বহুগুণের ধারক বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়

pc-roy.jpg

সাহিত্য ডেস্ক, Prabartan | প্রকাশিতঃ ১৯:৫৮, ১৪-০৬-১৯

বৃটিশ গোয়েন্দা দপ্তরে স্যার পি সি রায়ের নাম লেখা ছিল “বিজ্ঞানী বেশে বিপ্লবী” হিসেবে। ১৯১৯ সালে ১৮ জানুয়ারি রাউলাট আইনের বিরুদ্ধে টাউন হলে চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে এক সভায় স্যার পি সি রায় বলেন, ‘আমি বৈজ্ঞানিক, গবেষণাগারেই আমার কাজ, কিন্তু এমন সময় আসে যখন বৈজ্ঞানিককেও দেশের আহ্বানে সাড়া দিতে হয়। আমি অনিষ্টকর এই আইনের তীব্র প্রতিবাদ করছি। বিভিন্ন সময় তিনি নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন,“আমি বৈজ্ঞানিকের দলে বৈজ্ঞানিক, ব্যবসায়ী সমাজে ব্যবসায়ী, গ্রামীণ সেবকদের সাথে গ্রাম সেবক আর অর্থনীতিবিদদের মহলে অর্থনীতিজ্ঞ”। রসায়ন শাস্ত্রে অসামান্য অবদানের জন্য আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় দুনিয়া জুড়ে পরিচিত হন।

বহুগুণের ধারক বিজ্ঞানী স্যার আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র (পি সি রায়) ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট খুলনা জেলার পাইগাছা উপজেলার রাড়–লী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার হরিশচন্দ্র রায় চৌধুরী ও মাতা ভুবন মোহনী দেবী। প্রফুল্ল চন্দ্র পিতার প্রতিষ্ঠিত স্কুলে বাল্য শিক্ষা লাভ করেন। পি সি রায়ের পিতা মাতা স্থায়ীভাবে কলকাতায় বসবাস শুরু করলে তিনি ১৮৭১ সালে হেয়ার স্কুলে ভর্তি হন এরপর ১৮৭৪ সালে ভর্তি হন এ্যালবার্ড স্কুলে। সেখান থেকে এন্ট্রাস পাশ করেন। ১৮৯১ সালে মেট্রোপলিটন ইনিস্টিটিউট থেকে এফএ পাশ করে বিএ পড়ার জন্য প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। ১৮৮২ সালে গিলক্রাইস্ট বৃত্তিসহ ইংল্যান্ডের এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এরপর ১৮৮৫ সালে বিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৮৮৭ সালে মৌলিক গবেষণামূলক প্রবন্ধে ডিএমসি উপাধি লাভ করেন। একই বছরে এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যামিক্যাল সোসাইটি সহ সভাপতি নির্বাচিত হন। সেখান থেকে সম্মানজনক ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়ে ১৯৮৮ সালে ইউরোপ ঘুরে কোলকাতায় ফিরে আসেন। তিনি ১৮৮৯ সাল থেকে ১৯১৬ সাল পর্যন্ত ২৭ বছর কোলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত ২০ বছর বিজ্ঞান কলেজে পালিত অধ্যাপক হিসবে শিক্ষকতা করেন। ১৯১২ সালে লন্ডন ডারহার্ম বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মান জনক ডক্টরেট উপাধি প্রদান করেন। এর আগে ১৮৯৫ সালে তিনি মার্ককিউরাস নাইট্রাইট আবিষ্কার করেন।

আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ১৮৯২ সালে মাত্র ৮০০ টাকা মূলধন নিয়ে বেঙ্গল ক্যামিক্যাল প্রতিষ্ঠা করেন। কোম্পানিটির নাম কারণ করা হয় দি বেঙ্গল কেমিক্যাল এন্ড ফার্মাসিটিক্যাল। ১৯৩৭ সালে মানিকতলায় স্যার প্রফুল্ল চন্দ্র রিসোর্ট ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৩৪ সালে আচার্য্যদেব খুলনার সোনাডাঙ্গায় বেকার যুবকদের কর্মস্থানের জন্য প্রফুল্ল চন্দ্র কটন মিল লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন। দেশভাগের পর এপিসি কটন মিলের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় খুলনা টেক্সটাইল মিল। ১৯০৮ সালে রাড়–লীতে সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বাগেরহাটের পি সি কলেজ, খুলনা সিমেট্রি রোডে এপিসি শিশু বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন স্থানে অসংখ্যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও অনুদান প্রদান করেন। পিসি রায়ের কর্মকান্ডে লন্ডনের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভারতবর্ষের মহীশুর, বেনারস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ব্রিটিশ সরকার ১৯১২ সালে তাকে সিআইই এবং ১৯২৯ সালে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন। ১৯৪৪ সালের ১৬ জুন ৮২ বছর বয়সে আচার্য্যদেব শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

লেখক, সাংবাদিক মহানন্দ অধিকারী মিন্ট।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: নিরাপত্তা সতর্কতা!!!