মিষ্টি কুমড়ায় মিষ্টি হাসি ফুটেছে ঘিওরের চাষিদের মুখে

manikgonj-1-2204110626.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : মানিকগঞ্জে ঘিওরে মিষ্টি কুমড়ার চাষে মুখে মিষ্টি হাসি ফুটেছে চাষিদের। ক্ষেত থেকেই মিষ্টি কুমড়া ন্যায্য ও নগদ মূল্যে বিক্রি করছেন তারা। অল্প টাকা খরচ আর কম পরিশ্রমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার এখানে মিষ্টি কুমড়ার ফলনও হয়েছে বেশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘিওর উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের প্রায় গ্রামেই কমবেশি মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়ে থাকে। তবে বালিয়াখোড়া, চঙ্গশিমুলিয়া, মাইলাঘী, বড় বিলা, বাঙ্গালা, বালিয়াখোড়া, বরুরিয়া, পয়লা, কুইষ্টা, পুরান গ্রাম, নালী, বানিয়াজুরী এলাকায় উল্লেখযোগ্য হারে কুমড়ার আবাদ হয়।

ঢাকার সাথে ঘিওরের সহজ যোগাযোগ মাধ্যম থাকায় পাইকার ক্রেতারা ক্ষেত থেকে নগদ দামে মিষ্টি কুমড়া কিনে নিচ্ছেন। আর এসব মিষ্টি কুমড়া ধামরাই, আশুলিয়া, বাইপাইল, আমিন বাজার, কাওরান বাজারসহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলার বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে।

ঘিওর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় জানায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক চাষি অন্যান্য ফসলের (সাথী ফসল) সঙ্গে মিষ্টি কুমড়া চাষ করে সংসারে স্বচ্ছলতা এনছেন। অল্প সময়, স্বল্প খরচ আর ভালো ফলনে ওই অঞ্চলের কৃষকরা অনেক খুশি। তাই বেকার যুবকরাও মিষ্টি কুমড়া চাষে ঝুঁকছে।  অধিক লাভ এবং দীর্ঘদিন অপচনশীল থাকার জন্য কৃষি বিভাগও দিচ্ছে প্রযুক্তিগত সহায়তা।

আরও পড়ুন : পাকিস্তানের নতুন মন্ত্রিসভায় কে কে থাকছেন?

করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলিয়ে উঠে বাজার বেশ তুঙ্গে। কৃষকরা মিষ্টি কুমড়ার দামও পাচ্ছেন ভালো। ফলে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে মিষ্টি কুমড়ার চাষ। চলতি মৌসুমে ঘিওরে প্রায় চারশ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে। এই সবজির বীজ বপনের সময় শীতকালীন ফসলের জন্য অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এবং গ্রীষ্মকালীন ফসলের জন্য ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস।

বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের পুরাণ গ্রামের কৃষক আলম মিয়া জানান, মিষ্টি কুমড়ার চাষের জন্যে জমি তৈরি, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ ও কৃষকদের মজুরিসহ সবমিলে বিঘা প্রতি খরচ হয় প্রায় সাত থেকে আট হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে আটশ থেকে প্রায় ১ হাজার পিস মিষ্টি কুমড়া পাওয়া যায়। যার পাইকারি বাজারদর ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। তবে স্থানীয় বাজারে খুচরা বিক্রি করলে প্রায় দ্বিগুণ মুনাফা পাওয়া সম্ভব বলেও জানান তিনি।

পয়লা গ্রামের কৃষক বারেক মৃধা জানান, প্রতিটি কুমড়া আকার ভেদে ১০ টাকা থেকে ৭০ টাকা দরে ক্ষেত থেকেই পাইকারি ব্যবসায়ীরা কুমড়া কিনে নিয়ে যায়। তাই আমাদের বাড়তি কোনো ঝামেলা পোহাতে হয়না। এককালীন নগদ টাকাও পাওয়া যায়।

পাইকারি ক্রেতা মো. লুৎফর রহমান জানান, এখানকার উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া সুস্বাদু ও আকৃতিতে বড় হয় বলে চাহিদা বেশি। এবছর তিনি ৩ লাখ টাকার মিষ্টি কুমড়া পাইকারি হিসেবে কিনেছেন। সপ্তাহে দুইবার পিকআপ করে এগুলো আশুলিয়ার ‘বাইপাইল কাঁচা বাজার আড়তে’ বিক্রি করছেন। এ বছর লাখ টাকার ওপরে লাভের আশা করছেন তিনি।

মানিকগঞ্জ কাঁচা বাজারের আড়তদার মো. আলী হোসেন বলেন, ঢাকার বাজারে ঘিওরের মিষ্টি কুমড়ার বেশ চাহিদা রয়েছে। জেলার সঙ্গে এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও বেশ ভালো। সপ্তাহ খানেক ধরে আমার আড়তে প্রচুর পরিমান মিষ্টি কুমড়া উঠছে। এবার দামও ভালো, আকারভেদে ৩০ থেকে ৭০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

জেলা কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ অঞ্চলের কৃষকরা পাট, গম, ধইঞ্চাসহ বিভিন্ন ফসলাদি চাষ করে তেমন একটা লাভের মুখ দেখেননি। গত ৭/৮ বছর আগে এখানকার কৃষকরা বিষমুক্ত মিষ্টি কুমড়ার চাষ করে বেশ সফলতা অর্জন করেছেন। এরপর দিন দিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আবাদের পরিমাণ বেড়েই চলছে। প্রান্তিক কৃষকরা মিষ্টি কুমড়া চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ বিপুল হোসেন বলেন, কৃষকরা অন্যান্য ফসলের সঙ্গে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করছে। ভালো ফলন হওয়ায় গত কয়েক বছর থেকে চাষিরা মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করছেন।  মৌসুমভিত্তিক ফসল চাষের জন্য কৃষি অফিস থেকে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top