ঘরে বসেই যেভাবে করবেন অনলাইন জিডি

download-6-4.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে প্রযুক্তির শীর্ষে নিতে ভিশন-২০২১ লক্ষ্য ঘোষণা করেছে সরকার। সে লক্ষ্যে দেশ এগিয়েছে অনেক দূর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ভিশন-২০২১’ এর আলোকে ২০১০ সালেই সারাদেশে প্রতিটি থানায় ইলেকট্রনিক এফআইআর ও জিডি চালুর পরিকল্পনা করেন। আজ সেটির পূর্ণতা পেয়েছে।

ভিশন-২০২১ এর দীর্ঘমেয়াদি ১০টি বিভিন্ন স্ট্র্যাটেজিক লক্ষ্যের মধ্যে অন্যতম লক্ষ্য ছিল ‘২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সকল থানায় ইলেকট্রনিক জিডি ও এফআইআর চালু’ করা। মঙ্গলবার (২১ জুন) বিকেলে সেটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে অনলাইন জিডি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই অনুষ্ঠানে পদ্মা সেতু উত্তর ও দক্ষিণ থানার উদ্বোধন, বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃক দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্মিত ১২০টি গৃহ হস্তান্তর, পুলিশ হাসপাতালসমূহের আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় ১২টি পুলিশ হাসপাতাল, ৬টি নারী ব্যারাকের উদ্বোধন করেন তিনি।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের আধুনিকায়নের যুক্ত হওয়া অনলাইন জিডি কার্যক্রমের সফটওয়্যারটি সিডিএমএস++ সফটওয়্যারের সাথে এপিআইয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত। ২০১১ সালে সিডিএমএস সফটওয়্যার তৈরি করা হয়, যা বর্তমানে বাংলাদেশের সকল থানায় দায়ের করা এফআইআর ও তদন্তসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্যাদির ডিজিটাল রেকর্ড হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে। দেশের যে কোনো থানায় বসেই কোনো সন্দেহভাজন সম্পর্কে বাংলাদেশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে কী ধরনের মামলা রয়েছে তার আপডেট জানা এখন মাঠ পুলিশের কাছে একটি নৈমিত্তিক বিষয়।

অনলাইন জিডির শুরু ২০১৯ সালে

সিডিএমএস++ তথা অনলাইন জিডির বর্তমান সফটওয়্যারটির নির্মাণ শুরু হয় ২০১৯ সালে। ২০২০ সালের জুন থেকে এর পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হয়।। ২০২২ সালের জুনে উদ্বোধন করা হলো।

৬৬২ থানায় অনলাইন জিডির দেখভালে ৬৬০০ পুলিশ

করোনা মহামারির মধ্যেও অনলাইন জিডির কাজ বন্ধ রাখেনি পুলিশ। পুলিশ স্ব-উদ্যোগে ৬৪ জেলায় ৮ মেট্রোপলিটন ও ৬৬২ থানায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবলকে প্রশিক্ষিত করেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবং সরকারের ভিশন-২০২১ এর লক্ষ্য অর্জনে প্রশিক্ষিত জনবলে অনলাইন জিডি চালু করার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

সিডিএমএস++ এ ১৩ ফিচারের অন্যতম অনলাইন জিডি

অনলাইন জিডি সুবিধাসহ ১৩টি ফিচার নিয়ে সিডিএমএস++ বাংলাদেশ পুলিশের নিজস্ব উদ্যোগে সিডিএমএস টেকনিক্যাল কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে নির্মিত একটি অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার। সফটওয়্যারটির মোবাইল অ্যাপস ও ওয়েব সংস্করণ ব্যবহার করে সেবাগ্রহীতা ঘরে বসেই জিডিযোগ্য বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ রেকর্ড করতে পারবেন এবং এ বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী আপডেট জানতে পারবেন।

অন্যদিকে থানায় দায়িত্বরত ডিউটি অফিসার অভিযোগ প্রাপ্তির ব্যবস্থা গ্রহণসহ থানার সকল কার্যক্রম ডিজিটাল জেনারেল ডায়েরিতে এন্ট্রি করবেন এবং পিআরবি প্রবিধি মোতাবেক ২০০ পৃষ্ঠা বিশিষ্ট জেনারেল ডায়েরি বই বাঁধাই করে সংরক্ষণ করবেন। একইসাথে থানার ওসি, সার্কেল বা জোনাল অফিসার পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের সার্বিক তদারকি কার্যক্রম সম্পাদন করতে পারবেন।

অনলাইন জিডি যেভাবে করবেন, যা লাগবে

প্রথমে প্লে স্টোর থেকে ONLINE GD নামে সফটওয়্যার ইন্সটল করতে হবে। এরপর নিজের মোবাইল নম্বর ও মনে রাখার সুবিধা মতো পাসওয়ার্ড দিয়ে এবং অন্যান্য নির্দেশনা অনুসরণ করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর নির্ধারিত ছকের তথ্যসমূহ পূরণ করে অনলাইন জিডির তথ্যাদি এন্ট্রি করতে হবে।

এনআইডির তথ্য দিয়ে অভিযোগ এন্ট্রি করতে হবে

নিবন্ধন অপশনে গেলে মিলবে আরও চারটি অপশন। সেখানে আছে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট ও বিদেশি পাসপোর্ট। তবে আপাতত জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যে নিবন্ধন করা যাচ্ছে।

জাতীয় পরিচয়পত্রের অপশনে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর জন্মতারিখ ও পরিচয়পত্র যাচাই করে ব্যবহারকারীর জেলা থানা ইউনিয়ন গ্রাম ও ঘটনার বিবরণ সংক্রান্ত তথ্য বিবরণী দিতে হবে।

অভিযোগ সম্পন্ন হলেই মিলবে সার্ভিস কোড

অনলাইনে জিডি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ব্যবহারকারী পাবেন সার্ভিস কোড। অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যাপসের মাধ্যমে অনলাইনে কিউ-আর কোড সম্বলিত জিডির কপি সংগ্রহ ও মুদ্রণ করা যাবে। সফটওয়্যার ছাড়াও অনলাইন জিডি করা যাবে GD.POLICE.GOV.BD ওয়েবসাইটে।

>>> সিডিএমএম++ রয়েছে আরও ১৩টি ফিচার

১. অনলাইন জিডি

২. জিডি সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান ও তদারকি কার্যক্রম

৩. হারানো ও প্রাপ্তি সংক্রান্ত ম্যাচিং রেকর্ড উপকারভোগীকে স্বয়ংক্রিয়-অবহিতকরণ

৪. অশনাক্ত লাশ শনাক্তে ফটো-ম্যাচিং সুবিধা

৫. মৃতের শরীরের বিভিন্ন অংশের ৩২টি ছবিসহ ভয়েস-টাইপে স্বয়ংক্রিয় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি

৬. ডিজিটাল মানচিত্রে সন্দেহভাজনদের আবাসন চিহ্নিতকরণ

৭. বিট পুলিশিংসহ টহল দলের গতিবিধি অনলাইন-মানচিত্রে সরাসরি নিরীক্ষণ।

৮. পুলিশের ছুটি ও সিসি ব্যবস্থাপনা

৯. অটো আপডেটিং পুলিশ ফোনবুক

১০. পুলিশের সুষম দায়িত্ব বণ্টন ব্যবস্থা

১১. পুলিশের দক্ষতা-পরিমাপক কর্ম-মূল্যায়ন ব্যবস্থা

১২. পুলিশের জন্য সিমবিহীন বহুমুখী আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থা

১৩. অবস্থান চিহ্নিতকরণ ও লাইভ-ফটো ম্যাচিং সুবিধাসহ পুলিশের ডিজিটাল হাজিরা।

জনপ্রত্যাশা পূরণে অনলাইন জিডি একটি মাইলফলক

অনলাইন জিডি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন বলেন, ভিশন-২০২১ অনুযায়ী টেকসই, অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের জন্য যে কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিনির্ভর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ পুলিশ বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্য নির্ভর পুলিশিংয়ে অনেক সাফল্য অর্জন করেছে এবং এ লক্ষ্যে নিরন্তর প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে। এর অন্যতম হলো অনলাইন জিডি। জনপ্রত্যাশা পূরণে এ পদক্ষেপ একটি মাইলফলক হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

মুজিববর্ষের শ্রেষ্ঠ উপহার অনলাইন জিডি-আইজিপি

আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, পুলিশ বর্তমানে প্রতিরোধমূলক পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক সক্ষমতা অর্জন করেছে। প্রযুক্তির সদ্ব্যবহারের কারণে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা পুলিশের অর্জন করা মুজিববর্ষের শ্রেষ্ঠ উপহার।

তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ অনলাইন জিডি ব্যবহারে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে অনুসন্ধানে গুণগত মান উন্নয়ন ও তদন্তে গতিশীলতা আনতে সক্ষম হবেন। একই সাথে তদারককারী কর্মকর্তাগণ এ সফটওয়্যারের সহায়তায় অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবেন। এতে বিচারপ্রার্থী সাধারণ জনগণ উপকৃত হবে। তাছাড়া সেবা প্রার্থী জনগণ অতি সহজে এ সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।

অনলাইন জিডি দেশরক্ষার মাইলফলক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বাংলাদেশের সর্বসাধারণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের নতুন উপহার অনলাইন জিডি দেশরক্ষায় আত্ম-নিবেদিত পুলিশবাহিনীর জন্য নতুন এক মাইলফলক।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top