ভ্রমণপিপাসুদের নজর কাড়ছে মাগুরার সিরিজদিয়া ইকোপার্ক

magura1-20220420154829.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট :সুবিশাল একটি জলাশয়। আর সেই জলাশয়কে ঘিরেই গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন পার্ক। পার্কটির নাম দেওয়া হয়েছে সিরিজদিয়া ইকোপার্ক। মাগুরার সদর উপজেলার চাউলিয়া ইউনিয়নের সিরিজদিয়া গ্রামে এই পার্কটির অবস্থান। এ জন্য সিরিজদিয়া ইকোপার্ক হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে।

শুধু স্থানীয়দের কাছেই নয়, ইকোপার্কটি এখন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কাছেও আকর্ষণীয় অবকাশ যাপনের জায়গা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।১১৫ একর জমির ওপর নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় জলাশয় সিরিজদিয়া বাওরে নির্মানাধীন ইকো পার্ককে ঘিরে এখন নতুন স্বপ্ন দেখছে মাগুরাবাসী। বলা বাহুল্য, জেলার বিনোদন স্পটগুলোর মধ্যে এই সিরিজদিয়া ইকোপার্কটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন।

আরও পড়ুন : ২৮ জনের করোনা শনাক্ত, মৃত্যু ১

মাগুরা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শহর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে সরকারি শতাধিক একর জলাশয়কে ঘিরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এ বিনোদন কেন্দ্রটিকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয়ভাবে তৈরি করার কাজ চলমান। সদর উপজেলার চাউলিয়া ইউনিয়নের সিরিজদিয়া গ্রামে সরকরি ১৫ একর জমি ও ১০০ একর জলাশয়সহ মোট ১১৫ একর জমির ওপর ইকোপার্ক নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পার্কটিকে দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে বাঁওড়ের পাশ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ, রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ, বিদ্যুত ব্যবস্থা, কটেজ নির্মাণ, বিনোদনের জন্য বাঁওড়ে নৌ-চলাচলের ব্যবস্থা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পর্যটকদের জন্য বাওড়ে অসংখ্য রঙিন বোট রাখা হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য ভ্রমণ পিপাসু মানুষ আসেন এখানে।

তবে এখন পবিত্র রমজানের কারণে দূর থেকে লোকজন কম আসছে। ঈদের দিন বা তার পরে এখানে অসংখ্য মানুষের ভীড় জমে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।পার্কে বেড়াতে আসা মাগুরা শহরের কলেজপাড়া এলাকার কলেজ শিক্ষক রিপন সাহা বলেন, অনেক দিন আগে থেকে আমরা এ রকম একটা বিনোদন কেন্দ্রই চেয়েছিলাম। এটি একটি প্রকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত জলাশয়।

এই দৃষ্টিনন্দন ইকোপার্কটিতে ঘুরতে এসে মন জুড়িয়ে গেছে।মাগুরা আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাব্বির হোসেন বলেন, অনেক আগে থেকেই আমরা এখানে ঘুরতে আসি। সামনের ঈদে বাড়ির লোকজনকে নিয়ে এখানে সবাই মিলে বেড়াতে আসব।সিরিজদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফিরোজ এলাহী বলেন, এতদিন শুধু এই বাঁওড়ে মাছ চাষ করা হতো।

এখন এখানে ইকোপার্ক তৈরি হচ্ছে। এই পার্কটিকে ঘিরে আমরা নতুন স্বপ্ন দেখছি। এটি সম্পন্ন হলে এলাকার জীবন-জীবিকা পাল্টে যাবে।মাগুরার কৃষি ও প্রকৃতি বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা পল্লী প্রকৃতির নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমান বলেন, সিরিজদিয়া বাঁওড় মাগুরার একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। এখন পর্যন্ত পার্ক নির্মাণের জন্য যে কাজগুলো করা হচ্ছে তা ইতিবাচক।

মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়াছিন কবীর বলেন, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ এবং সর্বোপরি এমপির টিআর ফান্ড থেকে বিভিন্ন সময়ে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে সিরিজদিয়া ইকোপার্কটিকে একটি অত্যাধুনিক, আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন টুরিস্ট স্পট হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে।

এখন যে কেউ এখানে সময়-সুযোগ করে পিকনিকের জন্য আসতে পারেন। পর্যটকরা যাতে এখানে এসে রাত্রি যাপন করতে পারেন তার জন্য কটেজ নির্মাণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমানে বাড়ি থেকে যেকোনো ভ্রমণপিপাসু মানুষ এসে এখানে চা-নাস্তা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাঁওড়টি আমরা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছি। তবে বিশ্রাম নেওয়ার কক্ষ ব্যবহার করতে হলে তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট ফিস দিয়ে সেগুলো ব্যবহার করতে হবে। আপাতত এসব সুযোগ-সুবিধার জন্য ৫ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। মাগুরার জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম বলেন, মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সাইফুজ্জামান শিখরের প্রত্যক্ষ উদ্যোগে অবহেলিত এই বাঁওড়টিকে সত্যিকারের একটি ইকোপার্কে পরিণত করার জন্য আমরা নানা প্রকল্প হাতে নিয়েছি।

আরও পড়ুন : বাবা আকুতি করলেও তাসপিয়াকে গুলি করেন রিমন

সদর উপজেলার চাউলিয়া ইউনিয়নের সিরিজদিয়া বাঁওড় এলাকার ইকোপার্ক ও রিসোর্ট সারাদেশের মানুষের কাছে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সুখ্যাতি পাবে। আর পুরো কাজ সম্পন্ন হলে এটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র হবে বলে বিশ্বাস করি।

মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সাইফুজ্জামান শিখর বলেন, অদূর ভবিষ্যতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন টুরিস্ট স্পট হবে মাগুরার সিরিজদিয়া ইকোপার্কটি। আশা করি দূর-দূরান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ এখানে এসে অবকাশ যাপন করতে পারবেন।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top