৬ ঘণ্টায় তাজা সামুদ্রিক মাছ পৌঁছাবে রাজধানীতে

barguna-1-20220622191429.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : পদ্মা সেতু উদ্বোধনের অপেক্ষার প্রহর গুনছে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা দক্ষিণের জনপদ বরগুনার মানুষ। পদ্মা সেতু খুলে দেওয়া হলে উপকূলীয় মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যাবে। রাজধানীসহ সারাদেশে কম সময়ে তাজা সব মাছ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ফলে সুফল পাবেন পাইকার থেকে শুরু করে প্রান্তিক জেলে পর্যন্ত। এতে করে বাড়বে রাজস্ব আদায়ও। এমনটাই আশা করছেন বরগুনার মৎস্যজীবী ও সংশ্লিষ্টরা।

দেশে সামুদ্রিক মাছের সব থেকে বড় পাইকারি বাজার বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র (বিএফডিসি)। এ অবতরণ কেন্দ্রের মাছ সড়ক পথে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে। আড়ৎদার-পাইকাররা এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে মাওয়া পার হয়ে ঢাকাসহ দেশের ৪০টি জেলায় ইলিশসহ বিভিন্ন মাছ সরবরাহ করেন।

কিন্তু ফেরিঘাটে যানজটের কারণে যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় নষ্ট হয় মাছ। কমে যায় মাছের দাম। পদ্মা সেতু উদ্বোধন হলে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা। বাড়বে মাছের দাম। ব্যাপক পরিবর্তন আসবে মৎস্য ব্যবসায়। যার সুফল পাবেন পাইকার থেকে শুরু করে প্রান্তিক জেলে পর্যন্ত।

পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আল্লাহর দান মৎস্য আড়তের মালিক ও আড়ৎদার ফরিদ মৃধা বলেন, গত ২৫ বছর ধরে পাথরঘাটার বিএফডিসিতে ব্যবসা করে আসছি। যে টাকা দিয়ে জেলেদের থেকে মাছ কিনি, ঢাকায় মাছ পাঠাতে প্যাকেজিং, বরফ ও পরিবহনে প্রায় সমপরিমাণ টাকা খরচ হয়। পদ্মা সেতু চালু হলে এ সমস্যা আর থাকবে না। একদম ফ্রেশ মাছ পাবে দেশের মানুষ।

হাওলাদার মৎস্য আড়তের মালিক টিপু হাওলাদার বলেন, মাছ নিয়ে যাওয়ার সময় মাওয়া ঘাটে ফেরির সিরিয়াল ধরার জন্য মোটা অংকের টাকা দিতে হয়। এর পুরো প্রভাবটা পড়ে মাছের ওপরে। এ কারণে মাছের দাম বেশি থাকে সারা বছর। এবার স্বপ্নের পদ্মা সেতু খুলে দিলে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাবো। মাত্র ৬ ঘণ্টায় মাছ পৌঁছে যাবে ঢাকায়।

রুস্তম আলী বেপারী নামে এক পাইকার বলেন, এখন মাছ উঠানোর পরে ঢাকা পাঠাতে ২ দিন লেগে যায়। ফলে বরফ দিতে হয়, মাছের গুনগত মান কমে যায়। অনেক সময় মাছ পচে যায়। এর ওপরে ঘাটের চাঁদা তো আছেই। এবার আমাদের এসব সমস্যার সমাধান হতে যাচ্ছে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর আমাদের আর ঘাটের চাঁদার টাকা দিতে হবে না। সারাদেশের পাইকারদের কাছে কম দামে মাছ বিক্রি করতে পারব আমরা।

বাংলাদেশ মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী  বলেন, এখন পাথরঘাটার মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনে মাছ কিনতে আসা বেশিরভাগ পাইকার উত্তরাঞ্চলের। মাওয়া ফেরির কারণে ঢাকার পাইকার ও বড় বড় ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম থেকে মাছ ক্রয় করে। কিন্তু পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগেই ঢাকার বড় মৎস্য ব্যবসায়ীরা আমাদের সঙ্গে মাছ কেনার চুক্তি করতে যোগাযোগ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকা মাছ পাঠাতে ২-৩ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যায়। তবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হলে মাত্র ৬-৭ ঘণ্টার মধ্যেই মাছ পৌঁছে যাবে ঢাকায়। ফলে উপকূলীয় জেলেদের সুদিন আসবে।

ফেরিঘাটে যানজটের কারণে সাগরে মাছ শিকার করে ফিরে আসা অনেক ট্রলার আসে না পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। কিন্তু পদ্মা সেতু উদ্বোধন হলে শিকার করা মাছ বিক্রির জন্য অধিকাংশ ট্রলার আসবে এই অবতরণ কেন্দ্রে। ফলে বাড়বে রাজস্ব আদায়।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) পাথরঘাটার ব্যবস্থাপক লেফটেন্যান্ট মো. লুৎফর রহমান  বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকার কারণে বরগুনার অনেক ট্রলার চট্টগ্রাম/খুলনা অঞ্চলে গিয়ে মাছ বিক্রি করত। কিন্তু পদ্মা সেতু চালু হলে চট্টগ্রাম, বাগেরহাট, পটুয়াখালী ও নোয়াখালীর জেলেরাও মাছ শিকার শেষে পাথরঘাটা অবতরণ কেন্দ্রে এসে মাছ বিক্রি করবে। এতে বিপুল পরিমাণে অর্থ রাজস্ব পাবে সরকার।

প্রসঙ্গত, এ বছর পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন সামুদ্রিক মাছ বিক্রি হয়েছে। যার অর্থেকই ইলিশ। অবতরণ কেন্দ্রে বিক্রি করা মাছের ওপর শতকরা ১.২৫ শতাংশ রাজস্ব আদায় করে সরকার।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top