বহুতল ভবনের কাজে স্কুলভবনে ফাটল, কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল

foridpur2-20220623202045.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : ফরিদপুরে ঐতিহ্যবাহী আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশ ঘেঁষে বহুতল ভবন নির্মাণকালে ভেঙে পড়েছে ওই বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর। এ ছাড়া ফাটল দেখা দিয়েছে ওই বিদ্যালয়ের দুটি ভবনের চারতলা ও দুইতলায়। এর প্রেক্ষাপটে বিদ্যালয়ের পাশ ঘেঁষে নির্মাণাধীন ১০ তলা ওই ভবনটির নক্সা বাতিল করেছে ফরিদপুর পৌরসভা। একই সঙ্গে ওই কাজটি যে প্রতিষ্ঠান করছে তার ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) বিকেলে ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র অমিতাভ বোস স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

‘নির্মাণাধীন ভবনের কারণে পার্শবর্তী স্কুলের ভবনে ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় নক্সার অনুমোদন বাতিল প্রসঙ্গে’ শিরোনামে দেওয়া ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, উল্লেখিত বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে জানানো যাচ্ছে যে, সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা যায় আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে বিশ্বাস বিএস-২৪০৬ নং দাগে আপনার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।

নির্মাণাধীন ভবনটি স্কুলের ভবনের খুব কাছে এবং অনেক গভীর পর্যন্ত মাটি কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করে এবং ডিজাইন প্লান বহির্ভূতভাবে অতি গভীর পর্যন্ত মাটি কেটে ফেলায় মূল ভবনের অনেক জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে, যা ভবন এবং ভবন ব্যবহারকারীদের হুমকির মুখে ফেলেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

ওই নির্দেশনায় আরও বলা হয়, পৌরসভা আইন ২০০৯ বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড, ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২ অনুযায়ী যেকোনো ভবন নির্মাণ করার কারণে পার্শ্ববর্তী ভবনের ক্ষতি সাধন একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সুতরাং স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড এবং ইমারত নির্মাণ আইন-১৯৫২ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করে ডিজাইন ও প্লান বহির্ভূতভাবে অতি গভীর পর্যন্ত মাটি কেটে ফেলার কারণে স্কুলভবনের ক্ষতিসাধন করে ভবন ব্যবহারকারীদের যানমাল হুমকির মুখে ফেলার জন্য নকসার অনুমোদন বাতিল করা হলো এবং একই সঙ্গে বর্ণমালার নামে দেওয়া ট্রেড লাইসেন্সও বাতিল করা হল।
প্রসঙ্গত, ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র ঝিলটুলী মহল্লার ঝিলটুলী মসজিদ বাড়ি সড়ক ও করিম মিয়া সড়কের চৌরাস্তার মোড় এলাকায় ৪০ শতাংশ জমির ওপর ১৯২৭ সালে আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নামে বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। এ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ১০০ ছাত্রী পড়াশোনা করছে।

বর্তমানে এমপিও ও নন এমপিওভুক্তসহ মোট ২১ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। ওই বিদ্যালয়ের দক্ষিণ অংশ ঘেঁষে মাত্র ৮ শতাংশ জায়গার ওপর একটি ১০ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top