খুলনায় হত্যা মামলা নিয়ে বাদীর বিভ্রান্তিকর বক্তব্য

WhatsApp-Image-2021-07-28-at-2.34.40-PM.jpg

খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন মামলার বাদি নিহত ইয়াসিন শেখের মা হাফিজা বেগম। ছবি: প্রবর্তন।

নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনার দিঘলিয়ায় ইয়াসিন শেখ হত্যা (৪০) মামলা নিয়ে বাদীর বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (২৮ জুলাই) দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন মামলার বাদী নিহত ইয়াসিন শেখের মা হাফিজা বেগম। সেখানে তিনি বলেন, এ হত্যা মামলায় তার দাখিল করা এজহারের ১৬ জনের নাম কেটে দিয়েছে পুলিশ। অথচ এজাহারে দেখা যায়, তার স্বাক্ষর করা এজহারেই মামলা রেকর্ড করেছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘গত ২৫ জুলাই রাতে আমার ছেলে ইয়াসিন শেখকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।  ২৭ জুলাই আমি ও আমার পরিবারের কয়েকজন সদস্য একটি লিখিত এজাহার নিয়ে মামলা করার জন্য দিঘলিয়া থানায় উপস্থিত হই। আমার ছেলে ইয়াসিনকে যারা হত্যা করেছে, ইন্দন যুগিয়েছে ও ষড়যন্ত্র করছে তাদের নাম উল্লেখ করা একটি এজাহার থানায় জমা দেই।  এরপর পুলিশ একটি কাগজ এনে বলেন সেখানে স্বাক্ষর করেন। আমি সরল মনে স্বাক্ষর করে চলে আসি। বাড়িতে এসে রাতে শুনতে পাই, আমি যে অভিযােগটি দাখিল করছি, পুলিশ সেই অভিযােগ পাল্টে ফেলে তাদের লেখা এজাহারে আমার স্বাক্ষর নিয়ে মামলা রেকর্ড করেছে।’

আরও পড়ুন: খুলনায় ইয়াসিন শেখকে হত্যা : ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

তিনি বলেন, ‘আমি থানায় যে অভিযােগ পত্র দিয়েছিলাম সেখানে ৩১জনকে আসামী করেছিলাম ও স্বাক্ষীদের নাম উল্লেখ ছিল। কিন্তু পুলিশ যে অভিযােগ পত্র রেকর্ড করেছে তাতে ১৫ জনকে আসামী করেছে এবং মামলার স্বাক্ষীর নাম পরিবর্তন করে দিয়েছে।’

তবে দিঘলিয়া থানা পুলিশ বলছে, ২৭ জুলাই সন্ধ্যায় নিহতের মা হাফিজা বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। যার মামলা নং ৯, তারিখ: ২৭/০৭/২১। মামলায় ১ নং আসামী করা হয়েছে, সেনহাটি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়া গাজীকে। এছাড়া আরও ১৪ জনের নাম উল্লেখপূর্বক ৬/৭ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে।

স্থানীয় একটি সূত্র বলছে, আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইয়াসিন শেখ হত্যা নিয়ে একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চলছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মামলার এজহারে নিরাপরাধ ব্যক্তিদের নাম আওতাভুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে ইন্ধন দিচ্ছেন এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি।

এ প্রসঙ্গে খুলনা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেন, ‘বাদীর অভিযোগ একেবারেই সঠিক নয়। তিনি স্বাক্ষর করে এজহার দাখিল করেছেন। তারপর পুলিশ মামলা রেকর্ড করেছে। থানায় বাদী কোন সাদা কাগজে স্বাক্ষর করেনি। ‘

আরও পড়ুন: খুলনায় নৌকার সমর্থককে কুপিয়ে হত্যা

উল্লেখ্য, গত ২৫ জুলাই রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ইয়াসিন শেখকে সেনহাটি ইউনিয়নস্থ চন্দনীমহল গ্রামে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে  দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত ইয়াসিন শেখ দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নের  উত্তর চন্দনীমহল (মোল্লা পাড়া) গ্রামের নিজাম শেখের ছেলে। তিনি স্থানীয় পথের বাজার নামক একটি বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন। এছাড়া আসন্ন নির্বাচনে সেনহাটি ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ফারহানা নাজনিন হালিমার সমর্থক হিসেবে কাজ করছিলেন। নিহত ইয়াসিন শেখের পরিবারের দাবী, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top