মঙ্গলে মানুষ প্রেরণের মাধ্যমে উপনিবেশ গড়তে চান এলন মাস্ক!

Screenshot_2019-06-22-মঙ্গলে-মানুষ-প্রেরণের-মাধ্যমে-উপনিবেশ-গড়তে-চান-এলন-মাস্ক-.png

মঙ্গলে মানুষ প্রেরণের মাধ্যমে উপনিবেশ গড়তে চান এলন মাস্ক!

ডেস্ক রিপোর্ট, Prabartan | প্রকাশিতঃ ১৯:৪৭, ২২-০৬-১৯

বেশ কয়েক বছর যাবত প্রযুক্তি শিল্পে একের পর এক বিপ্লব ঘটিয়ে চলছেন এলন মাস্ক। প্রযুক্তি ব্যবসায় সাফল্যের তুঙ্গে পৌঁছালেও এলন কখনো পৃথিবী ও এর পরিবেশকে আরও উন্নত করার সদিচ্ছায় ক্ষান্ত দেননি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর এলন মাস্কের সামনে সুযোগ ছিল একজন সফল ভিডিও গেম ডেভেলপার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার। তবে তিনি এমন সব সময় এমন কিছু করতে চাইতেন যার মাধ্যমে পৃথিবী ও এর মানুষদের সাহায্য করা যায়। তাই ভিডিও গেম নির্মাণের পথে এগোননি তিনি। চলুন জেনে নেয়া যাক প্রযুক্তি বিশ্বের জীবন্ত এই কিংবদন্তির অবিস্মরণীয় কিছু অবদান সম্পর্কে!

১। টেসলা 
শুরু থেকেই অনবায়নযোগ্য জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের প্রতি এলন মাস্কের ছিল চরম বিতৃষ্ণা। তাই ২০০৩ সালে তিনি তার নিজস্ব ইলেক্ট্রিক গাড়ি তৈরির কোম্পানি গড়ে তোলেন। পৃথিবীর মানুষের জ্বালানি শক্তি ব্যবহারের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে শুরু থেকেই সোচ্চার ছিলেন এলন। তাই তিনি ইলেক্ট্রিক গাড়ি নির্মাণের পথে হাঁটেন, যা সাধারণ মানুষদের সাধ্যের মধ্যে থেকে তাদের জীবনে গতি আনতে সক্ষম।

শুরুতে এলন যে গাড়ি তৈরি করেন, তার সর্বনিম্ন মূল্যই ছিল ৮০ হাজার ডলার। ধনীরা এ গাড়ি অতি সহজেই কিনতে পারলেও অনেকের পক্ষেই এত চড়া দামে গাড়ি কেনা সম্ভব ছিল না। কিন্তু এলন জানতেন, যত বেশি মানুষ ইলেক্ট্রিক গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন, ততই তা পৃথিবীর জন্য মঙ্গলময় হবে। তাই তিনি তার কোম্পানির উৎপাদিত গাড়ির দাম কমিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালাতে থাকেন। বর্তমানে টেসলা কোম্পানির সবচেয়ে কম দামি গাড়ি হলো টেসলা মডেল ৩, যার দাম ৩১ হাজার ডলার। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারও তাই এখন টেসলা গাড়ি কিনতে পারছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই মুহূর্তে চলমান টেসলা গাড়িগুলোর প্রতিটি বছরে প্রায় ৬৫০ পাউন্ড করে প্রাকৃতিক গ্যাস বাঁচায়! তার মানে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ৯০ হাজার টেসলা গাড়ি প্রতি বছর ৩৩ মিলিয়ন পাউন্ড প্রাকৃতিক গ্যাস বাঁচায়, গ্রিনহাউজ প্রভাব কমানোর জন্য টেসলার এই ভূমিকা সত্যিই নজিরবিহীন।

২। গিগাফ্যাক্টরি 

টেকসই এনার্জির পথে এলন মাস্কের আরো একটি উদ্যোগ হলো গিগা ফ্যাক্টরি। এই ফ্যাক্টরিগুলো সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ, সৌর ও বায়ু শক্তির সহায়তায় পরিচালিত। সর্বপ্রথম গিগাফ্যাক্টরিটি নির্মাণ করেন নেভাডার মরুভূমিতে। এইসব গিগাফ্যাক্টরির কাজ হলো টেসলা গাড়িগুলোর জন্য লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি তৈরি করা। গিগাফ্যাক্টরি ব্যবহারের কারণে টেসলা ব্যাটারির খরচ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছে।

গিগাফ্যাক্টরিতে টেসলা ব্যাটারি কম দামে উৎপাদন করতে পারায় টেসলা গাড়ির উৎপাদন খরচও কমে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষদের মধ্যেও টেসলার ব্যবহার বাড়ানো যাচ্ছে। নেভাডার পাশাপাশি এখন নিউ ইয়র্কেও একটি গিগাফ্যাক্টরি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বিশ্বের নানা প্রান্তে গিগাফ্যাক্টরি ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এলন মাস্কের।

৩। স্পেসএক্স 
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন দিন দিন বেড়েই চলছে পৃথিবীজুড়ে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, এক সময় আমাদের এই পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে। সেজন্যই এলন মাস্ক চাইলেন, একটি বিকল্প বাসযোগ্য গ্রহ খুঁজে বের করে সেটিকে মানুষের বসবাসের উপযোগী করে তুলবেন। এতে করে মানুষ হয়ে উঠবে বহু গ্রহবাসী প্রাণী। এমন রোমাঞ্চকর উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই ২০০২ সালে এলন মাস্ক গড়ে তোলেন স্পেসএক্স। বর্তমানে এই কোম্পানির গবেষণার প্রধান উদ্দেশ্য হলো মঙ্গলে সফলভাবে মানুষ প্রেরণ করে সেখানে পৃথিবীর উপনিবেশ গড়ে তোলা। শুরুতে স্পেসএক্সের প্রথম রকেট ফ্যালকন ১ কক্ষপথে উৎক্ষেপণ করতে ৩ বার ব্যর্থ হন এলন মাস্ক। চতুর্থবারে গিয়ে ফ্যালকন ১ উৎক্ষেপণে সফল হয় স্পেসএক্স। আমাদের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ও কিন্তু এই স্পেসএক্সই প্রেরণ করেছে।

ফ্যালকন ১ সফলভাবে উৎক্ষেপণের পর প্রায় দেউলিয়া হতে বসা স্পেসএক্স কোম্পানিটি সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এরপর আর কখনো স্পেসএক্সকে নিয়ে পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি এলন মাস্ককে। পরবর্তীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের মধ্যে কার্গো আনা নেয়ার কাজও শুরু করে স্পেসএক্স। পূর্বে এই কাজের জন্য বিভিন্ন দেশের সরকারের ওপর নির্ভর করতে হতো মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোর। স্পেসএক্স এসে এই কাজে সীমাহীন গতি এনে দিয়েছে।

আজকালকার যুগের প্রযুক্তি দানবদের মতো শুধু ব্যবসাকেই প্রধান উদ্দেশ্য বানিয়ে রাখেননি এলন মাস্ক। বরং স্রোতের বাইরে গিয়ে ব্যবসার মাধ্যমেই পৃথিবীকে এগিয়ে নেয়ার নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি। একারণেই আজ লক্ষ লক্ষ প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ-তরুণীর অনুপ্রেরণায় পরিণত হয়েছেন তিনি।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top