শিমলাকে স্ত্রী পরিচয়ে বাড়ি নিয়েছিলেন পলাশ

Mahibee-Jahan20190225143225.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট, Prabartan | আপডেট: ১৪:৪৫, ২৫-০২-১৯

 

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্লেন ‘ময়ূরপঙ্খী’ ছিনতাইচেষ্টাকারী পলাশ আহমেদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন তার বাবা পিয়ার জাহান সরদার। পলাশ ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে ‘শিমলা নামে এক চিত্রনায়িকাকে স্ত্রী’ পরিচয়ে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার আগে র‌্যাবের পক্ষ থেকে এক বার্তায় ছিনতাইচেষ্টাকারীর নাম-পরিচয় জানানো হয়। এতে বলা হয়, নিহত সন্ত্রাসী র‌্যাবের অপরাধী ডাটাবেজের অন্তর্ভুক্ত। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার পিরিজপুরের দুধঘাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার বাবার নাম পিয়ার জাহান সরদার।

পরে দুধঘাটায় পিয়ার জাহান সরদারের বাড়িতে গিয়ে আলাপ করে পলাশের পরিচয় নিশ্চিত হয়ছে।

পিয়ার জাহান জানান, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের এক রাতে শিমলাকে নিয়ে বাড়িতে আসেন পলাশ। শিমলাকে চিত্রনায়িকা জানিয়ে নিজের প্রেমিকা বলে মা-বাবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।। এ নিয়ে বাবার সঙ্গে পলাশের ঝগড়া হয়। দুই ঘণ্টা ঝগড়াঝাটি হলেও পিয়ার জাহান এ সম্পর্ক মানেননি বলে পলাশ চলে যান শিমলাকে নিয়ে।

আড়াই মাস পর ফের এনে পরিচয় করিয়ে দেন স্ত্রী হিসেবে। তখনো বাবার সঙ্গে পলাশের ঝগড়া হয়। এরপর ফের ঢাকায় চলে যান। যাওয়ার সময় শিমলাকে পিয়ার জাহান বলেন, ‘বিয়ে যখন করে ফেলেছো, ছেলেকে সুপথে ফিরিয়ো এনো, খেয়াল রেখো।’

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিমলা ও পলাশের ঘনিষ্ঠ এক চিত্রপরিচালক জানিয়েছেন, ছবি দেখে চেনা গেছে তাকে (পলাশ)। তিনি প্রযোজক ও অভিনেতা হিসেবে কাজ করছিলেন। তবে তিনি নিজেকে পরিচয় দিতেন ‘মাহিবি জাহান’ নামে। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে ‘কবর’ নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও রয়েছে। এটি অনলাইনে প্রচার হয় ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর।এ ব্যাপারে যোগাযোগ করতে চিত্রনায়িকা শিমলার নম্বরে কল করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ওই পরিচালক বলেছেন, ‘শিমলা সম্ভবত ভারতে রয়েছেন। সেজন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।’

অবশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘মাহিবি জাহান’ অ্যাকাউন্টে শিমলার সঙ্গে নিহত ‘পলাশ’র বেশ কিছু যুগল ছবি দেখা যায়। সেই অ্যাকাউন্টে শেষ স্ট্যাটাস দেখা যায়, ‘ঘৃনা নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে।’

রোববার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিমানের চট্টগ্রাম থেকে দুবাইগামী বিজি-১৪৭ ফ্লাইটটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে পাইলট তা শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান।

খবর পেয়ে দ্রুতই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। আর রানওয়েতে অবস্থান করা প্লেনটি ঘিরে রাখে পুলিশ, র্যাব ও সেনা কমান্ডোর সদস্যরা। পরে কমান্ডো অভিযানে নিহত হয় ছিনতাইচেষ্টাকারী।

অভিযানের পর চট্টগ্রাম সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল মতিউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ছিনতাইকারীর বয়স ২৫-২৬ বছর। ক্রু’কে সে তার নাম ‘মাহাদী’ বলে জানিয়েছে।

তবে সোমবার সকালে র‌্যাব জানায়, নিহত ব্যক্তি র‌্যাবের অপরাধী ডাটাবেজের অন্তর্ভুক্ত। সে তালিকা অনুযায়ী তার নাম মো. পলাশ আহমেদ।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top