৩ বছরেও চালু হয়নি বেরোবির রেডিওর কার্যক্রম

68-2204250905.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাস রেডিও উদ্বোধনের ৩ বছর পার হয়ে গেলেও চালু হয়নি কোনো কার্যক্রম। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও মুখ থুবড়ে পড়ে আছে অত্যাধুনিক রেডিও স্টুডিওটি। এভাবে দীর্ঘ দিন পড়ে থাকার ফলে নষ্ট হচ্ছে দামি দামি যন্ত্রাংশগুলো। সম্প্রচার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর কিছুদিন দেরি করা হলে সম্পূর্ণভাবে বিকল হয়ে পড়বে এই অত্যাধুনিক রেডিও স্টেশনটি।

জানা যায়, গত উপাচার্যের আমলে রেডিও স্টেশনটি উদ্বোধন হলেও এখনো পর্যন্ত অফিসিয়ালি কারো দায়িত্ব না থাকায় ২০১৯ সাল থেকে কার্যক্রম বন্ধ আছে। ফলে ধুলাবালি আর ময়লায় কার্যক্ষমতা হারিয়েছে কিছু যন্ত্রাংশ। গত বছরের অক্টোবরে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরে একই বছরের নভেম্বর একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। অথচ কমিটি গঠনের প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি কার্যক্রম। এদিকে ক্যাম্পাস রেডিও উদ্বোধনের দীর্ঘ দিন হয়ে গেলেও কোনো কার্যক্রম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন : লেবাননে গোলাবর্ষণ করেছে ইসরাইল

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মাহমুদুল হক বলেন, ক্যাম্পাস রেডিও আগের উপাচার্যের আমলে কোনো পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা ছাড়াই স্থাপন করা হয়েছে। চালু না থাকলে যন্ত্রাংশগুলো নষ্ট হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রায়োগিক দক্ষতা শেখার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ কোনো ল্যাব নেই। এই ক্যাম্পাস রেডিও সাংবাদিকতা বিভাগের অধীনে পরিচালিত হলে শিক্ষার্থীদের সাংবাদিকতার দক্ষতার উন্নয়ন ঘটানো যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে ইতিবাচক ভাবমূর্তিও অর্জন করা যায়।

শিক্ষার্থীরা জানান, বন্ধ থাকা এই রেডিও চালু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

রেডিও’র ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এমআইএস আইটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় সাড়ে ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপিত হয় অত্যাধুনিক এই রেডিও স্টেশনটি। এরপর সম্পূর্ণ সচল অবস্থায় হস্তান্তর করা হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু দীর্ঘদিন সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়া এবং পড়ে থাকার ফলে নষ্ট হয়ে গেছে কনসোল ও সাউন্ড কার্ড নামের দুটি পার্টস। কনসোল মেরামত যোগ্য হলেও নতুন সাউন্ড কার্ড কিনতে হবে। এর জন্য ব্যয় হতে আনুমানিক ৩০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।

ক্যাম্পাস রেডিওর নির্বাহী পরিচালক বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নিতাই কুমার ঘোষ জানান, দায়িত্ব পাওয়ার পরে রেডিও চালু করার জন্য গিয়ে দেখি রেডিও সচল নেই। দুই দফায় ইঞ্জিনিয়ারের সাথে কথা বলেছি। যন্ত্রাংশ মেরামত করে অতিদ্রুত রেডিও চালু করা হবে।

ক্যাম্পাস রেডিও’র গুরুত্ব সম্পর্কে বাংলাদেশ এনজিও’স নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাম বজলুর রহমান বলেন, ক্যাম্পাস রেডিও শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয় বরং শিক্ষক-কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার গ্রামীণ কমিউনিটির সাথে যোগসূত্র স্থাপনের মাধ্যমে ৫ ধরনের স্কিল ডেভেলপমেন্ট এ সহায়তা করবে। আধুনিক এই যুগে মিডিয়ায় কথা বলাসহ মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের কলাকৌশল এখান থেকে সবাই আয়ত্ত করবে। সেইসঙ্গে বন্ধ থাকা এই ক্যাম্পাস রেডিও দ্রুত চালু করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আহবান জানান তিনি।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top