ফকিরহাটে চলতি বোরো আবাদ মৌসুমে বাম্ফার ফলনের সম্ভাবনা

01-03-2019.jpg

ফকিরহাট প্রতিনিধি, prabartan | প্রকাশিত: ২২:৫০, ০১-০৩-১৯

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে হাতে কলমে শিখনী ও সর্বক্ষনিক পরামর্শ এবং স্থানীয় কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে চলতি বোরো আবাদ মৌসুমে সর্বত্র বাম্ফার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এই আবাহওয়া অনুকুলে থাকলে বাম্ফার ফলন ঘরে তুলতে কৃষককুলের কোন সমস্যা থাকবে না। চলতি বোরো আবাদ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে এবারও বোরো আবাদ শুরু হচ্ছে। কৃষি বিভাগ নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে শতশত চাষিদের হাতে কলমে প্রশিক্ষন প্রদান করলেও তা কোন কাজে আসেনী। ফলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করা অনেকটা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ ইকরামুল কবির জানান, চলতি বোরো আবাদ মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৮৭টি গ্রামে মোট ৮হাজার ৫শত হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রীড ৭হাজার ৩শত হেক্টর এবং উপসী জাতের ধান ১২শত হেক্টর। জানা গেছে, বেতাগা ইউনিয়নে ৯৮০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে, এর মধ্যে ৮৮০ হেক্টর হাইব্রীড ও ১শত হেক্টর জমিতে উপসী জাতের, লখপুর ইউনিয়নে ৯৪৫ হেক্টর বোরো আবাদ হচ্ছে, এর মধ্যে ৮৮৫ হেক্টর জমিতে হাইব্রীড ও ৬০ হেক্টর জমিতে উপসী জাতের, পিলজংগ ইউনিয়নে ১২১৫ হেক্টর বোরো আবাদ হচ্ছে, এর মধ্যে ১০৩০ হেক্টর হাইব্রীড ও ১৮৫ হেক্টর উপসী জাতের, ফকিরহাট সদর ইউনিয়নে ১২৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে, এর মধ্যে ১০২৫ হেক্টর জমিতে হাইব্রীড ও ২৩০ হেক্টর জমিতে উপসী জাতের, বাহিরদিয়া-মানসা ইউনিয়নে ৯৫০ হেক্টর বোরো আবাদ হচ্ছে, এর মধ্যে ৮২০ হেক্টর জমিতে হাইব্রীড ও ১৩০ হেক্টর উপসী জাতের, নলধা-মৌভোগ ইউনিয়নে ৯০৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে, এর মধ্যে ৬৮০ হেক্টর জমিতে হাইব্রীড ও ২২৫ হেক্টর উপসী জাতের, মুলঘর ইউনিয়নে ৮৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে, এর মধ্যে ৬৮০ হেক্টর হাইব্রীড ও ১৫০ হেক্টর উপসী জাতের ও শুভদিয়া ১৩২৫ হেক্টর বোরো আবাদ হচ্ছে, এর মধ্যে ১২৪৫ হেক্টর হাইব্রীড ও ৮০ হেক্টর উপসী জাতের ধানের চাষ হচ্ছে।

উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন অফিসার নয়ন কুমার সেন জানান, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৭জন বিসিআইসির স্যার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া তারা সর্বক্ষনিক নিজ নিজ এলাকার কৃষকদের চাহিদা পূরন করতে সক্ষম হচ্ছেন। স্যারের কোন ঘাটতি আপাতত আমাদের এই উপজেলার কোথাও নাই। এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার ও পাচিং উৎসবের প্রর্বতক মোঃ নাছরুল মিল্লাত বলেন, ২০১৮সালের ডিসেম্বর মাসে ৩৩০জন কৃষক/কৃষানী, ২০১৯সালের জানুয়ারী মাসে ৩০জনকে, ফেব্রয়ারী মাসে ২শত জন-কে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষন প্রদান করা হয়েছে। এবং আগামী র্মাচ মাসে ১৫০জন কৃষক/কৃষানীকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষন দেওয়া হবে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন আমরা কৃষক/কৃষানীদের-কে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করার জন্য পার্চিং পদ্ধতিতে কীটনাশনের পরিবর্তে গাছের ডাল পুতে পাখি বসার ব্যাবস্থা করার পরার্মশ প্রদান করলেও কৃষকরা তার তোয়াক্কা করছেন না। ফলে আমাদের যে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ তা বাস্তবায়িত হচ্ছেনা। তিনি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করার জন্য সকল কৃষক/কৃষানী;ও প্রতি আহবান জানান। এব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বপন দাশ এর সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, আমরা খাদ্যে সহাংসম্পূর্ণতা অর্জন করলেও বাস্তবে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করতে পারছিনা। তিনি সকল কৃষকদের কীটনাশক মুক্ত পরিবেশে সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top