পুনাকের সহযোগিতায় চাকরি পেলেন যশোরের প্রতিবন্ধী শাহিদা

02-623b21107edd6.jpg

প্রতিবন্ধী শিশুদের সঙ্গে কথা বলছেন পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জা।

ডেস্ক রিপোর্ট: পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী জীশান মীর্জার উদ্যোগে অবশেষে চাকরি পেলেন যশোরের ঝিকরগাছার মাস্টার্স পাস করা শারীরিক প্রতিবন্ধী শাহিদা খাতুন। যশোরের নওয়াপাড়াস্থ আকিজ জুট মিলে এক্সিকিউটিভ অফিসার পদে চাকরি হয়েছে তার। শাহিদার কর্মসংস্থান উপলক্ষে বুধবার তার বাড়ি ঝিকরগাছার শিমুলিয়া গ্রামে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) যশোর জেলার এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে শাহিদার হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জা। এর আগে, শাহিদার পরিচালিত প্রতিবন্ধী শিশু ও নারীদের নিয়ে ‘সৃষ্টিশীল নারী প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থার’ শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের খোঁজখবর নেওয়ার সঙ্গে তাদের চকলেট, চিপস, নতুন পোশাকসহ বিভিন্ন উপহার তুলে দেন তিনি।

দুটি পা ও একটি হাত না থাকা শারীরিক প্রতিবন্ধী শাহিদা খাতুনের বাড়ি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে। মুদি দোকানি রফিউদ্দিনের ছয় সন্তানের মধ্যে শাহিদা চতুর্থ। দুটি পা আর একটি হাত না থাকলেও সচল বাকি হাত দিয়েই বাঁচার স্বপ্ন দেখেন শারীরিক প্রতিবন্ধী শাহিদা খাতুন। প্রতিবন্ধিতাকে জয় করে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন এলাকায়।

জন্ম থেকে প্রতিবন্ধী তরুণী প্রবল ইচ্ছাশক্তির ওপর ভর করে ২০১৫ সালে যশোর সরকারি এমএম কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করেছেন মাস্টার্স। লেখাপড়ার পাশাপাশি শাহিদা হ্যান্ডিক্রাফট, সেলাইসহ বিভিন্ন হাতের কাজও করতে পারেন। অন্য প্রতিবন্ধীদের জন্য এগিয়ে আসেন তিনি।

বাড়ির পাশে তিনি গড়ে তোলেন সৃষ্টিশীল নারী প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থা। ওখানেই প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা আর নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মজীবী হিসেবে গড়ে তুলছেন। একসময় প্রতিবেশীরা শাহিদার জন্মকে ‘পাপের ফল’ বলতেও কার্পণ্য করেনি। আজ তারা শাহিদাকে মেনে নিয়েছেন বিপদের বন্ধু হিসেবে। যেকোনো দরকারে ছুটে আসেন শাহিদার কাছে। তার পরেও ইচ্ছাশক্তি বলে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও চাকরি না পাওয়ায় হতাশ ছিলেন শাহিদা।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে শাহিদাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরে পুনাকের সভানেত্রী জীশান মীর্জার নজরে আসলে তার আন্তরিক উদ্যোগে জেলা পুলিশ শাহিদার বিষয়ে খোঁজখবর শুরু করে। ২২ ও ২৩ মার্চ যশোর জেলা পুলিশ সমাবেশ ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় যশোরে আসলে বুধবার জেলা পুনাক নেতাদের নিয়ে শাহিদার সঙ্গে দেখা করে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন।

নিয়োগপত্র পেয়ে খুশিতে আত্মহারা শাহিদা খাতুন। তিনি বলেন, অবশেষে আমার একটা কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। পড়াশোনা শেষ হয়েও চাকরি না হওয়ায় আমি দুঃচিন্তায় ছিলাম। প্রতিবন্ধী হিসাবে বাড়িতে পরিবারের কাছে বোঝা হিসাবে ছিলাম। তার পরে লেখাপড়া শেষ করেই আরও বোঝাটা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পুনাকের সভানেত্রীর কল্যাণে আমার একটা চাকরি হলো। এখন আমার মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে পারব।

পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জা বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে শাহিদাকে নিয়ে সংবাদ পড়েছি। তার অদম্য প্রতিবন্ধিতাকে জয় করে অনন্য নজির স্থাপন করা আমাদের কাছে খুব ভালো লেগেছে। তাছাড়া প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি অসহায় ও দুস্থদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। সেই ধারাবাহিকতায় শাহিদার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে পুনাক।

তিনি আরও বলেন, উচ্চ শিক্ষিত হয়েও সে চাকরি পাচ্ছে না; শাহিদার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হওয়ায় পরিবারটি এখন ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। উচ্চ শিক্ষিত আর প্রতিবন্ধিকতা জয় করে চাকরি না পাওয়ায় হতাশ ছিলেন শাহিদার বাবা মুদিদোকানি রফিউদ্দিন। অবশেষে শাহিদার চাকরি হওয়ায় খুশি তিনি।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top