কোরবানির পশুর দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় খুলনার খামারিরা

rsz_fattening_cattle_pic__1-20190713131612-1.jpg

আওয়াল শেখ : আসছে পবিত্র ঈদুল আজহা। দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা আতঙ্কে গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খুলনার প্রান্তিক খামারিরা।

দেশের বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে প্রান্তিক গো-খামারিরা তাদের গরুর ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। খামারি মালিকরা বলছেন, গরু লালন পালনে খরচের তুলনায় প্রতি গরুতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হবে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই খামার বন্ধ করতে বাধ্য হবেন অনেকেই।

একাধিক খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোনবানির ঈদকে কেন্দ্র করে খুলনা শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেশীয় পদ্ধতিতে গরু লালন-পালন করছেন। গরু লালন-পালন স্থানীয়দের বিরাট চাহিদা পূরণ করছেন। দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনা সময়ে প্রান্তিক গরুর খামারিরা গরুর সঠিক দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

একদিকে গো-খাদ্যের দাম দৃদ্ধি ও অপরদিকে গরুর দাম কম হওয়ায় দিন দিন তাদের দুশ্চিন্তা যেন বাড়ছে।

ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া গ্রামের আলাউদ্দীন মিয়া জানান, ঈদকে টার্গেট করে ২৭টি গরু নিয়ে একটি খামার গড়েছেন। খামারে থাকা এক একটি গরু প্রায় এক বছর আগে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় কেনা। এসব গরুর বাড়তি লাভের আশায় প্রতিপালন করলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে যে দাম হচ্ছে তাতে মনে হয় ১০-১৫ হাজার টাকা প্রতি গরুতে লোকসান গুনতে হবে। তবে তিনি আশাবাদী গরুর দাম বৃদ্ধি পাবে।

খামার মালিক মো.আওছাফুর রহমান  জানান, বর্তমানে তার খামারে ছোট বড় মিলে ৩৫ টি গরু আছে। গরুগুলোকে কোরবানির ঈদে বিক্রি করার জন্য গত  ৬ মাস ধরে তিনি লালন পালন করছেন। বাজারে গরুর যে দাম তাতে চিন্তা অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

কয়ছার উদ্দীন বলেন, গরু পালন একটি লাভ জনক ব্যবসা। তাই তিনি গত ৮ বছর ধরে খামার করে গরু বিক্রি করছেন। তার খামারে ২৫ টি গরু রয়েছে। একদিকে গো-খাদ্যের চড়া দাম তার ওপর করোনায় মন্দাবাজার হওয়ায় উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তিনি জানান।

খুলনা জেলা প্রানিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় মোট ৬ হাজার ৮৯০ জন গবাদি পুশুর খামারী রয়েছেন। সব থেকে বেশি খামার আছে তেরখাদা, ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা উপজেলায়। এসব খামারে মোট গবাদি পশু আছে ৪৫ হাজার ১৪৮ টি। এর মধ্যে ৪০ হাজার ৯৬৮টি গরু ও ৪ হাজার ১৮০ টি ছাগল ও ভেড়া।

খুলনা জেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা এস এম আউয়াল হক বলেন, খুলনার খামারে থাকা বেশিরভাগ পশু বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে খামারিরা অনেকটাই যেন বিপদে পড়েছেন। আমরা তাদের মনোবল শক্ত রাখতে অনেক চেষ্টা করছি। অন্যান্য বছর খুলনায় কোরবানির পশুর মোট চাহিদার ৯৯ শতাংশ স্থানীয় খামারীরা পূরন করতো। এবছরও তারা ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করার জন্য গরু, ছাগল পালন করেছিল। তবে করোনার প্রকোপ যে ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তা মনে হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ কম কোরবানি দিবে। এতে খামারীদের পশুও কম বিক্রি হবে। অন্যন্য বছরে প্রতিটি গরুতে একজন খামারী ২৫ থেক ৫০ হাজার টাকা লাভ করতেন। এবার লাভের অংশটা অনেক কমে যাবে। অনেকের লোকশানও হতে পারে। তবে আমরা খুলনার খামারিদের কথা চিন্তা করে অনলাইনে গরু বিক্রি করা যায় কিনা সেই চেষ্টা করছি।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt
error: নিরাপত্তা সতর্কতা!!!