খুলনায় তরমুজে পুশ করা হচ্ছে বিষাক্ত কেমিক্যাল !

maxresdefault-1-1.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাহাঙ্গীর গাজী পেশায় একজন বেসরকারী চাকুরিজীবী। এসেছেন তরমুজের দোকানে। পসরা সাজানো তরমুজের মাঝে পছন্দের ফলটি নিতে দ্বিধাবোধ করছেন। তিনি জানান, ইতোঃপূর্বে তিনি তরমুজ কিনে ঠোকছেন। বেশ বড় আকৃতির তরমুজ ২২০ টাকার বিনিময়ে কিনে বাড়ীতে নিয়ে দেখেন ভেতরে লবনের ঝাঁঝ। খেতেও লবানক্ত। সাথে আছে ঝাঁঝালো গন্ধ। বুঝতে পারলেন তরমুজটিতে ক্যামিক্যাল রয়েছে। তাই এবারও তিনি ক্যামিক্যাল উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কা আছেন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মহানগরীতে আসতে শুরু করেছে মৌসুমি ফল। তরমুজ এসেছে বহু আগেই। মৌসুমি তরমুজে সয়লাব হয়ে গেছে প্রতিটি ফুটপাত, বাজার থেকে শুরু করে ছোট কল বিক্রির দোকানে। শহরে ভ্যানে করে, অলিতে-গলিতেও তরমুজ বিক্রি করছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। তীব্র গরমের কারনে বাজারে তরমুজের কদর খুব। মৌসুমী হওয়ায় এখন দামটা একটু বেশি। তবে মানুষ বেশি দাম দিয়েই সেগুলো কিনছে। আর এই সুযোগ কাজে লাগাছেন কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীরা। অসাধু উপায়ে পাইকারি, খুচরা ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা চুটিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছেন।

ফল ব্যবসায়ীরা জানান, এখন রাসায়নিক পদার্থ মেশানো শুরু হয় ফল গাছে থাকতেই। গাছের উৎপাদনক্ষমতা বাড়াতে প্রথমে দেয়া হয় ‘প্ল্যান্ট গ্রোথ রেগুলেটর হরমোন’। অপরিপক্ব ফল সংরক্ষণ করে রাখা হয় বদ্ধ ঘরে। তারপর চলে দুই পর্যায়ে রাসায়নিক ব্যবহার। এর একটি সোডিয়াম কার্বাইড, অপরটি ফরমালিন। সোডিয়াম কার্বাইড মূলত ব্যবহার করা হয় পাকাতে। আর ফরমালিন মেশানো হয় পচন রোধে। সিরিঞ্জ দিয়ে তরমুজের ভেতরে দেয়া হয় তরল পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট। এর ফলে তরমুজের ভেতর থাকে লাল টকটকে। সাথে দেওয়া হয় কিছুটা খাবার লবন। এতে তরমুজের ভেতরে বেশি পরিপক্ব মনে হয়। এভাবে কৃত্রিম উপায়ে তরমুজের ব্যবসা জমজমাট।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নিয়মিত ভেজাল বিরোধী অভিযান না চলায় নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রিত ফল ও খাবার। বাজারে উঠতে শুরু করা নতুন ফলেও ক্ষতিকর বিভিন্ন দ্রব্যের মিশ্রণ রয়েছে। ঢিমেতালে অভিযানে বন্ধ হচ্ছে না এসব দ্রব্যের সংমিশ্রণ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসায়ীরা দেদারছে চালাচেছ অবৈধ কাজ কারবার।

চিকিৎসা বিজ্ঞান, খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষতিকারক রাসায়নিক মেশানো ফল খাইয়ে ক্রমেই মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। বিষাক্ত ফল খেলে প্রাথমিক পর্যায়ে জন্ডিস, পেট ব্যথা, বমি হওয়া, ডায়রিয়া, বুক জ্বালা-পোড়াসহ শরীরে বিভিন্ন প্রদাহ হতে পারে। পরে লিভারে জটিল রোগ, কিডনি সমস্যা, পাকস্থলী ও অন্ত্রে ক্ষত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অসময়ে বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো ফল খেলে শিশুদের বমি, জন্ডিস, পেটের পীড়া হতে পারে। গর্ভবতী মায়েদেরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। শিশুর ক্যান্সার, বিকলাঙ্গ এবং হাবাগোবা হওয়ার মতো জটিল রোগও হতে পারে। ফরমালিন খাদ্য পরিপাকে বাধা দেয়, পাকস্থলীর ক্ষতি করে, লিভারের এনজাইমগুলোকে নষ্ট করে এবং কিডনির কোষ নেফ্রনগুলোকে ধ্বংস করে। ফলে গ্যাস্ট্রিক-আলসার বাড়ে, লিভার ও কিডনির নানা রকম জটিলতা এবং দুরারোগ্য রোগ দেখা দেয়। মহিলাদের শরীরে ফরমালিন প্রবেশ করলে মাসিক ঋতুস্রাবের সমস্যা দেখা দেয়। গর্ভবতী মায়েদের জন্য ফরমালিন আরো ক্ষতিকর। অন্যান্য সমস্যা ছাড়াও এর কারণে গর্ভস্থ শিশু বিকলাঙ্গ হতে পারে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top