ঋণমুক্তির দোয়া

image-561198-1654962472.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : ইসলাম আমাদের জীবনের সকল সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছে, এবং এর উপযুক্ত সমাধানও দিয়েছে। আমাদের উচিত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশিত পন্থা অনুসরণ করা।

পৃথিবীতে যত ধরনের বোঝা হতে পারে, তন্মধ্যে ঋণের বোঝা সবচেয়ে ভারী। অতিমাত্রায় ঋণগ্রস্ত হওয়ার কারণে মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। কখনো কখনো এই অস্থিরতা হতাশায় রূপ নেয়। আর ঋণ পরিশোধে অপারগতায় সৃষ্ট এই তীব্র হতাশা অনেক ক্ষেত্রে মানুষকে আত্মহত্যার মতো জঘন্য কাজের দিকে ঠেলে দেয়।

সময়মতো পরিশোধ করা না গেলে, ঋণের বোঝা আরও ভারী হতে থাকে। ইসলামে সাধ্যের বাইরে ঋণ দেওয়া-নেওয়া দুটিই নিষেধ। তবে ঋণগ্রস্তের ঋণ মাফ করে দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য আখিরাতে অনেক বড় পুরস্কার রয়েছে বলে হাদিসে এসেছে।

ঋণমুক্তির জন্য হাদিসে বিভিন্ন দোয়া বর্ণিত হয়েছে।  এ দোয়াগুলো অত্যন্ত কার্যকর। সময়মতো ঋণ পরিশোধের সর্বাত্মক চেষ্টা করার পাশাপাশি দোয়াগুলো ভালো করে মুখস্থ করে নিয়ে নিয়মিত আমল করতে পারলে আল্লাহ চান তো ঋণমুক্ত হওয়া সম্ভব।

১. সুযোগ পেলেই বেশি বেশি এ দোয়া পড়তে হবে। ফরজ নামাজের পর পড়ব। আজানের পর পড়ব। দুই খুতবার মাঝে পড়ব। জুমার দিন আসরের পর পড়ব। নফল সুন্নতের সিজদা ও শেষ বৈঠকে পড়ব                                                                                                                                                                                                                                                                                                          اللَّهُمَّ فَارِجَ الْهَمِّ، كَاشِفَ الْغَمِّ، مُجِيبَ دَعْوَةِ الْمُضْطَرِّينَ، رَحْمَانَ
الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَرَحِيمَهُمَا، أَنْتَ رَحْمَانِي فَارْحَمْنِي رَحْمَةً تُغْنِينِي بِهَا عَنْ رَحْمَةِ مَنْ سِوَاكَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ফা-রিজাল হাম্মি। কা-শিফাল গম্মি। মুজীবা দা’ওয়াতিল মুদতাররীন। রাহমা-নাদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরাতি ওয়া রহীমাহুমা। আনতা রহমানী, ফারহামনী রহমাতান্‌ তুগনীনী বিহা আন রহমাতি মান সিওয়াক।

অনুবাদ: হে আল্লাহ, আপনি পেরেশানি দুর করার মালিক,  দুশ্চিন্তা লাঘবকারী, দুর্দশাগ্রস্ত, দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া সকল নিরুপায় মানুষের দোয়া ও আহবানে সাড়া দানকারী, দুনিয়া এবং আখিরাতে আপনি রহমান, উভয় জগতে আপনি রাহিম, আপনি আমাকে দয়া করে দিন। আমাকে এমন অনুগ্রহ দ্বারা দয়া করুন যা আপনার রহমত ছাড়া অন্য সবার অনুগ্রহ থেকে আমাকে সম্পুর্ণ অমুখাপেক্ষী করে দিবে। (তাবরানী, কিতাবুদ দুআ- ১০৪১। মুসতাদরাকে হাকেম ১৮৯৮)

আরও পড়ুন : ইউক্রেনের আরও ৩ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে রাশিয়া

২. পাশাপাশি এই দোয়াটিও পড়ব। সকাল-সন্ধ্যার আমলের সাথে এই দোয়াটিও পড়া অভ্যাসে পরিণত করতে পারি।
اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلاَلِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكِ عَمَّنْ سِوَاكَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাকফিনী বি হা’লালিকা আ’ন হা’রামিকা ওয়া আগনিনী বিফাদলিকা আ’ম্মান সিওয়াক।

অনুবাদ: হে আল্লাহ! হারামের পরিবর্তে আপনার হালাল রুজি আমার জন্য যথেষ্ট করে দিন। আর আপনাকে ছাড়া আমাকে কারো মুখাপেক্ষী করবেন না । স্বীয় অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে স্বচ্ছলতা দান করুন। (তিরমিযি ৩৫৬৩)।

৩. হাদিসে বর্ণিত ঋণমুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হলো-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘উযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিনাল-‘আজযি ওয়াল-কাসালি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিনাল-বুখলি ওয়াল-জুবনি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন দ্বালা‘য়িদ্দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজা-ল।

বাংলা অর্থ: ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুঃশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষদের দমন-পীড়ন থেকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ২৮৯৩)

পরিপূর্ণ আত্মবিশ্বাস আর একিনের সঙ্গে পড়ব। ইনশাআল্লাহ ঋণ যত বেশিই হোক, রাব্বে কারীম একটা ব্যবস্থা করেই দেবেন। রাব্বে কারীম ঋণমুক্ত জীবন দান করুন। আমীন।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top