শতাধিক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ইরানে

download-3-14.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসের উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের বৈঠকে আলোচনার সময় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক উপপ্রধান নাদা আল-নাশিফ ইরানের বিষয়ে গুতেরেসের ওই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছেন। প্রতিবেদনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ইরানের নিন্দা জানানো হয়।

নাদা আল-নাশিফ বলেছেন, ২০২০ সালে ইরানে ২৬০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও গত বছর সেই সংখ্যা ছিল ৩১০; যাদের মধ্যে ১৪ জন নারীও ছিলেন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত কমপক্ষে ১০৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তাদের অনেকেই দেশটির সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য। গুতেরেসের ওই প্রতিবেদনে মাদক সংক্রান্ত অপরাধসহ হালকা অপরাধের জন্যও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

নাশিফ বলেছেন, মার্চে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫২ জনকে ফাঁসি কার্যকরের জন্য শিরাজ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কিশোর অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড অব্যাহত রাখায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

গত বছরের আগষ্ট থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত কথিত অপরাধের দায়ে দু’জন কিশোরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে ইরানে। এছাড়া দেশটিতে এখনও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তালিকায় আছে আরও ৮৫ জনের বেশি কিশোর অপরাধী।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক উপপ্রধান নাদা আল-নাশিফ বলেছেন, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সেই সময় ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষায় থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন শিশু অপরাধীর দণ্ড প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয় সুপ্রিম কোর্ট।

ইরানে চলতি বছরের এপ্রিল এবং মে মাসে শিক্ষক, আইনজীবী, শ্রমিক অধিকারকর্মী, শিল্পী এবং শিক্ষাবিদসহ অন্তত ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই সময় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। যাদের অনেকের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে, জেনেভায় ইরানের স্থায়ী উপ-প্রতিনিধি মেহেদি আলি এবাদি জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ইরানকে কলঙ্কিত করার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর চাপের মুখে বাধ্য হয়ে বিদ্বেষপরায়ণ ম্যান্ডেটের ওপর প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে জাতিসংঘ। তিনি জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনকে পক্ষপাতমূলক বলে অভিহিত করেছেন।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top