ভাইরাল হওয়া এই ছবিটি আসলে চকবাজারের নয়

fake-mother-child.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট, Prabartan | প্রকাশিত: ১২:৫৩, ২৩-০২-১৯

 

সন্তানকে জড়িয়ে রয়েছেন মা, দুজনেই কালি মাখা। শুক্রবার (২২ ফেব্রুয়ারি) এই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেকেই ছবিটিকে চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া ছবি বলে শেয়ার করছেন। কিন্তু মা ও সন্তানের এই ছবি চকবাজারের নয়। এটি ২০১০ সালে কসমস জার্নালের বসন্ত/গ্রীষ্ম সংখ্যায় ‘চিলড্রেন অব দ্যা ব্ল্যাক ডাস্ট, চাইল্ড লেবার ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামের এক প্রতিবেদনে প্রথম ব্যবহৃত হয়।

ছবিটি তুলেছিলেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী শেহজাদ নুরানী নামের এক আলোকচিত্রী।

‘কসমস’ এই ছবিটিসহ আরও কিছু ছবি প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ আশেপাশের গড়ে ওঠা কারখানা ও ওয়ার্কশপে হাজার হাজার নারী ও শিশু শ্রমিকের কথা জানায়। সেখানে বলা হয়, শ্রমজীবী নারী এবং শিশু শ্রমিকরা পুরনো ব্যাটারির কারখানায় সামান্য পারিশ্রমিকে কাজ করে পুরাতন ব্যাটারিকে ভেঙে ফের ব্যবহার উপযোগী করে তোলার জন্য।

মূল ছবি ও প্রতিবেদন

নারী এবং শিশুরা দিনভর এসব জায়গায় পুরনো ব্যাটারি থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ করে থাকেন। পরবর্তীতে এগুলো কারখানায় পাঠানো হয় পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করে তৈরি করার জন্য।

যখন ব্যবহৃত ব্যাটারি ভাঙা হয় তখন যেসব শিশু শ্রমিক এগুলো ভাঙে বা শ্রমজীবি মায়ের সাথে এসে খেলাধুলা করে তখন অসংখ্য কার্বনযুক্ত ধুলা তাদের শ্বাসনালী দিয়ে প্রবেশ করে। তাদের মুখমন্ডলসহ পুরো শরীর মেখে যায় কালো কার্বনে।

এসব কাজের জন্য তারা পর্যাপ্ত টাকায় পায় না বলে কসমস উল্লেখ করেছে। এক ডলার আয় করতে হলে শিশু শ্রমিকদের চার থেকে পাঁচদিন কাজ করতে হয়।

কসমসের পাশাপাশি ম্যাগাজিন ডট জেএইএসপিএইস এবং পিন্টারেস্ট ডট কম কালিমাখা মা ও শিশুর ছবিটি প্রকাশ করে।


বুধবার রাত ১০টা ৩৮ মিনিটে চকবাজারের নন্দ কুমার দত্ত রোডের শেষ মাথায় মসজিদের পাশে ৬৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের ওয়াহিদ ম্যানসনে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আরো কয়েকটি ভবনে। এ ঘটনায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

 

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top