‘অলওয়েদার সড়ক’ ভেঙে ফেলার প্রস্তাব এবি পার্টির

al-weather-party-20220622205255.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : কিশোরগঞ্জের হাওরে নির্মিত অলওয়েদার সড়ক এখন এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের দুঃখ-কষ্টের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি সুমানগঞ্জ ও সিলেটের অকাল বন্যায় অনেকেই এই সড়কটিকে দায়ী করছেন। এ অবস্থায় অষ্টগ্রাম থেকে মিঠামইন হয়ে ইটনা পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়ক ভেঙে ফেলার প্রস্তাব জানিয়েছে জামায়াত থেকে বের হয়ে আসা নতুন প্রতিষ্ঠিত দল আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। এছাড়াও বন্যা ব্যবস্থাপনায় ১৪ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে দলটি।

বুধবার (২২ জুন) ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে এবি পার্টি কর্তৃক আয়োজিত “বন্যা ও জলাবদ্ধতার দায় সরকারের” শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব উপস্থাপন করেন দলটির আহ্বায়ক ও প্রাক্তন সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরী।

প্রস্তাবনায় বলা হয়, কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলাকে সংযুক্তকারী দীর্ঘ সড়কটি ভেঙে আধুনিক মানের জল-যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে ঢলের পানি হাওর থেকে দ্রুত নদীতে নামতে পারে।

এসময় এএফএম সোলায়মান বলেন, আপনারা বিদেশিদের দেখাবেন বস্তায় বস্তায় খাদ্য ফেলেছেন। কিন্তু কয়জন খাদ্য পেয়েছেন? হেলিকপ্টার থেকে খাদ্য দেওয়া এ দেশের মানুষের সঙ্গে বেশ অবজ্ঞা, অবহেলা। এর জবাবদিহি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শতাধিক নৌকা রয়েছে। যেগুলোকে ট্রলার বা স্পিডবোট বলা যায় না। লম্বায় এগুলো ১০ মিটার প্রস্থে ৬ মিটার। ৩ টন মালামালসহ ১৫ জন যাত্রী নিয়ে এই নৌযান চলাচল করতে পারে। আমার প্রশ্ন হলো এসব গেলো কোথায়? কোনো কাজে লাগে না?। যতটুকু জানি, বিভিন্ন সময় এ নৌযানগুলো নিজেদের উৎসবের জন্য ব্যবহার করে নষ্ট করে দিয়েছে, আমরা এর জবাব চাই।

বন্যা ব্যবস্থাপনায় ১৪ দফা প্রস্তাব হলো-
১. উপকূলীয় এলাকার বাঁধগুলোর উচ্চতা বৃদ্ধি ও মানসম্পন্ন করে তৈরি করা বর্তমানে অত্যাবশ্যকীয়, আম্পানের সময় প্রায় ১০-১৫ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস এসেছে। তাই এ পরিমাপ মাথায় রেখে বাঁধগুলোকে কমপক্ষে ১৮-২০ উচ্চতা বিশিষ্ট করে নির্মাণ করা উচিত।

২. নদী ব্যবস্থাপনা, নদীরক্ষা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও দুর্গতদের পুনর্বাসনসহ সার্বিক বন্যা উত্তর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বাধুনিক উন্নত প্রযুক্তি, ধারণা ও উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা নিয়ে ব্যবহারিক- অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা করা জরুরি। দরকার স্থায়ী ও কার্যকর টাস্কফোর্স/ কমিশন।

৩. বনায়ন এবং পুনর্বনায়নের সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ ও তার যথাযথ সংরক্ষণ করা, যাতে পরিশোষণ প্রক্রিয়া বৃদ্ধির মাধ্যমে বন্যা পানির উচ্চতা হ্রাস ঘটতে পারে।

৪. ভূমি ব্যবহার পরিবর্তন ও বিল্ডিং কোডের যথাযথ প্রয়োগ, শস্য উৎপাদন বহুমুখীকরণ তথা বন্যা প্রতিরোধী বা বন্যা সহিষ্ণু শস্য চিহ্নিতকরণ ও রোপণ করা এবং শস্য রোপণ মৌসুমের অভিযান করতে হবে।

৫. প্লাবন ভূমিসমূহকে বিভিন্ন জোনে বিভক্ত করা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ভূমি ব্যবহার জোন তৈরি করা। নদীর সঙ্গে সংযুক্ত সব খাল, নালাকে অবৈধ দখল ও বর্জ্যমুক্ত করা।

৬. জরুরি তহবিল গঠনে সরকার, ব্যবসায়ী সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট বেসরকারি খাত ও এনজিওদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

৭. বন্যার পূর্বাভাস ও আগাম সর্তকমূলক ব্যবস্থা আরও দ্রুত, আধুনিক ও শক্তিশালী করতে হবে। সঠিকভাবে আবহাওয়া পূর্বাভাস পেতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের মডেল বিশ্লেষণ করে আমাদের উপযোগী ও কার্যকর সতর্কীকরণ মডেল প্রস্তুত করতে হবে।

৮. আশ্রয়ণ বা গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের মতো উদ্যোগের আওতায় বাঁধের ওপর অবৈধভাবে বসবাসরত মানুষদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে যেন কৃষিভূমির পাশাপাশি প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয়।

৯. সশস্ত্র বাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে বন্যা প্রবণ অঞ্চলগুলোতে দিন দশ লাখ স্বেচ্ছাসেবীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া যাতে যে কোনো দুর্যোগে জরুরি সেবায় নিয়োজিত বেসামরিক সংস্থা ও বাহিনীর পাশাপাশি তারা বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে।

১০. কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলাকে সংযুক্তকারী দীর্ঘ সড়কটি ভেঙে আধুনিক মানের জল-যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে ঢলের পানি হাওর থেকে দ্রুত নদীতে নামতে পারে।

১১. চীন ও ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীর পানির হিস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও সমতার ভিত্তিতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে হবে অবিলম্বে, প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ফোরামে যেতে হবে।

১২. বর্ষার অতিরিক্ত সুপেয় পানি, বৃহৎ জলাধার করে সংরক্ষণ করতে হবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতে শুল্ক ও শীত মৌসুমে ব্যবহার করা যায়।

১৩. সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিগত ৫০ বছরে ঘটে যাওয়া দেশে বন্যার সংখ্যা। সময় ও কাল, অঞ্চল ভেদে এর প্রকৃতি ও ধরন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাপ নিয়ে ব্যাপক আকারে সমীক্ষা ও গবেষণা প্রকাশ করতে হবে। এই বছরের মধ্যে যাতে আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে যথাযথ পরিকল্পনা হাতে নিতে পারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

১৪. দিন শেষে একটি বাঁধ রক্ষার দায়িত্ব বা বন্যা থেকে বাঁচা কেবল রাষ্ট্রের একার হাতে ছেড়ে দিলে হবে না, ওই এলাকার মানুষেরও একটি আলাদা দায়বদ্ধতা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন নদী বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ইনামুল হক, গণ ফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ, এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্তুজা ও মানবাধিকার কর্মী রুবী আমাতুল্লাহ সহ বিশিষ্ট নাগরিকরা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার, যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক বিএম নাজমূল হক, বাংলাদেশ জাতীয় লীগের নির্বাহী সভাপতি ড. শাহরিয়ার ইফতেখার ফুয়াদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. শাহ আরমান, এনডিপি মহাসচিব মন্জুর হোসেন ঈসা, এবি যুব পার্টির সমন্বয়ক এবিএম খালিদ হাসান, কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এফসিএ, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন, সহকারী সদস্য সচিব নাসরীন সুলতানা মিলি, এনডিএম এর সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন হীরা, এবি ছাত্র উইংয়ের সমন্বয়ক মোহাম্মদ প্রিন্স প্রমুখ।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top