নগরীতে কেএমপির সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যহত

.png

নিজস্ব প্রতিবেদক, prabartan | প্রকাশিত: ২৩:39, ২৫-০২-১৯

 

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) মাদকবিরোধী অভিযানে চলতি মাসের তিন সপ্তাহে ১৮১ মাদক কারবারী ও মাদকসেবীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় ইয়াবা, ফেনসিডিল, দেশি মদ ও গাজাসহ বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৬১১ জনকে। একই সময়ে বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান দালালমুক্ত করতে চালানো হয়েছে একাধিক সাড়াঁশি অভিযান। সড়ক শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে কেএমপির ট্রাফিক বিভাগ হার্ডলাইনে রয়েছে, চলছে নিয়মিত অভিযান, আইন লংঘনকারী কাউকেই ছাড় দেয়া হচ্ছে না। নগরীর আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে জোরদার করা হয়েছে পুলিশী টহল, নগরীর প্রবেশমুখ সমূহে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট।

কেএমপি’র ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম (বিপিএম-সেবা) দায়িত্ব গ্রহণের পর মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেন। তার নেতৃত্ব ও নিবিড় তত্বাবধায়নে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের অব্যাহত অভিযানে একদিকে যেমন মাদক ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রনে সফলতা মিলছে, অন্যদিকে চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা ও ব্যবসায়িরা আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই এলাকা ছেড়েছে। মাদক বিরোধী অভিযান শুরুর প্রথমেই তিনি নগরীতে মাদক প্রবেশের সকল রুটে চেকপোস্ট স্থাপন করে মাদক প্রবেশের সকল পথ বন্ধ করে দেন। এরপর পুলিশী টহল জোরদার করে নিয়মিত অভিযানের সংখ্যা বাড়িয়ে দেন। পাশাপাশি কেএমপির সকল ইউনিটকে নির্দেশ দেন, ‘অপরাধী যেই হোক, কোনো ছাড় নয়’। অনেক অভিযানে সরাসরি তিনি নেতৃত্ব দেন। তার কঠোর নির্দেশনা ও বুদ্ধিদিপ্ত দক্ষ নেতৃত্বের ফলে খুব অল্প সময়েই অভিযানসমুহে সফলতা মিলতে শুরু করে। পুলিশের সফলতায় নগরবাসিও স্বস্থির নিশ্বাস ফেলেন। তারা স্বাগত জানান অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের। অন্যদিকে কেএমপির ট্রাফিক বিভাগের কঠোর অভিযানের কারণে নগরীর সড়কে অনেকটাই শৃংখলা ফিরে এসেছে। হেলমেটছাড়া মোটর সাইকেল চালকের সংখ্যা প্রায় শুন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। অবৈধ যান চলাচলও হ্রাস পেয়েছে। বেপরোয়া যান চলাচলও নিয়ন্ত্রিত হয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) সূত্রে জানা গেছে, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গত তিন সপ্তাহে  মহানগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকবিক্রেতা ও মাদকসেবী ১৮১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে এক হাজার ১৭৮ পিস ইয়াবা, তিন কেজি ১৯০ গ্রাম গাঁজা, ৪৮ বোতল ফেনসিডিল, ২৫৫ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া গত তিন সপ্তাহে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাভূক্ত ৬১১ জন আসামীকে গ্রেফতার পূর্বক আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। একই সময় হাসপাতাল, পাসপোর্ট অফিস ও বিআরটিএ অফিসে অভিযান চালিয়ে ২২ জন দালালকে গ্রেফতার করা হয়।  কেএমপি’র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (আরসিডি) শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু জানিয়েছেন, মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাভূক্ত পলাতক আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে। তাছাড়া সরকারি হাসপাতাল, পাসপোর্ট অফিস ও বিআরটিএ অফিসসহ বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান দালালমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এসকল অভিযান অব্যহত থাকবে।

কেএমপি ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম (বিপিএম-সেবা) বলেন, খুলনা মহানগরীকে একটি মডেল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করা আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। মাদক ও সন্ত্রাস দমনে যা যা করণীয়, আমরা তাই করবো। এক্ষেত্রে কাউকে কোনো ছাড় নেই।  আশা করি মাদক নির্মূলে আমরা সফল হবো।

 

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top