এক বাগানে ২৫ জাতের আম

55-2204300801.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : বিল্লাল হোসেন দুলাল। থাকেন স্পেন। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের হাইমচরের ২নং আলগী দূর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কমলাপুর গ্রামে। চার বছর ধরে ৫ একর জায়গাজুড়ে ২৫ জাতের আম চাষ করছেন তিনি। তার বাগানের আম স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য জায়গাতেও সরবরাহ হচ্ছে।

উদ্যোক্তা দুলালের বাবা আলী আহমেদ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত। তিনি বলেন, দুলাল মাঝে মাঝে বাড়িতে আসে। তখন সময় কাটাতে শখের বসে তীলে তীলে বিভিন্ন স্থান থেকে ভালো জাতের আমের চারা সংগ্রহ করে বাগান শুরু করেছে। বাগানটির পরিচর্যায় প্রায় ১৫ জন লোক নিয়োজিত রয়েছে। এই পর্যন্ত বাগানে ২৫ জাতের আমের চাষ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কাটি মুন, বারি-১১, আম্রপালি, হাঁড়ি ভাঙ্গা, ব্যানেনা ম্যাংগো, ল্যাংড়া আম এই বাগানে বেশি চাষ হচ্ছে। যা আমরা নিজেরা খাই, প্রতিবেশীদের দেই। পাশাপাশি সরাসরি সাপ্লাই করি এবং অনলাইনেও বিক্রি করে থাকি। তবে এবার বিভিন্ন জাতের আম ঝরে পড়ে যাচ্ছে। তাই এর থেকে পরিত্রাণ পেতে কৃষি বিভাগের সহযোগিতা কামনা করছি।

আরও পড়ুন : ঈদযাত্রার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন এলাকায় যাবেন র‌্যাব ডিজি

বাগানের শ্রমিক সিয়াম হোসেন বলেন, আমি এই বাগানে সার্বক্ষণিক থাকি। বিভিন্ন জায়গায় থেকে লোক দেখতে এসে আম কিনে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর পর টুপুর টুপুর আম গাছ থেকে পড়তে থাকে। তখন আমি নিজেও খাই এবং এগুলো দেখতেও খুব আনন্দ লাগে। হাইমচরের ২নং আলগী দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান পাটওয়ারী বলেন, স্পেন প্রবাসী দুলাল ভাই সুন্দর একটি আম বাগান করেছেন।

এখানে বিভিন্ন ধরনের আম পাওয়া যায় এবং দূরদূরান্ত থেকে আম বাগানটি দেখতে বিভিন্ন লোকজন আসছেন। এই আম বাগানের কারণে আমাদের ইউনিয়নের সুনাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কমলাপুর গ্রামেরও সৌন্দর্য বেড়েছে। আম বাগানের জন্য দুলাল ভাই কোনো সহযোগিতা চাইলে আমার তা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে করবো।

আম ঝরে পড়া প্রসঙ্গে হাইমচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, কমলাপুর গ্রামের আম বাগানটির বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। উদ্যোক্তা দুলাল আমের ভালো প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন এবং ব্যাক্তিগত উদ্যোগে আমের বাগান করায় আমি তাকে শুভকামনা জানাচ্ছি। বাগানের আমের ক্ষেত্রে যদি টেকনিক্যাল কোনো সহায়তা লাগে অবশ্যই তাকে আমরা সহায়তা দেবো।

তিনি আরও বলেন, তার বাগানের আম ঝড়ে পড়ার ঘটনাটি স্বাভাবিক। কেননা প্রচণ্ড গরম অত্যাধিক তাপমাত্রা হওয়ায় আম ঝরে পড়ছে। এক্ষেত্রে তিনি যদি আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন, তাহলে আমরা এটি প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থাপত্র লিখে দেবো। তিনি যদি আমাদের ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করেন, তাহলে আশা করছি অবশ্যই তার বাগানের আমের অনেক উপকার হবে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top