সুন্দরবনে ফের দস্যু বাহিনী সক্রিয়, এক সপ্তাহে ৯ বনদস্যু বন্দুকযুদ্ধে নিহত

.png

হারুন অর রশিদ, Prabartan | আপডেট: ২২:৫২, ২৮-০২-১৯

সুন্দরবনে ফের সক্রিয় হয়েছে বন দস্যুরা। আবারও বেড়েছে বনজীবিদের উপর নিপিড়ন, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়।

গত এক সপ্তাহে সক্রিয় বনদস্যু বাহিনীর প্রধানসহ ৯ জন সদস্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ও একজন গ্রেফতার হয়েছে। তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

সূত্র অনুযায়ি, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে র‌্যাবের সাথে বন্ধুকযুদ্ধে বনদস্যু আরিফ বাহিনীর প্রধানসহ ৪ দস্যু নিহত হয়েছে। সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের জোংড়া খালে র‌্যাবের সাথে বনদস্যু আরিফ বাহিনীর সদস্যদের বন্দুকযুদ্ধে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো আব্দুল আউয়ালের ছেলে মোঃ আলিম ওরফে আরিফ, আফজাল হাওলাদারের ছেলে রাজু, আলতাফ হাওলাদারের ছেলে সোহেল ও রুবেল। এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের দাকোপ অঞ্চলে কোস্টগার্ডের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আছাবুর বাহিনীর একজন সদস্য নিহত হয়। এ সময় সেখান থেকে ৪টি একনলা দেশী বন্দুক ও একরাউন্ড গুলি উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। একই দিনে র‌্যাব-৬ এর সদস্যরা খুলনার দাকোপে অভিযান চালিয়ে কামরুল ইসলাম মোড়ল নামের একজন বনদস্যুকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে ১টি দেশী তৈরি পাইপগান ও ৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সকালে সুন্দরবনের সাতক্ষিরা রেঞ্জের কলাগাছিয়া খালে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে বনদস্যু সাহেব আলী বাহিনীর প্রধান সাহেব আলী গাজী (৩৫) ও তার সহযোগী হাবিবুর রহমান ঢালী (২৮) নিহত হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দু’টি একনলা বন্দুক, একটি পাইপগান, ৩২ রাউন্ড তাজা গুলি ও সাতটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

সূত্র মতে, গত বছরের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সুন্দরবনকে আনুষ্ঠানিকভাবে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেন। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়াও এ ঘোষণার মধ্যদিয়ে শেষ হয়। কিন্তু দু’মাস যেতে না যেতেই আবারও সুন্দরবনে শুরু হয়েছে দস্যুতা।

জেলেরা জানায়, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণার পর থেকে কিছুদিন বনজীবীরা নির্ভয়ে সুন্দরবনে তাদের জীবিকা নির্বাহের কাজ করতে পেরেছেন। তবে দু’মাস যেতে না যেতেই ছোট ছোট কয়েকটি দস্যু বাহিনীর আবির্ভাব ঘটে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা, খুলনা ও চাঁদপাই রেঞ্জের কিছু এলাকায়। ফের শুরু হয় বনজীবীদের জিম্মি ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা। তবে র‌্যাব ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা থেমে থাকেনি। তারা নতুন এ সকল দস্যু বাহিনীর সন্ধানে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে অভিযান পরিচালনা করছেন। এরই অংশ হিসেবে গত এক সপ্তাহে ৯ জন বনদস্যু পৃথক অভিযানে নিহত হয়েছে।

সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালী, মৌয়ালরা জানান, জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে সুন্দরবনে জোনাব বাহিনী ও বড় মামা বাহিনী নামে দুটি দস্যু বাহিনী ফের সংগঠিত হয়েছে। তারা জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে চলেছে।

সূত্র মতে, দক্ষিণ অঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত পৃথিবীর একক বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে অবস্থিত এ বন দেশের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। সুন্দরবনকে ঘিরে এ সকল জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ যুগ যুগ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বর্তমান সরকারের ঘোষণা মোতাবেক ২০১৬ সাল থেকে সুন্দরবনের জলদস্যু-বনদস্যুদের আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড জোনাল কমান্ডার কার্যালয়ের অপারেশন কর্মকর্তা লেঃ মোঃ বায়েজিদ বলেন, সুন্দরবন অনেক বড় এলাকায় বিস্তৃত। এর সঙ্গে উপকুলীয় এলাকার বিশাল একটি জনগোষ্ঠী নির্ভরসীল। অনেকেই জেলে সেজে সুন্দরবনে ঢুকে দস্যুতায় জড়িয়ে পড়ছে। আমরা সব বিষয়ে অনুসন্ধানে নেমেছি। ছোট ছোট যে কয়েকটি দস্যু বাহিনী এ মুহুর্তে সক্রিয় রয়েছে তাদের নির্মুলে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, সুন্দরবনসহ বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় বনদস্যু, জলদস্যুদের দমনের লক্ষে র‌্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও বন বিভাগের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স রয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর পর্যন্ত ৩২টি বাহিনীর ৩২৮ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করে। এ সময় তারা ৪৬২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২২ হাজার ৫০৪ রাউন্ড গোলাবারুদ জমা দেয়।

 

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top