‘আমি বলেছি আমরা লজ্জিত’

3-120190311221248.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট, prabartan | প্রকাশিত: ২২:১৮, ১১- ০৩-১৯

‘নিরীহ’ জাহালমের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

তিনি বলেছেন, আমি প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে গণমাধ্যমের মাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করেছি। এমনকি আমি বলেছি আমরা লজ্জিত।

সোমবার (১১ মার্চ) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নেতৃস্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে ‘কমিশনের কৌশলপত্র -২০১৯’ এর ওপর আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন দুদক চেয়ারম্যান।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, যেহেতু বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন, তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে সালেকের জায়গায় কিভাবে জাহালম আসামি হলেন, এ বিষয়ে কমিশন অভ্যন্তরীণভাবে জেলা জজ পদমর্যাদার এক জন কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত করছে। এ রিপোর্ট পেলেই সবকিছু জানা যাবে।

তিনি বলেন, দুদক গণমাধ্যমসহ সব অংশীজনদের মতামতের গুরুত্ব দিয়ে কমিশনের কর্মকৌশলের প্রফিলন ঘটাতে চায়।

আলোচকদের বক্তব্যের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, স্থানীয়ভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সংবেদনশীল করে তোলার জন্য কমিশন দেশব্যাপী গণশুনানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

গণশুনানি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), বিশ্ব ব্যাংক, জাইকা এবং কমিশনের নিজস্ব অর্থায়নে সম্পন্ন হচ্ছে জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ঢাকাতেও একইভাবে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক গণশুনানির ব্যবস্থা করার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনা করা হচ্ছে।

২০১৮ সালের কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে এক মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, কৌশলগত কারণেই ওই বছর কমিশনের কার্যক্রম কিছুটা স্তিমিত ছিল।

তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পুলিশ অনেক প্রশংসার কাজ করছে। পুলিশের সঙ্গে কমিশনের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তারা আমাদের সব কাজে সহযোগিতা করছে। তবে একথাও ঠিক তাদের বিভিন্ন স্তরের বেশকিছু কর্মকর্তার দুর্নীদির অভিযোগের অনুসন্ধান বা তদন্ত চলছে।

অর্থনৈতিক মুক্তি পেতে হলে সক্ষম এবং যুগোপযোগী মানবসম্পদের প্রয়োজন। সম্মানিত শিক্ষকরাই মানবসম্পদ গঠনের কারিগর। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষকদের জিম্মায় রেখেছি উল্লেখ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, শিক্ষকরা আমাদের ভবিষ্যতের জিম্মাদার। সক্ষম মানবসম্পদের অভাবেই বিলিয়ন-বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে। তাই কমিশন আইনি পরিকাঠামোর মধ্যে থেকেই শিক্ষার ব্যাপারে অধিকতর গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ব্যাংকের দুর্নীতি নিয়ে অবশেষে আলোচনা হচ্ছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের। তারা যদি সময় মতো নিরীক্ষা ও পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন করেন, তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই দুর্নীতি অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিগত তিন বছরে কমপক্ষে ১২০ জন ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আইন আমলে আনার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে। এ তালিকায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অনেক উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও ছিলেন। তিনি বলেন, বিগত তিন বছরে ৬ থেকে ৭ হাজার কোটি নগদ টাকা দুদকের কারণেই বিভিন্ন ব্যাংকে জমা হয়েছে।

বেতন বাড়ানোর সঙ্গে দুর্নীতির বিষয়টি সম্পৃক্ত হতে পারে, তবে খুব বেশি সম্পৃক্ত নয় জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, বিদ্যমান দুর্নীতির মূলে রয়েছে লোভ, অভাবের কারণে এখন খুব বেশি একটা দুর্নীতি হয় না। তাই আমি রূপক অর্থেই বলেছিলাম লোভের জিহ্বা কাটতে হবে।

হুন্ডির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণের অর্থ পাচার করা যায় না-জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দেশের সিংহভাগ অর্থ পাচার হয়ে থাকে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকিং চ্যানেলে। আমরা রাজস্ব বোর্ডের কাছে ওভার ইনভয়েসিংয়ের এক মাসের তালিক চেয়েছি।কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আমরা আজ পর্যন্ত এ তালিকা পাইনি। এ তালিকা পেলে প্রয়োজনে তালিকা ধরে আইনি ব্যস্থা নেওয়া হবে।

দুর্নীতি প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, গণমাধ্যম কমিশনের অকৃত্রিম বন্ধু এবং অংশীদার। অতীতে প্রতিটি ক্ষেত্রে কমিশন যেভাবে গণমাধ্যমের সমর্থন পেয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় অন্যন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, এএফ এম আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, জিটিভির নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা প্রমুখ।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top