নগর জুড়ে মশার উৎপাত : স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশংকা

mossa.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক, prabartan | প্রকাশিত: ০২:০১, ১৫- ০৩-১৯

শীত বিদায় নিতেই নগরী জুড়ে বেড়েছে মশার উৎপাত। দিনের আলোতে একটু কম থাকলেও সন্ধ্যার পর মানুষের স্বাভাবিক কাজ কর্মে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে এই ছোট্ট প্রাণি। মশার উৎপাত থেকে রেহাই পেতে নগরবাসির বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।

নগরবাসির অভিযোগ নিয়মিত তদারকির অভাবে ডোবা-নালা থেকে বন্ধ হচ্ছে না মশার নিয়মিত বংশবিস্তার। এতে নানা ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে নগরবাসী।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ‘অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়ার বিস্তার ঘটায়। এখন মশার উৎপাত দিনে দিনে বেড়ে যাচ্ছে। এতে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়বে। বিশেষ করে ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ বাড়তে পারে।

নগরীর ট্যাংক রোডের বাসিন্দা রুস্তম আলী বলেন, মশার উৎপাত এতোটাই বেশি যে জানালা-দরজা খুলে রাখার উপায় নেই। মশক নিধনে সিটি করপোরেশনের তৎপরতায় খুশি নন তিনি। তার অভিযোগ, মশা যেভাবে বাড়ছে, সেই অনুপাতে সিটি করপোরেশনের কোন তৎপরতা নেই।

দারোগাপাড়ার বাসিন্দা ফকরুল আলম বলেন, মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। দীর্ঘ দিন সিটি কর্পোরেশনের মশা নিধন কার্যক্রম এলাকায় না থাকায় দিন দিন মশা এতটাই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে যে, ঘরোয়াভাবে তাদের দমানোর কোনো ফর্মুলাই কাজে আসছে না। মশার উপদ্রবে নগরবাসী অসহায় হয়ে পড়েছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, এত মশা নগরীতে আগে কখনও দেখেননি তারা। অ্যারোসল, ইলেকট্রিক ব্যাট, কয়েলেও এখন আর কাজ হচ্ছে না। গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরুতে এত মশা যে দুপুরের পর থেকে ঘরে মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হচ্ছে। তাতেও ঠিকমতো মশা যায় না। আগে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ধোঁয়া ও মশার ওষুধ ছড়ানো হতো। কিন্তু কয়েক মাস ধরে তা বন্ধ আছে।

ইকবাল নগর মসজিদ রোডের মেসের বাসিন্দা সুমন দাস বলেন, আমরা নিচতলায় মেসে থাকি। দিন কিংবা রাত মশার হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছি না। মৌলভীপাড়া, রায়পাড়ার মেসের ছাত্রদেরও একই অভিযোগ। রায় পাড়ার মেসের রফিকউদ্দিন বলেন, সিটি কর্পোরেশন এখন ফুটপাত উদ্ধারে ব্যস্ত। মশা নিধনের কথা হয়তো ভুলে গেছে।

নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হলে বসবাসরত ছাত্র ছাত্রীরা জানান, মশার উৎপাত নতুন নয়। তবে এ বছরের ঘটনা, হার মানিয়েছে আগের সব উদাহরণকে। দিনে-দুপুরেও মশা তাড়াতে হলগুলোতে কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হচ্ছে।

মশার উৎপাত থেকে রেহাই পেতে সিটি কর্পোরেশনের কাছে নগরবাসীর দাবি, অতি দ্রুত মশা নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার। প্রতিটি ওয়ার্ডে ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধন করা এবং ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করার দাবী তাদের।

খুলনা সিটি কর্রোরেশনের কনজারভেন্সী অফিসার আনিসুর রহমান বলেন, সিজন চেঞ্জ হওয়ার কারণে মশা বাড়ছে। তবে আমরা মশা নিধনের জন্য অতি শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: নিরাপত্তা সতর্কতা!!!