পুটি বালার কথা কেউ রাখেনি!

Puti-Bala-pic-1-23-02-2019.jpg

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, prabartan | প্রকাশিত: ২০:১৪, ২৩-০২-১৯

 

এক সময় যার সুখের সংসার ছিলো। কখনো কারো কাছে হাত পাততে হয়নি আজ তিনি মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পেতে নিজের সংসার চালান। বয়সের ভারে নূয়ে পড়েছেন ৭৭ বছর বয়সের পুটি বালা। এখন আর ঠিকমত চলাফেরাও করতে পারেন না। চেগি দাসী নামের এক কন্যা সন্তান আছে তার। চেগির স্বামী ভাটপাড়া গ্রামের জগেন দাস রাজমিস্ত্রীর কাজ করে কনো মতে তিন সন্তানের সংসার চালায়।

পুটি বালার স্বামী মারা গেছে প্রায় ২৫ বছর আগে তখন থেকেই দেখার মত কেউ নেই তার। ২৫ বছর আগে স্বামী মারা গেলেও তার ভাগ্যে জোটেনি একটি বিধবা ভাতা কার্ড। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ১নং সুন্দরপুর-দূর্গাপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ছোটভাটপাড়া গ্রামের ছোট ভাই জিতেন দাসের ছোট্ট একটি কুড়ে ঘরে বসবাস করেন পুটি বালা।

চলতে পথে এই বয়স্ক মানুষটি বললেন আমার একটা বয়স্ক অথবা বিধবা ভাতা কার্ড করে দাও না বাবা, আর কত বয়স হলে আমি বয়স্ক / বিধবা ভাতা কার্ড পাবো ? সবাই শুধু কথা দেয় কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। বৃদ্ধা পুটি বালার ছোট ভাইয়ের বউ সরলা দাস জানান, একটি বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য কত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে কিন্তু কেউ একটি কার্ডও করে দেয়নি।

তিনি আরও বলেন কার্ড করে দেবার কথা বল্লে টাকা চায় কিন্তু টাকা কোথায় পাবো ? কে টাকা চায় জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। পুটি বালা বলেন বয়স্ক ভাতা কার্ড করে দেবার কথা বলে অনেকে কথা দিয়েছে কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। গত কয়েক বছর আগে তার এলাকার এক জনপ্রতিনিধি ৩ হাজার টাকা দাবি করেছিল। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় তাকে কার্ড করে দেয়া হয়নি। প্রকৃত বয়স্ক ও বিধবাদের কার্ড দেবার সরকারি নিয়ম থাকলেও পুটি বালা এখনো সেই নিয়মের মধ্যেই পড়েনি বলে মনে হয়। ছোটভাটপাড়া গ্রামের পুটি বালার ৭৭ বছর বয়সেও জোটেনি একটি বয়স্ক বা বিধবা ভাতা কার্ড। নিরুপায় হয়ে আজ তিনি মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পেতে বেড়াচ্ছেন। পুটি বালা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, অনেক দিন না খেয়ে থাকতে হয় তাদের। তার ভাই বাঁশ দিয়ে তৈরী বিভিন্ন ধরনের জিনিস বানায় তাতে তার তিন সন্তানের সংসার ঠিক মতো চলে না তার উপর আবার পুটি বালা বোঝা হয়ে আছে । কোন উপায় না পেয়ে পুটি বালা এখন ভিক্ষা করে। তার উপর আবার ভাই জিতেনের মাজার হাড় খাওয়া রোগ আছে।

নাম প্রকাশ না তরার শর্তে এক ব্যক্তি জানান, আমরা আগের ও বর্তমান চেয়ারম্যান ও মেম্বরদের কাছে পুটি বালার জন্য একটি কার্ড করে দেবার কথা বলেছি। সবাই বলে, করে দিব। কিন্তু আজ পর্যন্ত এই বয়স্ক মানুষটাকে কেউ একটা কার্ড করে দিতে পারলো না।

৮নং ওয়ার্ডের ছোটভাটপাড়া গ্রামের কাদের মেম্বর জানান, আমি তাদের ১০ টাকা কেজি চাউলের আওতায় এনে দিয়েছি। পরবর্তীতে পুটি বালার বয়স্ক অথবা বিধবা ভাতা যে কোনো একটি কার্ড করে দিবো।

এ ব্যাপারে ১ নং সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইলিয়াস রহমান মিঠু জানান, এবার যখন বয়স্ক / বিধবা ভাতা কার্ড বন্টন করা হয় তখন আমি রাজনৈতিক মামলায় জেলে ছিলাম প্যানেল চেয়ারম্যান এই কার্ড গুলি বন্টন করেছে। তবে আমি আগামিতে পুটি বালাকে বয়স্ক অথবা বিধবা ভাতা যে কোনো একটি কার্ড করে দিবো।

 

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top