খুলনায় করোনার চিকিৎসা খুমেকে, সর্দি-কাশি সদরে, বাকিসব অন্য হাসপাতালে

image_750x_5e2f027981f17-1.jpg

খুলনায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসার মূল কেন্দ্র হিসেবে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণ সর্দি-কাশি ও জ্বরে (করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নয়) আক্রান্তদের চিকিৎসা খুলনা জেনারেল হাসপাতালসহ খুলনা আইডি হাসপাতাল, কেসিসি পরিচালিত আরবান হেলথ ক্লিনিকসহ বেসরকারি অন্যান্য হাসপাতালসমূহে প্রদান করা হবে। এ সকল হাসপাতালে চিকিৎসা দানকালে কোন রোগীর মধ্যে করোনা ভাইরাসের আশংকা দৃশ্যমান হলে সাথে সাথে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ ও চিকিৎসা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে হার্ট, কিডনি, নিউরোসহ অন্যান্য জটিল রোগের চিকিৎসা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অন্যান্য রোগীদের (করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ছাড়া) চিকিৎসা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবেলার লক্ষ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য গঠিত কমিটির এক সভা এ সিদ্ধান্ত সমূহ নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) পলাশ কান্তি বালা, খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ রাশেদা সুলতানা, সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জিয়াউর রহমান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এ.টি.এম মনজুর মোর্শেদ, কেসিসি’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও কমিটির সদস্য সচিব ডাঃ একেএম আব্দুল্লাহ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল আজিজ, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. স্বপন কুমার হালাদার, সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. গাজী মিজানুর রহমান, সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. সৈয়দ আবু আসফার, পরিচালক ডা. এম.এ আলী, খুলনা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মোঃ তকি ফয়সাল, শারমীন জাহান লুনা, আদ-দ্বীন হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মোঃ হোসেন আলী প্রমুখ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক প্রবর্তনকে বলেন, করোনা মহামারী আকার ধারণ করতে পারে। এ কারণে বড় পরিসরে মেডিকেল কলেজকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। সেখানে শুধুই করোনা রোগীরা সেবা পাবেন।

তিনি আরো বলেন, এ ভাইরাসের প্রতিষেধক ঔষধ এখনো আবিস্কার হয়নি। তাই প্রতিরোধই এর সংক্রমন থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায়। সে কারণে আতংকিত না হয়ে এই রোগ থেকে রক্ষা পেতে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’ করোনার ছোবল থেকে খুলনাবাসীদের রক্ষায় তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে আরো দায়িত্বশীল ও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. এ টি এম মঞ্জুর মোর্শেদ প্রবর্তনকে বলেন, একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে যে খুমেকে শুধুমাত্র করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হবে। সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্তদের প্রাথমিক ভাবে খুলনা সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হবে। সেখানে থেকে কেউকে করোনা সন্দেহ হলে খুমেকে পাঠানো হবে। যেহেতু করোনা রোগটি খুবই চোঁয়াছে। তাই করোনার চিকিৎসা দেওয়ার সময় অন্য রোগীদের যেন এ রোগ ছড়াতে না পরে সে জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমি প্রথমে এ সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করেছিলাম। খুমেকে এত বড় একটা হসাপাতাল সেখানে যদি অন্য রোগীরা চিকিৎসা না পায় তাহলে কেমন হয়? অন্য চিকিৎসাগুলো কোথায় দেওয়া হবে? আমি এসব প্রস্তাব করলে বেসরকারী হাসপাতালের মালিকরা অন্য রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার দ্বায়িত্ব নিয়েছেন। আমরা ভাবছি তারা এই লোড নিতে পারবে কিনা? এটা আমাদের সন্দেহ হচ্ছে। আরো ভালো কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কিনা তা ভাবছি।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ প্রবর্তনকে বলেন, খুমেকের শুধুমাত্র করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে বর্তমানে যারা ভর্তি আছে তাদেরকে বেসরকারী হাসপাতালে হস্তান্তর করে বিনামূল্য চিকিৎসা দেওয়া হবে। খুব শিগ্রই এই প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিট অ্যান্ড ডায়গনস্টিক অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি গাজী মিজানুর রহমান বলেন, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোকে নিয়ে একটি টাক্সফোর্স গঠন করা হবে। সাধারণ যে রোগী আছে যেমন ডেলিভারি, হৃদরোগী, দুর্ঘটনাসহ অন্যান্য রোগীদের দায়িত্ব নেবে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো। রোগী যদি গরীব হয় তাহলে বিনামূল্যে তাঁকে সেবা দেওয়া হবে। সবাই মিলে সমন্বিতভাবে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করতে হবে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।