সহশিক্ষা কার্যক্রম কর্মজীবনেও কাজে আসবে

05-202203161713051-20220621184737.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, সহশিক্ষা কার্যক্রমগুলো শুধু মেধার বিকাশ ঘটায় না ক্রীড়া-সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধে দক্ষ করে তোলে। এসব সহশিক্ষা কার্যক্রম প্রত্যেকের কর্মজীবনে কাজে আসবে।

মঙ্গলবার (২১ জুন) বিকেলে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২২ এর জাতীয় পর্যায়ের পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। করোনায় আক্রান্ত থাকায় মন্ত্রী ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবু বকর ছিদ্দীক। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. কামাল হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নেহাল আহমদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন- জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২২ এর জাতীয় পর্যায়ের পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক অতিরিক্ত সচিব একেএম আফতাব হোসেন প্রামাণিক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যত বেশি ক্রীড়া-সংস্কৃতি, বইপড়া ও সহশিক্ষামূলক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে শিক্ষার্থীদের তত বেশি মাদক-অসামাজিক কাজ থেকে বিরত রাখা যাবে। এ সকল প্রতিযোগিতায় যারা অংশগ্রহণ করে তারা পাঠ্যবইয়ের বাইরেও কিছু না কিছু শিখে আসে, যা কর্মজীবনে কাজে লাগে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, গতানুগতিক শিক্ষার গণ্ডির বাইরে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, দক্ষতা ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা দিতে হবে। শ্রেণিকক্ষের দক্ষতা কর্মজীবনে খুব একটা কাজে আসে না। কর্মজীবনে মূলত কাজে আসে ক্লাসের বাইরের সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের অর্জনগুলো।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, জাতির পিতার ‘অ্যাপ্লাইড স্কিল, অ্যাপ্লাইড নলেজ, বিজ্ঞান মনস্কতা’ দর্শন শিক্ষা কার্যক্রম কারিকুলামে নিয়ে আসা। আমাদের শিক্ষকমণ্ডলীকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে আগামী প্রজন্মকে এসব দক্ষতা অনুযায়ী শিখিয়ে নলেজ ইকোনমিতে প্রস্তুত করা। সেই নলেজ ইকোনমিকতে সবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ৮১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। যা ২০০৬ সালের মোট বাজেটের চেয়েও ২১ হাজার কোটি টাকা বেশি। অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের অধীনেও শিক্ষায় বরাদ্দ বেড়ে চলছে। এই বিনিয়োগকে সুষ্ঠু ব্যবহার করতে হবে। শিক্ষা প্রশাসনের সঙ্গে জড়িত সকল পর্যায়ে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে খরচ করতে হবে। জনগণের এই টাকা যদি শিক্ষা ব্যবস্থায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি আগামীর জন্য এটা বেশি সহায়ক হবে।

কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. কামাল হোসেন বলেন, আলোকিত মানুষ হতে হলে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই, খেলাধুলাসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে হবে। কিন্তু এখনকার বাচ্চারা এসব বাদ দিয়ে মোবাইল-ইন্টারনেট ও ভার্চুয়াল গেমে মাত্রাতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা জাতির জন্য অশুভ ইঙ্গিত। তাই শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত করতে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

জাতীয় পর্যায়ে সেরা প্রতিষ্ঠান
এ বছর স্কুলপর্যায়ের সেরা নির্বাচিত হয়েছে রাজশাহীর সরকারি পি এন (প্রমথনাথ) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। আর কলেজ পর্যায়ে সেরা নির্বাচিত হয়েছে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ। এছাড়া কারিগরি বিভাগে সেরা হয়েছে রংপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

শ্রেষ্ঠ শিক্ষক
২০২২ সালের দেশের শ্রেষ্ঠ স্কুলশিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের তামিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান জাবেদা আক্তার জাহান, শ্রেষ্ঠ কলেজ শিক্ষক হয়েছেন মানিকগঞ্জের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম, শ্রেষ্ঠ মাদরাসা শিক্ষক ডেমরার তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার প্রধান ড. মুহাম্মদ আবু ইউছুফ।

এছাড়া কারিগরি বিভাগে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রধান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন।

শ্রেষ্ঠ শ্রেণিশিক্ষক
চলতি বছর স্কুলপর্যায়ে সেরা শ্রেণিশিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন বরিশালের সরকারি ডব্লিউ বি ইউনিয়ন মডেল ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক মোছা. সেলিনা আক্তার, কলেজপর্যায়ে সাভার সরকারি কলেজের শিক্ষক ড. এ কে এম সাঈদ হাসান, মাদরাসা বিভাগে বরিশালের সাগরদী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা ও কারিগরি বিভাগে দিনাজপুরের পার্বতীপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক পবন কুমার সরকার।

শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী
স্কুল পর্যায়ে ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজপর্যায়ে রাজবাড়ী সরকারি কলেজ, মাদরাসাপর্যায়ে চট্টগ্রামের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া কামিল মাদরাসা ও কারিগরিপর্যায়ে লালমনিরহাটের সরকারি আদিতমারী গিরিজা শংকর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা সেরা নির্বাচিত হয়েছে।

শ্রেষ্ঠ জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা
চলতি বছর শ্রেষ্ঠ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ভুঞা শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা নির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে, গত ৫-৬ জুন কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীতে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে ১৫ ক্যাটাগরিতে সাংস্কৃতিক কারিকুলামসহ মোট ২১৩ জনকে ২০২২ সালের বর্ষসেরা ঘোষণা করা হয়।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top