ওয়ার্ড কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে বাল্য বিয়ে : স্কুলে গিয়ে আত্মহত্যার হুমকি ছাত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদ, Prabartan | আপডেট: ২২:৪৪, ০৩-০৪-১৯

নগরীর ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে বাল্য বিয়ের শিকার এক ছাত্রী বিদ্যালয়ে গিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছে। নগরীর খালিশপুরের শহীদ তিতুমির মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পুলিশের সহযোগীতায় তাকে পূণর্বাসন কেন্দ্রে পাঠান। বাল্যবিয়ের শিকার মেয়েটির নাম আরিফা (১৪)। সে নবম শ্রেণির ছাত্রী। গত ১৮ আগষ্ট দৌলতপুর এলাকার মহিউদ্দীনের সাথে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকে সে শ্বশুর বাড়িতে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হতো বলেও জানিয়েছে সে।

স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইউনুছ আলী জানিয়েছেন, মেয়েটি হঠাৎ স্কুলে এসে কান্নাকাটি করতে থাকে এবং আবারও স্কুলে পড়তে চায় বলে জানায়। না হলে আত্মহত্যা করবে বলেও জানায়। বিষয়টি খালিশপুর থানাকে জানালে পুলিশের সহযোগীতায় মেয়েটিকে মহিলা অধিদপ্তরের পূণর্বাস কেন্দ্রে পাঠানো হয়। খালিশপুর থানার ওসি মোঃ মোশারফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, কাবিননামায় জন্মসনদের মাধ্যমে মেয়েটির জন্ম সন দেখানো হয় ২০০০ সালের ৫ এপ্রিল। অর্থাৎ মেয়েটিকে সাবালিকা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। অন্যদিকে মেয়েটির স্কুল ও শিক্ষাবোর্ডের রেজিষ্ট্রেশন অনুযায়ী জন্মসন ২০০৫ সালের ৫ এপ্রিল। এ হিসাবে মেয়েটির বয়স এখন ১৪ বছর। এলাকাবাসীর দাবি, মেয়েটির বয়স কোনো ভাবেই ১৫ এর বেশী হতে পারে না।

বিয়েতে উপস্থিত থেকে সাক্ষী হিসেবে কাবিননামায় স্বাক্ষর করেন কেসিসির ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহফুজুর রহমান লিটন। এবিষয়ে তিনি বলেন, এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিয়েতে উপস্থিত থাকার জন্য বলা হলে আমি সেখানে যাই। জন্ম সনদে তার বয়স বাড়ানো হয়েছিল কিনা তা আমার জানা ছিল না।

বাল্যবিয়ে দেয়া মুজগুন্নি এলাকার কাজি মোতাসিম বিল্লাহ আরিফকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। এদিকে একজন সচেতন জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিতে বাল্যবিয়ের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন এলাকার সচেতনমহল।

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top