অভিযোগ নিয়ে প্রতিদিন নগর ভবনে বাসিন্দারা

image-530836-1647322251.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ চট্টগ্রাম নগরবাসী। ঘরে-বাইরে সমানতালে মশার উপদ্রব। প্রতিদিনই ‘মশার যন্ত্রণার’ অভিযোগ নিয়ে নগর ভবনে যাচ্ছেন বাসিন্দারা। তারা বলছেন, এলাকায় ঠিকভাবে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। এমনকি ওষুধ ছিটানোর দায়িত্বে থাকা স্প্রেম্যানদেরও দেখা যায় না। কিছু কিছু স্থানে নামমাত্র যে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে, তাতে মশা মরছে না। অপরদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) কর্মকর্তাদের দাবি, প্রতি ওয়ার্ডকে চারটি জোনে ভাগ করে মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। এর বাইরে ৬০ জনের একটি বিশেষ টিম আছে, যারা ওষুধ ছিটাচ্ছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, খাল, নালা-নর্দমা মশায় গিজগিজ করছে। শুধু সন্ধ্যায় বা রাতে নয়, দিনেও বাসা-বাড়িতে মশার উৎপাত। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কার্যক্রম এবং ওষুধ ছিটানো নিয়ে অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মুরাদপুর আতুরার ডিপো তাহেরাবাদ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আবু নোমান জানান, ‘সারা বছরই মশার যন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি এতটাই বেড়েছে যে মশার কামড়ে টেকা দায়। এলাকায় মশার ওষুধ ছিটাতে স্প্রেম্যানদের দেখা যায় না। নালা-নর্দমায় জমা পানিতে মশার বংশবৃদ্ধি আব্যাহত আছে।’

আরও পড়ুন : হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাট ব্যাকআপ রাখবেন যেভাবে

সদরঘাট থানা এলাকার বাসিন্দা আবদুল শুক্কুর বলেন, ‘এখন ঘরে-বাইরে সমান উপদ্রব মশার। বিকাল গড়ালেই মশার যন্ত্রণায় টিকা দায়। এমনকি দিনেও মশার উপদ্রব দেখা যাচ্ছে।’

চসিক) উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে মশা নিধনের কার্যক্রম চলমান আছে। প্রতিটি ওয়ার্ডকে চারটি ভাগে বিভক্ত করে ৪ জন করে স্প্রেম্যান প্রতিদিন ওষুধ ছিটাচ্ছে। এছাড়া ৬০ জনের একটি স্পেশাল টিম রয়েছে, যাদেরকে যেখানে নির্দেশনা দেওয়া হয়, সেখানে গিয়ে তারা তাৎক্ষণিক ওষুধ ছিটিয়ে আসে। পুরোনো ওষুধ বাদ দিয়ে নতুন ওষুধ কেনা হয়েছে।’

চসিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোবারক আলী বলেন, ‘নগরীতে মশা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ উন্নয়নের কারণে খাল-নালাগুলোয় দেওয়া বাঁধ। জমানো পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটে। নগরীর ২৬টি খালে একসঙ্গে উন্নয়ন কাজ চলমান আছে। এ কারণে এসব খালের বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দেওয়া আছে। এতে মশার উপদ্রব বাড়ছে। তবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বলেছে, বর্ষার আগেই এসব খালের বাঁধ কেটে দেবে।’

তিনি আরও জানান, পুরোনো অকার্যকর মশা মারার ওষুধের পরিবর্তে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ব্যবহার করে এ ধরনের মশার ওষুধ এখন কেনা হয়েছে। পরীক্ষায়ও এসব ওষুধের কার্যকারিতা উঠে এসেছে। গত দুই মাসে দুই দফায় লার্ভিসাইড (মশার ডিম ধ্বংসকারী ওষুধ) কেনা হয়েছে ৩ হাজার ২শ লিটার। একইভাবে এডালটিসাইড (পূর্ণাঙ্গ মশা ধ্বংসকারী ওষুধ) কেনা হয়েছে এক হাজার লিটার। নিয়মিত এসব ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।

চলতি বছরের শুরুতে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করে চসিক। এই কর্মসূচির আওতায় নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ৪০০ লিটার লার্ভিসাইড (মশার ডিম ধ্বংসকারী ওষুধ) এবং ৬০০ লিটার এডালটিসাইড (পূর্ণাঙ্গ মশা ধ্বংসকারী ওষুধ) ছিটানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু মশা ও লার্ভানিধনে ফগার মেশিন দিয়ে যে কীটনাশক ছিটিয়ে আসছিল তাতে মশার উপদ্রব কমেনি। পরবর্তী সময়ে পরীক্ষায় দেখা যায়, এ কীটনাশক অকার্যকর। এরপর সিটি করপোরেশন নতুন কার্যকরী ওষুধ কিনতে উদ্যোগী হয়। গত দুই মাসে প্রায় ৪ হাজার ২শ লিটার নতুন ওষুধ কেনা হয়েছে। এসব ওষুধ এখন নগরীতে ছিটানো হচ্ছে।

চসিক সূত্র জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরেই মশকনিধন কার্যক্রমের জন্য ওষুধ ও মালামাল ক্রয় খাতে সাড়ে ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়।

এর মধ্যে গেল বছর নভেম্বরে প্রায় ৫ কোটি টাকার ওষুধ কেনা হয়। এছাড়া ফগার মেশিন বাবদ খরচ করা হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। বর্তমানে চসিকে আছেন ২৫০ জন স্প্রেম্যান, উন্নতমানের ১৬৫টি ফগার মেশিন ও ৪২০টি সাধারণ স্প্রে মেশিন আছে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top