কৃষকের স্বাস্থ্য বীমা চালুর দাবিতে মানববন্ধন

untitled-12-20220621204236.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : শ্রেণি ভিত্তিক কৃষকের তালিকা প্রণয়ন এবং স্বাস্থ্য বীমা চালুর দাবিতে মানববন্ধন করেছে প্রত্যাশার বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন।

মঙ্গলবার (২১ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রত্যাশার বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ইমাম হাসান ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় সংগঠনের পক্ষ থেকে ১২ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কৃষকরা বাঁচলে দেশ বাঁচবে। রাষ্ট্রের কৃষি খাতে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতার কারণে কৃষিজমি ও কৃষকরা অবহেলা আর ভোগান্তির মধ্যে আছে। কৃষকরা কী পরিমাণ কষ্ট এবং দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে সেটা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ না করলে বোঝা যাবে না। এক বস্তা বেগুন বিক্রি করে  পায় মাত্র ১০০ টাকা। আর ওই ১০০ টাকায় কৃষকের মাছ, মরিচ, লবণ ক্রয় করা সম্ভব হয় না। কারণ অন্যসব ভোগ্যপণ্যের চড়া দাম।

তারা আরও বলেন, কৃষকরা উৎপাদন বন্ধ করে দিলে দেশের উন্নয়ন ভেস্তে যাবে। ব্যবসায়ী, মহাজন সবাই কৃষকদেরকে শোষণ করছে। অবিলম্বে স্বাস্থ্য বীমার পাশাপাশি কৃষি বীমা চালু করুন।

মানববন্ধনে সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের নিকট ১২ দাবি করা হয়। দাবিগুলো হলো-

১. ছয় মাসের মধ্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করে গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে।

২. সরকারের পক্ষ থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

৩. কৃষি বীমাসহ সর্বস্তরের কৃষকদের জন্য বাধ্যতামূলক বীমা সুবিধার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

৪. কৃষি অধীনে কৃষকদের নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠনগুলোকে নিয়ে স্টকহোল্ডার তৈরি করতে হবে।

৫. নারী কৃষকদের আলাদা তালিকা প্রণয়ন এবং নারী শ্রমিকের শ্রমের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।

৬. ভূমিহীন কৃষকদের জন্য বিনা জামানতে সরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

৭. জাতীয় কৃষি কাউন্সিল গঠন, প্রত্যেকটা ইউনিয়ন পরিষদে আলাদাভাবে কৃষকদের জন্য ভূমি সেবা এবং কৃষক নেতা কার্যালয়ের বরাদ্দ দিতে হবে।

৮. শহরে কৃষদের জন্য আলাদা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

৯. কৃষকদেরকে প্রথম শ্রেণির নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

১০. কৃষিপণ্য আমদানি-রপ্তানিতে শুল্ক মূল্য কমানো এবং ভূমি অফিসে সব প্রকার হয়রানি ও দুর্নীতি বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।

১১. আগাম কৃষি গবেষণা এবং স্বল্পমূল্যে সার, উন্নত বীজ, কীটনাশক এবং শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে মজুরি কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে।

১২. ওয়ার্ড ভিত্তিক খোলা মাঠে কৃষকদের জন্য কৃষক বিশ্রামাগার নির্মাণ করতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য- রাখেন বিএলডিপির চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, বিকল্প ধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী গোলাম সারওয়ার মিলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসনার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, সবুজ আন্দোলন পরিচালনা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান হামদুল্লাহ আল মেহেদী, এনডিপির মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসা, গন আজাদী লীগের মহাসচিব আতাউল্লাহ খান, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা সংস্থার মহাসচিব মো. নুরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সাংস্কৃতিক জোটের প্রধান সমন্বয়কারী আরু নাইচ মুন্না, বাংলাদেশ কর্মসংস্থান আন্দোলনের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, গন সমাজ পার্টির আহ্বায়ক সরদার সামস আলম, প্রত্যাশার বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন নুরুজ্জামান হীরা প্রমুখ।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top