বস্তির মাতাল ছেলেটি যেভাবে ‘চার্লি চ্যাপলিন’

-মাতাল-ছেলেটি-যেভাবে-‘চার্লি-চ্যাপলিন’.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট, Prabartan | আপডেট: ১৯:১৮, ০২-০৩-১৯

১৯১০-’১৩ সালের কথা। ইংল্যান্ডের নাচ-গানের দল ‌‘কার্নো কোম্পানী’ ঘুরে বেড়াচ্ছিল। লন্ডনের বিখ্যাত কার্নোর নেতৃত্ব গঠিত হয়েছিল দলটি। নাচ, গান, স্কেচ, প্যান্টোমাইন বা মূকাভিনয় সবই করতো তারা। কিন্তু বিদেশের মাটিতে গিয়ে দলটি কোনো আসর জমাতে পারছিল না। তাদের কমেডি কারো মনে রেখাপাত করতে পারলো না। কেননা, বিদেশি দর্শকদের এই শিল্প গ্রহণের মানসিক প্রস্তুতি ছিল না।

সেই কার্নো কোম্পানিতেই বড় হতে থাকলো অখ্যাত এক কিশোর ‘চ্যাপম্যান’, ‘ক্যাপলি’। পরবর্তীতে তিনিই হয়ে উঠলেন বিশ্বের বিখ্যাত মনীষী- ‘চার্লি চ্যাপলিন’। ১৯১০-১৩ সালের মধ্যে কোম্পানির হয়ে দু’বার চ্যাপলিন আমেরিকায় গিয়েছিলেন। সেখানে নিউইয়র্কের থিয়েটার হলে ‘অ্যা নাইট ইন ইংলিশ মিউজিক হল’ নামের কমেডিতে মাতালের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। যে চিত্রপরিচালক সেই মাতাল ছেলেটিকে দেখে আকৃষ্ট হয়েছিলেন- তিনি বিশ্বখ্যাত পরিচালক ডি ডব্লিউ গ্রিফিত-এর কৃতী ছাত্র ম্যাক সেনেট। ম্যাক সেনেটই আমেরিকার কমেডি সিনেমার দিকপাল।

ম্যাক সেনেট তখন কমেডি সিনেমা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিলেন। এই সময় চার্লি চ্যাপলিনকে ডাকলেন তার সঙ্গে কাজ করার জন্য। নানা সন্দেহ, সংশয় কাটিয়ে কার্নো কোম্পানি ছেড়ে চ্যাপলিন সেনেটের কাছে চলে যান। তখন তার বয়স ২৪ বছর। সপ্তাহে একশ পঁচিশ ডলার আয় করতে শুরু করলেন চার্লি চ্যাপলিন। ১৯১৩সালের ডিসেম্বর থেকে এই চুক্তি কার্যকর হলো। সেই থেকে শুরু। শিল্পের জগতে তিনি ধীরে ধীরে হয়ে উঠলেন অনন্য একজন।

অপরিণত বয়সের প্রেমিকা হেটিকেলি- চ্যাপলিনের শিল্পসৃষ্টির অন্যতম উৎস। ১৯২১ সালে সম্মানে ভূষিত হয়ে চ্যাপলিন কয়েক মাসের জন্য আমেরিকা থেকে স্বদেশে ফিরেছিলেন। এসে জানতে পারেন দুই বছর আগেই হেটিকেলি মারা গেছে।

হেটিকেলির স্মৃতি বহন করেছেন চ্যাপলিন। তার কথা বলেছেন বার বার। বলেছেন তার ছোটবেলার ট্রাজেডিও। মাতাল চরিত্রে অভিনয় করে ক্যারিয়ারে ঘুরে দাঁড়াবার উপলক্ষ্য পাওয়া চ্যাপলিন, ছোটবেলায় দেখেছেন অত্যাধিক মদ্যপানের দরুণ নিজের বাবার মৃত্যু। মৃত্যুর সেই রাতে ছোট্ট চ্যাপলিন সারারাত দাঁড়িয়েছিলো রাস্তায়, খোলা জানালার আলোটার দিকে তাকিয়েছিলো সে।

এরপর চ্যাপলিনের মামা শুরু করলেন সেলাইসের কাজ। অন্যদিকে লন্ডনের কেনিংটন বস্তিতে বেড়ে ওঠা চ্যাপলিন ভাইদের সঙ্গে খবরের কাগজ বিক্রি করতেন। একদিন বাড়ি ফিরে প্রতিবেশিদের কাছে জানতে পারেন, কারা যেন একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এসে তার মাকে তুলে নিয়ে গেছে।  এরপর সে আর তার ভাই সিডনি ঘুরে বেড়াতে লাগলো রাস্তায়, পার্কে।

প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর চ্যাপলিন যেখানেই তার ছোটবেলার কথা উল্লেখ করেছেন, সব যেন গভীরতর

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top