গাজীপুর-টঙ্গী-ঢাকা রুটে চলছে ৩ জোড়া বিশেষ ট্রেন

083816094935trane_kk.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : গাজীপুরের জয়দেবপুর রেল স্টেশন থেকে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন পর্যন্ত বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চলাচল শুরু হয়েছে আজ। ফলে ৩-৪ ঘণ্টার পরিবর্তে মাত্র এক ঘণ্টাতেই ঢাকা-গাজীপুর আসা-যাওয়া করতে পারছেন যাত্রীরা। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ১২ কিলোমিটার সড়কে অব্যাহত যানজটের কারণে মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ উদ্যোগ নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

রবিবার (২০ জুন) সকাল থেকে ঢাকা-গাজীপুর রুটে চলাচল শুরু করেছে তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন৷এর মধ্যে তুরাগ এক্সপ্রেস ভোর ৫টায় কমলাপুর থেকে ছেড়ে জয়দেবপুর পৌঁছেছে সকাল ৬টায়। সেটিই আবার জয়দেবপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে এসেছে সকাল সোয়া ৭টায়৷ দ্বিতীয়টি টাঙ্গাইল কমিউটার বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থেকে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে জয়দেবপুর পৌঁছেবে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে। যেটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে ৮টা ৩০ মিনিটে।

এরপর কালিয়াকৈর কমিউটার ট্রেন কমলাপুর থেকে ছাড়বে দুপুর পৌনে দুইটায়। সেটি আবার জয়দেবপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছাড়বে বিকেল সাড়ে ৫টায়।অনেকদিন ধরেই ঢাকা-গাজীপুর মহাসড়কের পথে চলাচল করা মানুষের কাছে একটি নিত্য ভোগান্তির নাম। সব সময়েই লেগে থাকে যানজট। এবারের বর্ষা শুরু হতেই, বড় বড় খানাখন্দে বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় সড়কটিতে গাড়ি চলাচল করছে মন্থর গতিতে। এতে সড়কের দুই পাশেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

নতুন এই ট্রেন সার্ভিস চালুর ফলে জনগণের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।এর আগে গত ১৬ জুন বিশেষ ট্রেন চালুর সুখবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে জানান গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। এ বিষয়ে মন্ত্রী ফেসবুকে লিখেন, ‘এই দুর্ভোগের হাত থেকে মানুষদের কিছুটা হলেও রক্ষা করতে আজ (১৬ জুন) রাতে মাননীয় রেলমন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কথা বলে আগামী রবিবার থেকে গাজীপুর থেকে টঙ্গী হয়ে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে টঙ্গী হয়ে গাজীপুর পর্যন্ত বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

মাননীয় রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন মহোদয় এর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। জনগণের দুর্ভোগ লাগবে আমার পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও সকল ধরণের উন্নয়ন প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’এর আগে তিনি আরও লিখেন, ‘গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত রাস্তাটিকে যানজট মুক্ত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিআরটি প্রজেক্ট আমাদেরকে উপহার হিসাবে দিয়েছেন।

কিন্তু ঠিকাদারদের ক্রমাগত দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে অনেক বছর ধরে ধীর গতিতে কাজ করায় মানুষের দুর্ভোগের কোনো সীমা নেই। আবার যখন বর্ষাকাল আসে এই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়।’‘বিআরটি প্রজেক্টে দায়িত্ব পালনরত সচিব, পিডি সহ সকলকে প্রায় প্রতিদিনই কয়েকবার করে ফোন করছি যাতে টঙ্গী গাজীপুরবাসীসহ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী প্রায় ৩৭টি জেলার মানুষদের এই দুর্ভোগের হাত থেকে দ্রুত রক্ষা করা যায়।

সিটি কর্পোরেশন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা প্রশাসনসহ সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছেন। উপরন্তু গাজীপুর যাওয়ার সকল বিকল্প রাস্তাগুলোতে একসাথে কাজ চলমান থাকায়, সেই রাস্তাগুলো বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে না পারায় এই দুর্ভোগ যেন আরও বেড়ে গেছে।’এরপর তিনি আগামী রবিবার থেকে বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালুর ঘোষণা দিয়ে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ লাগবে আমার পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও সব ধরনের উন্নয়ন প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top