বিএম কনটেইনার ডিপো

অক্ষত পণ্য রপ্তানি নিয়ে অনিশ্চয়তা

image-564946-1655873076.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে অক্ষত থেকে যাওয়া পণ্য রপ্তানি নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা আগুন থেকে বেঁচে যাওয়া পণ্যগুলো দ্রুত রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। এরপরও কোনো পক্ষই এখনও এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে তাদের অভিযোগ।

এদিকে সীতাকুণ্ডের ঘটনা তদন্তে গঠিত সরকারের উচ্চপর্যায়ের কমিটি বর্ধিত সময়েও তদন্ত শেষ করতে পারেনি। দ্বিতীয় দফায় নেওয়া পাঁচ কর্মদিবস রোববার শেষ হলেও তদন্ত শেষ করা যায়নি। তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ডিপোটিতে ১৫৮টি প্রতিষ্ঠানের পোশাক ছিল। এর মধ্যে কি পরিমাণ নষ্ট হয়েছে, আর কতটুকু রপ্তানি উপযোগী রয়েছে, তার সঠিক হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি। তবে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ পণ্য আগুন থেকে রেহাই পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট মেনুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন নেতারা (বিজিএমইএ) সোমবার চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার এম ফখরুল আলমের সঙ্গে বৈঠকে যেসব পণ্য চালান ভালো আছে সেগুলো দ্রুত শিপমেন্টের দাবি জানান। এর আগেও একই দাবি জানিয়েছিল বিজিএমইএ।বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোটস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) তথ্য অনুযায়ী, ডিপোটিতে ৪ হাজার ৩০০ কনটেইনার ছিল। এর মধ্যে ৮০০টি ছিল রপ্তানি পণ্য বোঝাই, আর ৪০০টি আমদানি পণ্যের। খালি কনটেইনার ছিল ৩ হাজার। পণ্য ও অবকাঠামোগত মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিকডা।রপ্তানিকারকরা জানান, ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়ায় অক্ষত কনটেইনারগুলো বের করা যাচ্ছে না। যদি এগুলো দ্রুত রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে ক্ষতি কিছুটা হলেও কমে আসবে। পণ্য দীর্ঘদিন ডিপোতে পড়ে থাকলে ক্রেতা গ্রহণ নাও করতে পারেন। সেক্ষেত্রে আরও ভারী হবে লোকসানের পাল্লা।

বিজিএমইএ প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএম ডিপোতে অক্ষত পোশাকের চালানগুলো রপ্তানির ব্যবস্থা করতে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কাস্টমস, ডিপো কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু এতে কোনো অগ্রগতি হয়নি। রপ্তানি চালানগুলো ডিপোতেই পড়ে আছে। আমরা দৌড়াদৌড়ি করতে করতে জান দিয়ে ফেলছি। ওদিকে আনুষ্ঠানিকতাই শেষ হচ্ছে না। কি পরিমাণ কনটেইনর অক্ষত আছে সেই হিসাবও ডিপো কর্তৃপক্ষ বা অন্য কেউ দিতে পারেনি। আমরা ধারণা করছি, বেশিরভাগ পণ্য পুড়ে গেলেও কিছু পণ্য আগুন থেকে বেঁচে গেছে। এসব চালানের শিপমেন্ট মিস হয়েছে। তারপরও যত দ্রুত সম্ভব পাঠাতে পারলে দুর্ঘটনার কথা বিবেচনা করে হয়তো বায়াররা গ্রহণ করবেন। বেশি দেরি হয়ে গেলে সেই সুযোগ আর থাকবে না। অর্থাৎ আগুন থেকে বেঁচে যাওয়া পণ্য শেষ পর্যন্ত আর কোনো কাজে আসবে না। সেগুলোও চলে যাবে লোকসানের খাতায়।’

আরও পড়ুন : বাবার সম্মাননা প্রাপ্তিতে উচ্ছ্বসিত চিত্রনায়িকা মিম

সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ডিপোর অক্ষত পণ্য রপ্তানিতে অনেক জটিলতা আছে। বিশেষ করে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো কনটেইনার ডিপো থেকে বের না করার নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া বিমার বিষয় জড়িত থাকায় বিদেশি বায়ার এবং দেশি বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোও ডিপো পরিদর্শন করতে চায়। ডিপোটির মালিক পক্ষও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত হিসাব তৈরি করছে। এ অবস্থায় অক্ষত পণ্য রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

রপ্তানির বিষয়টি এখন কাস্টম কর্তৃপক্ষ ও তদন্ত কমিটিগুলোর হাতে বলে জানিয়েছে বিকডা। সংগঠনটির সচিব রুহুল আমিন শিকদার বলেন, ‘বিএম ডিপোর ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। সেখানে কি পরিমাণ অক্ষত পণ্য আছে, তা আমরা এ মুহূর্তে বলতে পারছি না। ডিপো কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তারাও কোনো ডাটা দিতে পারেনি। অক্ষত পণ্য রপ্তানির বিষয়টি কাস্টমসের আওতাধীন বিষয়। যে তদন্ত কমিটিগুলো কাজ করছে, তাদের বিবেচনার বিষয়। ডিপো কর্তৃপক্ষের এখন অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা কিছু করতে পারছে না।’ তিনি জানান, তদন্ত কমিটি অক্ষত কনটেইনারগুলো পরিদর্শন করবে কিনা, আবার এ ধরনের কোনো কনটেইনারের ভেতরে থাকা পণ্যের ক্ষতি হয়েছে কিনা-তা ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়। এর সঙ্গে অনেক স্টেকহোল্ডার জড়িত। শুধু বিকডা বা ডিপো কর্তৃপক্ষের বিষয় নয়। আমরা কনটেইনার মজুত রাখি। কিন্তু শিপমেন্টের সিদ্ধান্ত রপ্তানিকারকের। কাস্টমসের অনুমতি ছাড়া কনটেইনার একচুলও নাড়ানো যাবে না।

বর্ধিত সময়েও শেষ হয়নি তদন্ত : সরকারের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির সদস্যরা গতকাল বিএম ডিপোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি ঘটনাটি নাশকতা বলে আবারও দাবি করেছেন। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব নাশকতার ঘটনা ঘটছে বিএম ডিপোর ঘটনার সঙ্গেও এর যোগসূত্র থাকতে পারে। তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, সোমবার তারা বিএম ডিপো কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিয়েছেন। নির্দিষ্ট কর্মদিবসে তদন্ত শেষ করতে না পারায় তারা নতুন সময় নেবেন।

এদিকে হতাহতদের পরিবারকে আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। ৬৯ পরিবারের জন্য ডিপো কর্তৃপক্ষের দেওয়া ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকার চেক হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান। সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এই চেক বিতরণ করা হয়। যাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন না তাদের ঘরে চেক পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। চেক বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটির সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, বিএম ডিপোর পক্ষে স্মার্ট গ্রুপের জিএম মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কবীর আহমদ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক আবদুল্লাহ আল সাকিব প্রমুখ। দুর্ঘটনায় নিহত ফায়ার সার্ভিসের ১৫ কর্মীর প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ও নিখোঁজ তিনজনের পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে দেওয়া। এছাড়া গুরুতর আহত ৯ জনের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ও আহতদের পরিবারকে ২-৬ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top