ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তি চাকরি পেলেন গার্লস স্কুলে

Untitled-6-samakal-61800bad7eec9-1.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুর গার্লস হাই স্কুলে ল্যাব এসিসট্যান্ট পদে মো: জাকারিয়া ইসলামকে চাকরীর দেওয়া হয়েছে। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে এক নারীকে ফুঁসলিয়ে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে বিয়ের পর কারামুক্ত হয়ে, তাকে ভিভোর্স দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমন একজন ব্যক্তিকে গার্লস স্কুলে চাকরী দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওই বিদ্যালয়ের ম্যনেজিং কমিটির সদস্য, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. জাহিদুল বলেন, যাকে গার্লস স্কুলে চাকরী দেওয়া হয়েছে, তাকে সবাই লম্পট হিসেবে চেনেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগও রয়েছে।

তিনি বলেন, শাহপুর গার্সল হাই স্কুলের সভাপতি হলেন ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ। লম্পট মো: জাকারিয়া ইসলাম তার নিকটতম ব্যক্তি। তাই প্রভাব খাটিয়ে তাকে চাকরী দেওয়া হয়েছে। এই কাজে সহায়তা করছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ডুমুরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। আমিসহ কয়েকজন ম্যনেজিং কমিটির সদস্য এর বিরোধীতা করেছি।

খুলনা মহানগরীর লবনচরা থানার মোহাম্মদ নগর এলাকার এক নারী অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালে ভূ্য়া কাবিননামায় তাকে বিয়ে করে মো: জাকারিয়া ইসলাম। পরবর্তীতে তিনি অন্তসত্ত্বা হয়ে পড়লে জাকারিয়া তাকে জানিয়ে দেয় ভূ্য়া কাবিননামায় বিয়ে করেছিল। তখন তিনি ডুমুরিয়া থানায় গিয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আদালতে চলমান অবস্থায় তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। তখন আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণ ঘটনাটি প্রমানিত হয়। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হলে সে কারামুক্ত হয়। তবে কারামুক্ত হয়ে কিছু দিন পরে সে ওই নারীকে ভিভোর্স দিয়ে দেয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস আলম বলেন, নিয়োগের ব্যাপারে আমার হাতে কোন ক্ষমতা নেই। বিদ্যালয়ের সভাপতি এজাজ আহমেদ ও অন্যানো ম্যানেজিং কমিটির সদস্য যে সিদ্ধান্ত নেন, আমাকে তা মেনে নিতে হবে। তারা বিদ্যালয়ের নির্বাচিত প্রতিনিধি, সরকার তাদের সেই ক্ষমতা দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ম্যানিজং কমিটির সভাপতি ও ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ বলনে, সকল নিয়ম কানুন মেনেই জাকারিয়া ইসলাম পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। সে তার নিজের যোগ্যতায় চাকরী পেয়েছেন।

ধর্ষণের বিষয়টি মনে করিয়ে দিলে তিনি বলেন, তাকে চাকরী দেওয়ায় আইনগত ভাবে কোন বাধা নেই। এছাড়া তার পূর্বের মামলাটি নিস্পত্তি হয়ে গেছে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top