ঈদের আগে কাঁচাবাজারে আম্ফানের ধাক্কা!

1557_5-2005220927.jpg

ঈদের আগে শেষ শুক্রবার রাজধানীর কাঁচাবাজারে সব ধরনের সবজি ও মাছ-মাংসের দাম বেড়ে গেছে। অধিকাংশ সবজিই কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে। আর ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ২৫-৩০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, করোনার কারণে এমনিতেই সবজির সরবরাহ কম ছিল। এরপর আম্ফানের কারণে দূর থেকে সবজিবাহী কোনো ট্রাক আসতে পারেনি। আড়তে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকও সরবরাহ নেই। এজন্যই দাম কিছুটা বেড়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, একদিনের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ব্রয়লার মুরগি ও গাজরের দাম। মোহাম্মদপুরের টাউনহল কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি গাজর বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকা কেজি। যা একদিন আগেও ছিল ৪০ টাকা কেজি। একইভাবে কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে শশা ও টমেটোর দাম। এই বাজারে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা ও টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা।

সবজি বিক্রেতা সালাম বলেন, ঈদের আগে সালাদ জাতীয় সবজির চাহিদা অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় সরবরাহ নেই। আড়তে গিয়েও শসা, টমেটো, গাজর পাওয়া যাচ্ছে না। চাহিদার চার ভাগের এক ভাগ তিনি পেয়েছেন বলে জানান। পাইকারিতে দামও অনেক বেশি। তাই তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

বাজারে অন্যান্য সবজির সরবরাহে ঘাটতি দেখা না গেলেও, সব কিছুরই দাম বাড়তি। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গতকাল ১৫-২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শসার দাম এক লাফে বেড়ে ৪০-৫০ টাকা হয়েছে। পাকা টমেটোর দাম বেড়ে হয়েছে ৪০-৬০ টাকা। পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা কেজি, যা গতকাল ছিল ২০-৩০ টাকা। করলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫০-৬০ টাকা। বরবটি কেজি ৭০ টাকা ছুঁয়েছে, যা গতকাল ছিল ৪০-৫০ টাকার মধ্যে। ঝিঙার কেজি বেড়ে হয়েছে ৫০-৬০ টাকা, যা গতকাল ছিল ৪০-৫০ টাকা। এছাড়া চিচিংগার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা, যা গতকাল ছিল ৩০-৪০ টাকা। কচুর লতির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা, যা গতকাল ছিল ৪০-৫০ টাকা। তবে বেগুনের কেজি গতকালের মতো ৬০-৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

রায়ের বাজারের সবজি ব্যবসায়ী ইমান আলী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে গত দুই দিন চাষিরা ঠিক মতো সবজি তুলতে পারেনি। আর ঢাকার বাইরে থেকে চাহিদা অনুযায়ী সবজি আসেনি। ফলে বাজারে সবজির সরবরাহ কম। তাই একদিনেই আড়তে সব ধরনের সবজির দাম কজিতে ১০ টাকার ওপরে বেড়েছে। খুচরা বাজারেও তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে একদিনের ব্যবধানে আর এক দফা বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। বাজার ভেদে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৯০ টাকা, যা গতকাল ছিল ১৬০-১৭০ টাকা। বেড়েছে পাকিস্তানি সোনালী মুরগির দামও। প্রতি কেজি সোনালী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৫০-২৬০ টাকা। আর লাল লেয়ার মুরগি ২২০-২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের দাম।

দেলোয়ার হোসেন নামে একজন ক্রেতা বলেন, এমনিতেই ঈদের আগে সব জিনিসের দাম বেড়ে যায়। এটা তো আমাদের দেশের রীতি হয়ে গেছে। আর এবার তো ব্যবসায়ীদের অজুহাতের অভাব নেই। এতোদিন করোনার দোহাই দিয়ে দাম বাড়িয়েছে। আর আজ তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঘূর্ণিঝড়। এই দাম বাড়াকে তিনি কাঁচাবাজারে আম্ফানের আঘাত বলে উল্লেখ করেন।

তবে সবজির দাম বাড়লেও স্থির রয়েছে মাছের দাম। আগের মতোই রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০-৫০০ টাকা। নলা (ছোট রুই) মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৬০-২০০ টাকা কেজি। তেলাপিয়া ১৩০-১৭০ টাকা, পাঙাশ ১৪০-১৮০ টাকা কেজি, শিং ৩০০-৪৫০ টাকা, শোল মাছ ৪০০-৭৫০ টাকা, পাবদা ৪৫০-৬০০ টাকা, বোয়াল ৫০০-৮০০ টাকা, টেংরা ৪৫০-৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে মিনিকেট ও নাজিরশাল চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২-৫৬ টাকা কেজি, মাঝারি মানের পইজাম ও লতা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪২-৪৬ টাকা, গরিবের মোটা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৬-৪০ টাকা। পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা।

খোলা সয়াবিন তেল ৯০-৯৫ টাকা, ভালো মানের পাম অয়েল ৭৫-৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বড় দানার মশুরের ডাল ৮০-৯০ টাকা, ছোট দানার মশুরের ডাল ১২০-১৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুন ৮০-১০০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন ১৩০-১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: নিরাপত্তা সতর্কতা!!!