ভাইরাসে মরছে চিংড়ি, দুশ্চিন্তায় চাষি

Untitled-10-2205090938.jpg

বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটের রামপাল এলাকার চিংড়ি ঘেরগুলোতে মড়ক দেখা দিয়েছে। হোয়াইট স্পট সিনড্রম নামের ভাইরাসের কারণে ঘেরের চিংড়ি মারা যাচ্ছে বলে মনে করছেন রামপাল উপজেলা মৎস কর্মকর্তা।

এদিকে, চলতি মৌসুমের শুরুতেই চিংড়ি মারা যাওয়ায় কোটি কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ঘের মালিক ও চাষিরা। এ অবস্থায় বেশির ভাগ চিংড়ি চাষিরা কিভাবে ক্ষতি পুষিয়ে নিবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

রামপাল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি সূত্র রোববার (৮ মে) জানায়, রামপালে এ মৌসুমে নিবন্ধনকৃত ৬ হাজার ৬৪৪টি ঘেরে চিংড়ি চাষ হয়েছে। এখন বাগদা চিংড়ির ভরা মৌসুম। ঘের থেকে চিংড়ি ধরা শুরু করেছেন চাষিরা। আবার অনেক ঘের মালিক চিংড়ি ধরার প্রস্তুতি নিয়েছেন। এরই মধ্যে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চিংড়ি ঘেরে হঠাৎ করে মড়ক শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন : মাদ্রিদ ওপেনের শিরোপা জিতলেন আলকারাজ

চাষিরা বলছেন, যারা সরকারি-বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে চিংড়ি চাষ করেছেন তারা সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। এখন তাদের ঋণ পরিশাধের কোনো পথ খোলা নেই। এবার রামপাল উপজেলায় চিংড়ি চাষিদের অর্ধশত কোটি টাকার ক্ষতি হবে বলে জানান তারা।

উপজেলার গৌরম্ভা ও বাঁশতলী ইউনিয়নের মুজিবনগর এলাকার কয়েকটি চিংড়ি ঘেরে গিয়ে দেখা যায়, ওই ইউনিয়নের বেশির ভাগ চিংড়ি ঘেরের চিংড়ি মারা গেছে। গৌরম্ভা ইউনিয়নের আদাঘাট গ্রামের চিংড়ি চাষি মো. আবু বকর ফকির বলেন, ‘ব্যাপক হারে চিংড়ি মারা যাচ্ছে। এ কারণে আমরা ঘের থেকে দ্রুত মাছ তুলে ফেলছি। আমাদের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে।’

পার্শ্ববর্তী ভোজপাতিয়া ইউনিয়নের ঘের মালিক নুরুল আমিন বলেন, এই ইউনিয়নের ৯৮ ভাগ ঘেরে মড়ক লেগে চিংড়ি মরে গেছে। এতে চাষিরা সর্বস্ব হারিয়েছে।গৌরম্ভা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাজীব সরদার, হুড়কা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তপন গোলদার জানান, ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ ঘেরের চিংড়ি মরে শেষ। যারা লোন নিয়ে চিংড়ি চাষ করেছে তারা একেবারই নিঃস্ব হয়ে গেছেন।

রামপাল সদর, রাজনগর, বাইনতলা ও পেড়িখালি ইউনিয়নের সব চিংড়ি ঘেরের অবস্থাও একই রকম।গত বছর রামপাল উপজেলায় ৬ হাজার ৭০০ মে. টন চিংড়ি উৎপাদন হলেও এ মৌসুমে উৎপাদন মারাত্মক ভাবে হ্রাস পাবে বলে চাষিরা মনে করেন।

রামপাল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস বলেন, হোয়াইট স্পট সিনড্রম ভাইরাস নামক এক ধরণের রোগে আক্রান্ত হয়ে চিংড়ি মারা যাচ্ছে। গত বছরও এ রোগে কোটি কোটি টাকার চিংড়ি মরে যায়।

তিনি আরো বলেন, ঘের প্রস্ততির আগে ব্লিচিং পাউডারসহ ভাইরাস মুক্তকরণের যে সব পদ্ধতি আছে তা প্রয়োগ না করে গতানুগতিক ভাবে ঘের প্রস্তুত করে চিংড়ি ছাড়ার কারণে পূর্বের ভাইরাস আবার দেখা দিয়েছে। ফলে চিংড়ি মরে যাচ্ছে। তাছাড়া চিংড়ি পোনা ছাড়ার আগে পোনা ভাইরাস মুক্ত কিনা তা পিসিআরে পরীক্ষা না করে ঘেরে ছাড়ার কারণেও এমনটা হতে পারে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top