১০ ঘণ্টায় খুলনায় প্রাণ গেল ৫ জনের

.png

ডেস্ক রিপোর্ট, Prabartan | আপডেট: ২০:৩৯, ২৫-০২-১৯

 

খুলনায় ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক পৃথকভাবে ৫ জনের প্রাণ গেছে । এদের মধ্যে দুর্বৃত্তদের হাতে প্রাণ গেছে ১ জনের। বাকি ৪ জনের প্রাণ গেছে সড়ক দূর্ঘটনায়।

সোমবার সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১০ ঘণ্টায় এসব দূর্ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে সকালে খুলনার রূপসা উপজেলার পশ্চিম নন্দনপুর মজুমদার রাস্তার পাশ থেকে ইমরান বেয়ারা (৪০) নামের এক ভ্যানচালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ইমরান রূপসার শ্রীফতলা গ্রামের ইউসুফ বেয়ারার ছেলে। দুর্বৃত্তরা কেন  ইমরানকে হত্যা করেছে তা উৎঘাটনের চেষ্টা চলছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. আনিচুর রহমান (জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্বে)।

বেলা ১১টায় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় সড়ক দূর্ঘটনায় যশোরের কেশবপুরের ভরত ভায়না ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারী জাহিদুল ইসলাম নিহত হন।

স্থানীয়রা জানান, জাহিদুল মোটরসাইকেলযোগে যশোরের কেশবপুর থেকে চুকনগরের দিকে যাচ্ছিলেন। চুকনগরের পাশে নরনিয়ায় পৌঁছলে একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে ঘটে আরেক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনা। খুলনার ফুলতলার বেজেরডাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাস (রাজশাহী মেট্রো ব ১১-০০৩৮) ও প্রাইভেট কারের (ঢাকা মেট্রো গ ১৩-৬৮৭০ )সংঘর্ষে ২ চিকিসকসহ ৩ জন নিহত হন।

নিহতরা হলেন- মহানগরীর গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. শাহাদাত হোসেন, কিওর হোম জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক  ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন ও প্রাইভেট কারের চালক জাহাঙ্গীর হোসেন।

ফুলতলার বেজেরডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়কে এ দূর্ঘটনা ঘটে। খুলনাগামী গড়াই পরিবহন ও যশোরের নওয়াপাড়াগামী একটি প্রাইভেট কারের সংঘর্ষে সড়ক দূর্ঘটনাটি ঘটেছে।

সোমবারের এ দূর্ঘটনার সপ্তাহ দুই আগেও ঘটেছে বেশ কয়েকটি মর্মান্তির সড়ক দূর্ঘটনা। তখন চার দিনে খুলনার সড়কে প্রাণ যায় ৯ জনের।

১৩ ফেব্রুয়ারি (বুধবার ) পহেলা ফাল্গুলে যখন উৎসবে মেতেছিল সবাই তখন খুলনা মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আরিফুল ইসলাম আকাশের রক্তে সড়ক রঙ্গিন হয়েছিল।

১২ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার ) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ফুলতলার ১৪ মাইল এলাকায় সুপার জুট মিলের সম্মুখে রাস্তা পারাপারের সময় নওয়াপাড়াগামী অজ্ঞাত মোটর সাইকেলের ধাক্কায় সুপার জুট মিলের কর্মচারী লুৎফর রহমান সরদার (৬৮) নিহত হন।

১২ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার ) বেলা ৩টার দিকে খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে যশোর-খুলনা মহাসড়কে সরকারি বিএল কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কিশোর কুমার পাল (৫৫) ট্রাক চাপায়নিহত হন।

১১ ফেব্রুয়ার (সোমবার ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে খুলনার ডুমুরিয়ায় পিকনিকের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে খাদে পড়ে মেঘলা নামের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হন অন্তত ৩০ জন।

১০ ফেব্রুয়ারি (রোববার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে  খুলনার রূপসা সেতু বাইপাস সড়কে একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সংঘর্ষে গোপালগঞ্জের ছাত্র ও যুবলীগের পাঁচ নেতা নিহত হন। লবণচরা থানার সামনে খাজুর বাগান নামকস্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এক বিশ্লেষনে দেখা গেছে, খুলনায় সম্প্রতি সময়ে যে পরিমাণ সড়ক দূর্ঘটনা ঘটছে তা অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম ইকবাল হোসেন বিপ্লব বলেন, কোনোমতেই থামানো যাচ্ছে না সড়ক-মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল। প্রতিদিনই ঝরছে তাজা প্রাণ। সম্প্রতি সময়ে খুলনার সড়কে যে পরিমাণ প্রাণ গেল তা অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। সড়ক দূর্ঘটনা বন্ধ না হলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যাও আরও বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, চালকদের বড় অংশই যে অদক্ষ, অপ্রশিক্ষিত, লাইসেন্সবিহীন, প্রতিযোগিতাপ্রবণ এবং ট্রাফিক আইন বেতোয়াক্কাকারী, সেটা বার বার পর্যবেক্ষণ, সমীক্ষা ও গবেষণায় উঠে এসেছে। এরপরও এদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা আজ পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা ও তাতে হতাহতের ঘটনা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে।

 

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top