খুলনায় করোনার ক্রান্তিকালে ত্রাণের চাল বিতরণে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

dfghj.jpg

দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ। ফাইল ছবি- প্রবর্তন।

নভেল করোনা ভাইরাসের ছোবলে থমকে গেছে গোটা বিশ্ব। প্রভাব ঠেকাতে বিশ্বের অনেক দেশ লকডাউন করা হয়েছে। বাংলাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলেও তৈরি হয়েছে অঘোষিত লকডাউন পরিস্থিতি। এ অবস্থায় সমাজের সব বিত্তের মানুষরা বিপাকে পড়লেও দিন আনা দিন খাওয়া মানুষেরা পড়েছে সীমাহীন দুর্ভোগে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিকভাবে দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষকে মানবিক সহায়তার জন্য চাল ও নগদ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। জেলা প্রশাসন কর্তৃক সেই মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের উপর। সেই মানবিক সহায়তা (ত্রাণ) বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ৩নং দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ফিরোজ মোল্লার বিরুদ্ধে।

রোববার (০৬ এপ্রিল) খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বরাবর এ লিখিত অভিযোগ করেছেন দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাত জন সদস্য (মেম্বর)। অভিযোগকারীরা হলেন, দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ০৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য এবিএম আতিকুল ইসলাম, ০৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য শেখ মােয়াজ্জেম হােসেন, ০৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য মােঃ আজিজুর রহমান, ০৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য মােল্যা হারুন-আর রশীদ, ০৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য খান বিপ্লব হােসেন, ০৭, ০৮ ও ০৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য হাফিজা খাতুন এবং ০৪, ০৫ ও ০৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য মিসেস রিনা পারভীন।

অভিযোগ পত্র।

অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে, দিঘলিয়া উপজেলা ত্রাণ শাখা হতে দুই হাজার নয়শত ৬৮ মেঃ টন চাউল দিঘলিয়া ইউনিয়নের হত দরিদ্রদের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু চেয়ারম্যান ইউপি সদস্যদের অবহিত না করে নিজের হীন স্বার্থ হাছিল করার উদ্দেশ্যে নিজের কয়েকজন লোকদের মাঝে কিছু পরিমান বিতরণ করেন। বাকিটা আত্মসাৎ করার পরিকল্পনা করছেন।

জানা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফিরোজ মোল্লা একটি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদেরকে না জানিয়ে তার পছন্দের ৭৩ জন লোকের প্রতি জনের মাঝে ৭ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি পেঁয়াজ করে বিতরণ করেছেন।

এছাড়াও চেয়ারম্যান একটি সমিতি (অজ্ঞাত) করেছেন। সমিতিটির সদস্য তারাই যারা একান্তই চেয়ারম্যানের পছন্দের লোক। চেয়ারম্যান তার নিজস্ব লোক দ্বারা সমিতির যারা সদস্য আছেন তাদের মাঝেই এই চাল বিতরণ করেছেন। ত্রাণ নেওয়া ৭৩ ব্যক্তিদের মধ্যে প্রতিজন পুরুষের কাছ থেকে ১২১ টাকা এবং মহিলার কাছ থেকে ৫১ করে নিয়ে তাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। অথচ স্থানীয়ভাবে আপাতত এমন কোন সমিতির ভিত্তি নেই বলে জানা যায়। বিষয়টি নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

একটি গোয়েন্দা সংস্থা বরাতে জানা যায়, ২০১৭ সালে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একাধিক দূর্নিতীর অভিযোগ উঠেছিল। ওই সময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কিন্তু তদন্ত কালে দুই জন সদস্যকে হঠাৎ বদলী করে দেওয়া হয়। যে কারনে সেই তদন্ত সম্পন্ন হয়নি। এসব কর্মকান্ডে তার পক্ষে এক জন প্রভাবশালীর হস্তক্ষেপ রয়েছে।

পূর্বের দূর্নীতি কান্ডের তদন্তের নির্দেশ।

খুলনা জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রাপ্ত অভিযোগর ভিত্তিতে স্থানীয় সরকারের উপ পরিচালক মো: ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) তারা তদন্ত করতে দিঘলিয়ায় যাবে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: নিরাপত্তা সতর্কতা!!!