খুলনায় টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে ১৫শ’ মৎস্য ঘের

koyra-pic-19-6-21-1.jpg

কয়রা প্রতিনিধি: খুলনায় ৪ দিনের টানা বৃষ্টিপাতে অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খুলনার কয়রা উপজেলার জনজীবন। স্থবির হয়ে পড়েছে সকল কার্যক্রম। এতে করে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। ইয়াসের ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না উঠতে প্রচুর বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে অসংখ্য মৎস্য ঘের, নষ্ট হয়েছে সবজির ফসল। এ যেন এ জনপদের মানুষের মরার উপর খাড়ার ঘা।

ইতিমধ্যে থমকে আছে জনজীবন। টানা বৃষ্টিপাতে ফলে উপজেলা বিভিন্ন অঞ্চলে, বীজ তলা, ফসলের মাঠ, পুকুর, রাস্তা ঘাট ও বাড়ি আঙ্গিনা তলিয়ে গেছে। এতে করে মৎস্য বিভাগে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

গত ২৬ মে ইয়াশের প্রভাবে বেঁড়িবাধ ভেঙে উপজেলার ৪ টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয় পানি বন্ধী হয়ে পড়ে লক্ষাধিক মানুষ। বাঁধ মেরামত করা হলেও পানি সরতে না সরতেই টানা বৃষ্টি পানিতে ফের একাকার খাল, বিল, পুকুর ও রাস্তা ঘাট ও মৎস্য ঘের। টানা বৃষ্টিপাতের কারনে ক্ষতিগ্রস্ত বেঁড়িবাধ নিয়ে বন্যা আতঙ্কে পড়েছেন নদী পাড়ের মানুষেরা। সব চেয়ে দুর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। ঘরের বাহিরে না যেতে পারায় তাদের সংসারে চলছে চরম দুর্ভোগ। শুধু তাই নয় যানবাহনের চালকেরা পড়েছে বিপাকে।

দু’চারটি যানবহন বের করা হলেও বেড়েছে ভাড়ার পরিমান, ফলে দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। ব্যবসায়ীরা ক্রেতার জন্য বসে থাকলেও মিলছে না তেমন ক্রেতা। অলস সময় পার করছেন ইজিবাইক, ভ্যান ও অটো চালকরা। টানা বৃষ্টির ফলে কয়রা সদরের মেইন সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বাজারে আশা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

উপজেলা মানবকল্যান ইউনিটের সভাপতি মোঃ আল আমিন ফরহাদ বলেন, ‘ড্রেনেজের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় কয়রা সদরের সড়ক সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় আর সকলকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তার পরও রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিন ভাঙ্গা চোরা, খানা খন্দ হয়ে পড়ে আছে । এদিকে টানা বৃষ্টিতে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষরা কাজে যেতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে দু’চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।’

কয়রার ভ্যান চালক আঃ হাই বলেন,’বৃষ্টির কারনে রাস্তা ঘাটে মানুষ নেই। একমাত্র ভ্যান চালয়ে তার জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। মানুষ না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন তিনি সহ শত শত ভ্যান চালক। যাদের এক মাত্র আয়ের উৎস ভ্যান চালানো।’

উপজেলা মৎস্য অফিসার এস এম আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন,’কয়রায় কয়েকদিনের টানা বর্ষনে প্রায় ১৫ শ মৎস্য ঘের তলিয়ে গেছে। মৎস্য চাষিদের মাছ টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top