রমজানে রোজা অবস্থায় দাঁত ও মুখের যত্ন

image-541063-1649824890.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : রমজানে রোজা অবস্থায়  দাঁত ও মুখের যত্ন এবং চিকিৎসার ব্যাপারে আমরা প্রায়ই দ্বিধান্বিত হয়ে থাকি। ক্লিনিকে আসা রোগীরা অনেকেই এ বিষয়ে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। আমরা রোজা অবস্থায় দাঁতের যত্ন ও চিকিৎসার ব্যাপারে যতটা সন্দিহান থাকি, আসলে ব্যাপারটা সেরকম জটিল কিছু নয়।

রমজান মাসেও আমরা দাঁত ও মাড়ির যথাযথ যত্ন নিতে পারি তবে কিছু নিয়ম মেনে যেন রোজা মাকরুহ না হয় বা ভেঙে না যায়। এমনকি প্রয়োজনে দাঁতের চিকিৎসাও নেওয়া যেতে পারে।  বিশেষ করে ডায়েবেটিক ও কার্ডিয়াক রোগীদের সারা বছর তো বটেই রোজার মাসে দাঁতের ব্যাপারে বিশেষভাবে যত্নবান হতে হবে।

আরও পড়ুন : শাহবাজকে শুভেচ্ছা জানিয়ে যা বললেন পুতিন

মুখগহ্বর হল দেহের প্রবেশপথ যার মধ্যে প্রায় ৭০০ প্রজাতির জীবাণু বসবাস করে। তাই এর যথাযথ যত্ন না নেওয়া হলে এসব জীবানুর দ্বারা দাঁত, মাড়ি ও মুখের ভেতরের অন্যান্য অংশে ইনফেকশনসহ নানা রকম জটিলতা দেখা দিতে পারে । মুখের অভ্যন্তরের  ন্যাচারাল ক্লিনজার হল স্যালাইভা বা লালা।

রোজার মাসে যেহেতু একটা দীর্ঘ সময় পানি ও খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকা হয় সেজন্য লালা নিসৃত হয় কম। যার কারণে ‘ড্রাই মাউথ’ বা মুখ গহবর তুলনামূলক ভাবে শুষ্ক থাকে এবং ন্যাচারাল ক্লিনজিং কমে যায়। তাই রোজার মাসে এ ব্যাপারে যত্নবান না হলে দাঁতের ক্ষয়রোগসহ মাড়ির ইনফেকশন ও ক্যান্ডিডিয়াসিস হওয়ার আশংকা থাকে ।

রমজান মাসেও অবশ্যই দৈনিক দু’বার ব্রাশ করা উচিৎ।  ইফতার ও সেহরীর পর মানসম্মত টুথপেস্ট ও ব্রাশ দিয়ে দাঁত ব্রাশ করে নিলে খাদ্যকণা গুলো দাঁতের উপরে ও দু’দাঁতের মাঝখানে জমে থাকতে পারেনা। ব্রাশ করার পরও দুই দাঁতের মাঝখানে অনেকসময় খাবার জমে থাকে। বিশেষ করে যাদের ক্রাউন ও ব্রিজ করা আছে উনারা এ সমস্যায় ভোগেন।

এছাড়াও কারো দাঁতে যদি ক্রাউডিং অর্থাৎ দুই দাঁতের মাঝখানে অপরিমিত জায়গা থাকে যেখানে খাবার ঢুকলে আর বের হতে পারেনা, তাদের জন্য ফ্লসিং করা খুব জরুরি। খাবার পর আপনারা ডেন্টাল ফ্লসের সাহায্যে ইন্টারডেন্টাল স্পেইস বা দুই দাঁতের মাঝখানের জায়গাটা পরিষ্কার করে নিতে পারেন। এতে ডেন্টাল ক্যারিজ ও মাড়ির প্রদাহ রোধ করা সম্ভব।

রোজা রাখা অবস্থায় মাউথওয়াশ ব্যবহার না করাই ভাল। তবে ইফতারের পর থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টাতে এক বা দুবার মাউথওয়াশ ব্যবহার করে নিলে মুখের ভেতরটা পরিষ্কার থাকবে, দুর্গন্ধ (Bad breath) হবেনা। আমাদের প্রিয় নবীজী রোজা অবস্থায় মেসওয়াক ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে।

এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল রোজা অবস্থায়ই দাঁত পরিষ্কার ও মুখের দূর্গন্ধ দূর করতে এর ব্যবহার করতে পারবেন। তাছাড়া যুগ যুগ ধরে  দাঁতের সুরক্ষায় মেসওয়াক একটি বিজ্ঞানসম্মত ও অত্যন্ত কার্যকরী পদ্ধতি হিসেবে প্রচলিত হয়ে আসছে। রোজা অবস্থায় ডেন্টাল ট্রিটমেন্ট নেওয়ার ব্যাপারে আমরা অনেকেই সংশয়ে থাকি।

যেহেতু ডেন্টাল ইনফেকশনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ঔষধ পেইনকিলার ও এ্যন্টিবায়োটিক, রোযার মাসে আমরা ঔষধ সেবনের জন্য ইফতারের পর এবং সেহরির সময়টা বেছে নিতে পারি। রোজা অবস্থায় ক্লিনিকে ডেন্টাল প্রসিডিউর এর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র যেগুলোতে রক্তপাত ( রক্ত গড়িয়ে পড়বে এমন) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে সেগুলো করা যাবেনা।

আরও পড়ুন : এসএসসি-দাখিলের ফরম পূরণ শুরু

এছাড়া বাকীগুলো ট্রিটমেন্ট এ সমস্যা নাই। তবে ডেন্টাল ট্রিটমেন্ট চলাকালে যদি পানি মুখের ভেতরে প্রবেশ করার শংকা করেন, সে ক্ষেত্রে বিরত থাকাই ভাল। রোজার মাসে ভাজা পোড়া ও তৈলাক্ত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভাল। সারাদিন রোজা রাখার পর এসব ভাজাপোড়া খাবার বা জাংক ফুড এ্যসিডিটির কারণ হতে পারে।

এতে যেমন আপনার পাকস্থলী ও খাদ্য পরিপাকে  গোলযোগ দেখা হয়, তেমন দাঁত ও মাড়িরও সমস্যা হতে পারে। পুষ্টিকর ও মানসম্পন্ন খাবার যেন আমাদের পছন্দের তালিকায় ও খাবার টেবিলে রাখতে পারি সে চেষ্টা করতে হবে। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের রোযার মাস ও পরবর্তী দিনগুলো সুস্থ রাখুন, ভাল রাখুন।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top