টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চালু হচ্ছে ১০ শয্যার আইসিইউ

131635Tangail-hospital.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে এতদিন কোনো আইসিইউ ছিল না। ফলে কভিড-১৯ আক্রান্ত গুরুতর অবস্থায় অনেক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠাতে হয়েছে ঢাকায়। এ অবস্থার উত্তরণ হতে যাচ্ছে। খুব শিগগিরই এ হাসপাতালে চালু হচ্ছে আইসিইউ। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের কভিড আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছর করোনা সংক্রমণের পর সারাদেশের মতো টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালেও আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। তাদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসকদের।

হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা থাকলেও করোনা আক্রান্তদের উচ্চমাত্রার অক্সিজেন দেয়ার বিশেষ ব্যবস্থা ছিল না। ফলে জরুরি অবস্থায় সেসব রোগীকে ঢাকায় পাঠানো হতো। এ অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ চালু করার প্রয়োজনীয়তা জরুরিভাবে দেখা দেয়।সম্প্রতি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছেন ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান। তিনি যোগদানের পর থেকেই হাসপাতালে আইসিইউ চালু করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে অবশেষে ১০ শয্যার আইসিইউ চালু করার জন্য প্রায় সবকিছু চূড়ান্ত করেছেন।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ডোনেশন হিসেবে ভেন্টিলেটর এবং হাইফ্লোন্যাসাল ক্যানোলা পাওয়া গেছে। আইসিইউ বিশেষজ্ঞ চারজন অ্যানেস্থেসিয়োলজিস্ট ও বিভিন্ন আইসিইউতে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ১০ জন নার্স ইতিমধ্যেই হাসপাতালে কর্মরত আছেন। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. সুজাউদ্দিন তালুকদার বলেন, আইসিইউ চালু হলে কভিড আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের উচ্চমাত্রার অক্সিজেন দেয়াসহ কাঙ্ক্ষিত সেবা দেয়া সম্ভব হবে। তবে আইসিইউ চালু করার পাশাপাশি দক্ষ জনবল ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যবস্থাও রাখতে হবে।

গাইনি বিভাগের আবাসিক সার্জন ও কনসালটেন্ট ডা. সাদিয়া সিদ্দিকা ইথার বলেন, কভিড আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে যখন বিভিন্ন জায়গায় আইসিইউয়ের জন্য হাহাকার চলছে, তখন সহকারী পরিচালক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান স্যারের প্রচেষ্টায় এ হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ চালু হতে যাচ্ছে। এটি খুবই ভালো একটি সংবাদ। কভিড আক্রান্ত মুমূর্ষু অন্তত দশজনকে এখানে রেখে চিকিৎসা দেয়া যাবে।হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. শফিকুল ইসলাম সজীব জানান, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ৫০ বেডের করোনা ওয়ার্ডে বর্তমানে করোনা পজিটিভ রোগী আছেন সাতজন।

করোনার লক্ষণ নিয়ে ভর্তি আছেন আরো ১৪ জন। গত বছর প্রতিদিন গড়ে তিনজন রোগীকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে আইসিইউয়ের জন্য।হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান বলেন, আশা করছি খুব তাড়াতাড়িই আইসিইউয়ের জন্য জরুরি সব সরঞ্জাম পেয়ে যাবো। তারপরই সেটি চালু করা যাবে। আইসিইউ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলও পেয়ে যাবো বলে আশা করছি।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top