রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউনহল, কৃষি মার্কেট, উত্তরা ৬ নম্বর কাঁচা বাজার, মহাখালিসহ বেশ কয়েকটি বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। দেশি রসুন আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। আর চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে। প্রতি কেজি চায়না আদা বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, আদা (কেরালা) বিক্রি হচ্ছে আকারভেদে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়।

উত্তরা ৬ নম্বর কাঁচা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মাকসুদুর রহমান বলেন, প্রতিটি উৎসবের সময়েই মসলার দাম বাড়ায় দোকানিরা। এ বাজারে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, যেমন খুশি দাম রাখা হয়।

এ বিষয়ে শ্যামবাজার ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, পাইকারিতে দাম তেমন বাড়েনি। সব ধরনের মসলা পর্যাপ্ত রয়েছে। দাম বৃদ্ধির জন্য খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের দায়ী করেন এই নেতা। তবে ঈদ উপলক্ষে বাজারে কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী বিনিয়োগ করেছে, তারাও এ দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ী।

তবে এবার গরম মসলার দাম বাড়েনি। চীনা দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকা কেজি, এলাচ প্রতি কেজি দুই হাজার ৮০০ থেকে চার হাজার টাকা। এক কেজি ভারতীয় জিরা বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায়, প্রতি কেজি আফগান জিরা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়, লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। সাদা গোলমরিচ ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকায়। কালো গোলমরিচ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এছাড়া জৈত্রী বিক্রি হচ্ছে ৩৬০০ টাকা কেজি, জায়ফল এক হাজার টাকা, পোস্তদানা এক হাজার ৪০০ টাকা, মেতি ১২০ টাকা, সরিষা ৮০ টাকা, কালোজিরা ৩০০ টাকা, আস্ত ধনিয়া ১২০ টাকা, কাজু বাদাম এক হাজার টাকা, পেস্তা বাদাম এক হাজার ৯০০ টাকা, কাঠ বাদাম ৮০০ টাকা, আলু বোখারা ৪০০ টাকা ও কিসমিস ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: নিরাপত্তা সতর্কতা!!!