চিতলমারীতে আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুর পরিবারগুলোর করুণ পরিণতি

CHITALMARI-NEWS-22.05.2020-2.jpg

উত্তম চৌধুরী (৩৫)। স্ত্রী সুচিত্রা চৌধুরী। বড় মেয়ে পিউ চৌধুরী (৫)। মেঝ মেয়ে পাখি (৪) ও ছোট মেয়ে প্রিয়া (২)। পাঁচ সদস্যর পরিবার নিয়ে বাস করেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার আরুলিয়া গ্রামের ওয়াপদা বেড়িবাধের পাশে। পেশায় দিনমজুর। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ভেঙ্গে গেছে তার বসত ঘরটি। উড়ে গেছে রান্না ঘর। পাশের রিংবেড়ি বাধটি ভেঙ্গে প্লাবিত উঠান। দু’দিন ধরে তাদের জীবনে নেমে এসেছে করুণ পরিণতি।

দিনমজুর ঠাকুর সরকার (৫০)। স্ত্রী শিউলী সরকার। বড় মেয়ে বনলতা সরকার খুলনার বিএল কলেজে অর্থনীতিতে অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্রী। ছোট মেয়ে বৃষ্টি সরকার এসএসসি ফল প্রত্যাশী। চার সদস্যর পরিবার নিয়ে বাস করেন আরুলিয়া গ্রামে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ঘর দু’টি কোন মতে দাঁড়িয়ে থাকলেও মেঝেতে পানি থৈ থৈ। রান্নাবান্না বন্ধ। বন্ধ প্রায় খাওয়া-দাওয়া। মেয়ে দুটি ও স্ত্রীকে নিয়ে তিনি পড়েছেন মহাবিপাকে।

কৃষক পরিমল রায় (৫৫)। স্ত্রী রীতা রায়। মেয়ে পূরবী রায় বিএল কলেজে (খুলনা) ইংরেজী অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্রী। ছেলে পল্লব পিসি কলেজে (বাগেরহাট) প্রাণী বিদ্যায় অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র। একমাত্র কৃষি কাজের উপর নির্ভর করে তাদের লেখাপড়া ও জীবন-জীবিকা। কিন্তু সর্বনাশা ঘূণিঝড় আম্পানে বাড়ির পাশের রিং বেড়িবাধ ভেঙ্গে তাদের ঘর, বাড়ি ও চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়েছে। সব কিছু গেছে ভেসে। স্বাভাবিক জীবন-যাপন হয়ে উঠেছে দুর্বিসহ।

শুধু উত্তম চৌধুরী, ঠাকুর সরকার ও পরিমল রায় নয়, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে আরুলিয়া গ্রামের রিংবেড়ি বাধটি ভেঙ্গে কমপক্ষে দেড় শতাধিক পরিবার প্লাবিত হয়েছে। এদের অধিকাংশই দিনমজুর ও দরিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারি পরিবার। ঝড়ে এদের কারোভেঙ্গেছে ঘর, কারো ভেসেছে মাছ আবার কারা ভেসে গেছে উঠানে থাকা সিদ্ধ ধান। সবকিছু মিলে দিনমজুর পরিবার গুলোর জীবনে এখন নেমে এসেছে করুণ পরিণতি।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থ আরুরিয়া গ্রামের মহানন্দ রায়, হরিদাশ চৌধুরী, রণজিৎ রায়, শিব চৌধুরী, সাধন রায় ও লিটন চৌধুরী জানান, রিংবেড়ি বাধটি ভেঙ্গে তাদের মাছ ও ধান ভেসে অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে। বাড়ি ঘর প্লাবিত হওয়ার কারণে তারা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

চিতলমারী সদর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সদস্য পরিতোষ বিশ্বাস জানান, আরুলিয়া গ্রামের রিংবেড়ি বাধটি ভেঙ্গে কমপক্ষে দেড় শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, মৎস্য ঘের ও ধান প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ মানুষেরা পরিবার পরিজন নিয়ে দুর্বিসহ জীবন-যাপন করছে। বিষয়টি তিনি উপর মহলে জানিয়েছেন।

তবে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মারুফুল আলম জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে এ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত সকলের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তাদের জন্য সরকারি বরাদ্দ রয়েছে। অতিসত্বর সেগুলো বিতরণ করা হবে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: নিরাপত্তা সতর্কতা!!!