আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কাল

অর্জন অনেক আছে ষড়যন্ত্র ও চ্যালেঞ্জ

image-564928-1655850652.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামীকাল বৃহস্পতিবার। সব আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া দলটির অর্জন পাহাড়সম। টানা তৃতীয়বারসহ চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ।

দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা টানা সাড়ে ১৩ বছর ধরে দেশের প্রধানমন্ত্রী। তার যোগ্য নেতৃত্ব দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিচ্ছে। অর্জনের এই ধারাবাহিকতায় এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর একদিন পরেই যুক্ত হচ্ছে নতুন মাইলফলক।

বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা সেতু উদ্বোধন হচ্ছে। তবে অমসৃণ দীর্ঘ এই চলার পথে আওয়ামী লীগের সামনে এসেছে নানা বাধা-বিপত্তি, দুর্যোগ-দুর্বিপাক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা থেকে শুরু করে, সামরিক জান্তাদের রোষানল, নিষেধাজ্ঞা, হামলা-মামলাসহ কণ্টকাকীর্ণ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, র‌্যালিসহ ব্যতিক্রমী আরও কিছু আয়োজন থাকবে। রাজধানীকে বর্ণিল সাজে সাজাবে আওয়ামী লীগ। বিভিন্ন স্থানে দলের ঐতিহ্য তুলে ধরে সাজসজ্জা করা হবে। প্রতিষ্ঠার স্মৃতিবিজড়িত রোজ গার্ডেন হয়ে নবাবপুর, নবাবপুর থেকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও রাজধানীজুড়ে ঐতিহ্যের আলোয় সজ্জিত করে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করবে দলটি।

তবে এবার দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সব কর্মসূচিতে থাকবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী উৎসবের আমেজ। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকেও তৃণমূলে পাঠানো নির্দেশনাতেও এমনটাই বলা হয়েছে বলে জানা গেছে। একাধিক জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা জানান, এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোচনা সভা এবং জেলা-উপজেলা কার্যালয়কে সাজানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সভায় আগামী ২৫ জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরেও নানা কর্মসূচি পালন করতে বলা হয়েছে ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন সামনের দিনগুলোতেও নানা চ্যালেঞ্জ ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে আওয়ামী লীগকে। তাদের মতে, অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা ক্ষমতাসীন দলটির অন্যতম চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত দেশ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়েও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া দল আওয়ামী লীগকেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আরও পড়ুন : অক্ষত পণ্য রপ্তানি নিয়ে অনিশ্চয়তা

এ ছাড়া করোনার ধাক্কা না কাটতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বন্যা। এগুলো মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে আওয়ামী লীগকেই। পাশাপাশি দলকে তৃণমূল পর্যন্ত আরও সুসংগঠিত করে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে তাদের। সবার আস্থা অর্জন করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দায়ও আওয়ামী লীগেরই বেশি। তবে নেতারা বলছেন, যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করে তারা এগিয়ে যাবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল বাঙালির তথা বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণ। আমরা চাই সেই লক্ষ্যে দলটি এগিয়ে যাক। কিন্তু ইতিহাস থেকে দেখা গেছে এই দলের বাইরে তো তাদের শত্রু আছেই, এমনকি ভেতরেও অনেক শত্রু ঘাপটি মেরে আছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তার প্রমাণ। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কাজ করেছে খন্দকার মোশতাক, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর; তারাই বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল।

তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, আজ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ যারা আছেন, তাদেরকেও সেই ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকতে হবে। চলার পথে এই অগ্রযাত্রায় কোনো চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র যেন আওয়ামী লীগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে। কারণ আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানে বাংলাদেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। কাজেই দেশ, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, বঙ্গবন্ধুর চেতনা কোনোভাবেই যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আওয়ামী লীগ আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া দল।

তাই তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আছে। আমাদের স্বাধীনতার যে ঘোষণা আছে, আমাদের সংবিধানের যে অঙ্গীকার আছে, যেমন মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্য, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, এগুলো আমাদের দেশের ‘ফাউন্ডিং প্রিন্সিপাল’। দুর্ভাগ্যজনকভাবে জাতি হিসেবে আমরা এগুলো থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছি। আমাদের প্রত্যাশা, স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দল হিসাবে আওয়ামী লীগ এগুলো প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা নেবে। আমি এটাও মনে করি এগুলো প্রতিষ্ঠার নেতৃত্ব আওয়ামী লীগের একার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। এজন্য আমাদের দরকার সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আওয়ামী লীগ বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। আর রাজনৈতিক দলকে সব সময় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই চলতে হয়। দলটি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের নেতাকর্মীরা একটার পর একটা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ পঁচাত্তর-পরবর্তী পর্যায় থেকে আজকের অবস্থানে তার নিজস্ব মহিমার প্রমাণ রেখেই টিকে আছে। আগামী দিনেও এই ধারাবাহিকতা থাকবে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ ও ধর্মনিরপেক্ষ চেতনায় অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, শান্তি ও জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ব। করোনা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসসহ যে চ্যালেঞ্জই আসুক আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আমরা সাংগঠনিক, রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে জনগণের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব। আগামী দিনেও সব সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাংগঠনিকভাবেও আওয়ামী লীগের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে অতীতের তুলনায় তৃণমূল আওয়ামী লীগ বেশ নাজুক অবস্থায় আছে। এমপি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ দ্বন্দ্ব অব্যাহত। ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে ঠাঁই দেওয়া হচ্ছে অনুপ্রবেশকারীদের।

এভাবে বিশেষ ব্যক্তির বলয় তৈরি করাসহ নানাবিধ কারণে তৃণমূল প্রধান দলটির অবস্থা অতীতের চেয়ে কিছুটা দুর্বল বলে তারা মনে করেন। এ ছাড়া ক্ষমতায় থাকার পরও দলের প্রভাবশালীদের দ্বারা অনেক নেতা হামলা ও মামলার শিকার হচ্ছেন। আবার অনেকে অভিমান দলের কার্যক্রম থেকে স্থবির থাকছেন। সামনেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আওয়ামী লীগ প্রস্তুতিও শুরু করেছে। তাই এই সংকট দূর করে তৃণমূলকে সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তারা।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top