বৈশাখী রংয়ের হাওয়ায় মেতেছে খুলনার বাজার

IMG_20190407_134512.jpg

আওয়াল শেখ, Prabartan | আপডেট: ২৩:১২, ০৭-০৪-১৯

বাঙালির সবচেয়ে বড় প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখ। হাজারো ছন্দ-কবিতা ও প্রাণের উচ্ছ্বাসে বছর ঘুরে দ্বারপ্রান্তে এসেছে বৈশাখের নতুন বার্তা। মন্ত্রণা দিচ্ছে গ্লানি মুছে ফেলার। প্রতি বছর এ দিনকে ঘিরে বাঙ্গালি জাতি আয়োজন করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। আর মাত্র ছয়দিন পরেই শুরু হবে বাঙালি ঐতিহ্য ধারণের এ উৎসব। নতুন বাংলা বছরকে বরণ করে নিতে সর্বত্র তাই সাজ সাজ রব।

এই দিনকে সামনে রেখে মজাদার খাবার তৈরি আর পছন্দের বাঙালি পোশাক গায়ে ধারণে প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত সবাই। মহানগরের বিভিন্ন বিপনি-বিতানে ছুটছে শিশু, তরুণ-তরুণী ও বাঙালি বধুরা। যাদের সঙ্গে কেনাকাটায় থাকছেন বাড়ির অভিভাবকরাও। তারা দেখে-শুনে কিনে নিচ্ছেন নিজের পছন্দের পোশাক। বর্ষবরণের এ বেচা-বিক্রির ব্যস্ততায় ব্যবসায়ীদের মুখেও ফুটেছে হাসি। ঈদের মতো তাদের মনেও ছড়িয়ে পড়েছে বৈশাখীর আনন্দ। রোববার (৭ এপ্রিল) খুলনা মহানগরের কয়েকটি বিপনী-বিতান ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

বৈশাখকে সামনে রেখে খুলনা মহানগরের বিপনি-বিতানের ফ্যাশন হাউসগুলো নিয়ে এসেছে শৈল্পিক ডিজাইনের সব পোশাক। হাউসগুলোতে মেয়েদের জন্য রয়েছে থ্রি পিস, শার্ট টপস, লং টপস, শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, ওড়না, প্লাজ্জু ইত্যাদি। পাশাপাশি রয়েছে ছেলেদের পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, ফতুয়া, কাতুয়া, ধুতি পাজামা ও বাচ্চাদের নানা শৈল্পিক পোশাক। এসব পোশাকের বেশিরভাগেই প্রাধান্য পেয়েছে লাল-হলুদ ছাপ।

বিভিন্ন ডিজাইনের এ পোশাকগুলোর বেশিরভাগ সুতি কাপড়ের তৈরি। এসব পোশাকের নকশা করা হয়েছে ব্লক, বাটিক, স্ক্রিন প্রিন্ট, হ্যান্ড স্টিচ, চুমকি, এমব্রয়ডারি ও হাতের কাজ ইত্যাদি। পোশাকগুলো বৈশাখের ক্রেতাদের একইসঙ্গে ঐতিহ্য ও আরামের স্বাদ দেবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব হওয়ার কারণে এর আমেজ প্রতিবছরই বাড়ছে। ঈদ বা পুঁজা উৎসবকে বাংলাদেশে ভিন্ন ভিন্ন চোখে দেখা হলেও এ উৎসব সবার জন্য। তাই সবে মুসলিমহিন্দু সবাই সমানভাবে কেনাকাটায় উৎসাহী হয়। বাঙালির এ উৎসব মুখর পরিবেশে কেনাকাটায় ব্যবসায়ীদের মুখেও হাঁসি ফুঁটে।

খুলনা শপিং কমপ্লেক্সের ২য় তলার চয়েজ কালেকশন নামক একটি দোকানে দেখা মেলে বং বে রংয়ের পাঞ্জাবী। দোকানে কর্মরত এস এম আক্তারুজ্জামান নিশাত প্রবর্তনকে বলেন, বৈশাখ উপলক্ষ্যে নতুন নতুন পাঞ্জাবী এনেছি। ক্রেতার সমাগম অনেক বেশি বেচাকেনাও ভাল।

এক ক্রেতার সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি প্রতি বছরই এই সময় পাঞ্জাবি ক্রয় করি। ঈদ বা পূজার তুলনায় এখন দামও যেন একটু কমই মনে হচ্ছে। মাত্র ৮শ টাকায় পছন্দের পাঞ্জাবিটা পেয়ে গেলেম। ভিড় কম থাকায় দেখেশুনে নিতে পারছি। দুই একদিনের মধ্যে মার্কেটে দেখেশুনে কেনা কঠিন হয়ে যাবে তাই আগেভাগে কিনে নিলাম

কমতি নেই মাটির তৈজসপত্র ও ইলিশ বাজারে ব্যস্ততা। ইলিশের বাজারে বৈশাখী আমেজ তুঙ্গে। নগরবাসী বাংলা নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতিতে পোশাক-প্রসাধনীর পাশাপাশি ছুটছেন মাছ বাজারে। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অনুষঙ্গ না হলেও চাহিদা বাড়ায় রুপালি ইলিশের দামটা বিক্রতারা বাড়িয়ে দিয়েছেন কয়েকগুণ।

রুপালি ইলিশের দাম বাড়া নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিক্রেতারা বলছেন, এখন ইলিশের মৌসুম না হওয়ায় সব ধরনের ইলিশের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, প্রতিবছর  বাংলা নববর্ষের আগে অতি মুনাফার আশায় দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক কেজি ৫শ গ্রাম ওজনের একেকটি ইলিশের দাম প্রায় ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা। ক্রেতারা জানান, এক কেজি বা এককেজি ৩শ গ্রাম সাইজের ইলিশের কেজি ২২শ থেকে ৩ হাজারট ৫শ টাকায় টাকা বিক্রি করতে দেখা যায়। যেগুলো এক সপ্তাহ আগে দেড় হাজার থেকে থেকে দুইহাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বৈশাখের বাজার সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছেন মাটির তৈজসপত্র ব্যবসায়ীরা। মাটির থালা-বাসন, জগ, কাপ-পিরিচ, শোপিস, ফুলদানি, ল্যাম্পশেড, মোমদানি ও বিভিন্ন তৈজসপত্রে শৈল্পিক নকশায় ব্যস্ত তারা। তারা জানান, মাটির হাঁড়ি, থালা-বাসন থেকে শুরু করে ফুলদানি পর্যন্ত নানা ধরনের ডিজাইনের পণ্য বৈশাখে উপলক্ষ্যে বাজারে আনবেন। এসব পণ্যের দাম ৩০ টাকা থেকে শুরু করে দেড় হাজার টাকার মধ্যে। ভালো মাটির থালাগুলো পাওয়া যাবে ৯০ থেকে ১৫০ টাকা, মাটির গ্লাস ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বিভিন্ন রকমের বাটি পেয়ালা ৬০ থেকে ২০০ টাকা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশাখের সময় নববর্ষ সংশ্লিষ্ট পণ্যের বাজারে দাম একটু বেশি থাকে। তবে দাম গ্রাহ করে না নববর্ষ প্রেমিকরা। বৈশাখের রঙের মেলায় সবাই ঐতিহ্য ধরে রাখতে চাই।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top