দূষণে জলজ প্রানী ও দখলে অস্তিত্ব সংকটে খুলনার নদীসমুহ

DSC_7870.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক, prabartan | প্রকাশিত : ১২:১৬, ১৯ ০২-১৯

অস্তিত্ব সংকটে নদী দূষণে নগরীর পাশ দিয়ে প্রবাহিত ময়ুর নদ। এছাড়া রাসায়নিক বর্জ্য, কঠিন বর্জ্য ও মানব বর্জ্য বিষাক্ত করে তুলেছে ভৈরব ও রুপসা নদীর পানি।

খুলনা মহানগরীর তিন দিক রূপসা, ভৈরব, ময়ূর ও কাজীবাছা নদী দ্বারা বেষ্টিত। এর মধ্য রূপসা ও ভৈরবের দুই তীরে রয়েছে অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের রাসায়নিক বর্জ্য প্রতিনিয়ত নদীর পানিতে মিশছে। ফলে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি। প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে নদীর পানির দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা। অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় জলজ প্রানীও অস্তিত্ব সংকটে পড়ে গেছে। এমনকি ময়ুর নদে জলজ প্রানী একেবারে বিলুপ্ত। অপরদিকে নদীগুলো দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে ভূমিদস্যু ও কতিপয় রাজনৈতিক নেতাকর্মি। দূষণ ও দখলে নদীগুলো অস্তিত্ব সংকটে থাকলেও বিভাগীয় শহর খুলনা নেই কোন নদী গবেষনা ইনষ্টিটিউট।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রমতে, প্রতিমাসে পরিবেশ অধিদপ্তরের কেমিস্ট শাখা থেকে নদীর পানি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায় রূপসা ,কাজিবাছা ও ভৈরব নদের পানির লবনাক্ততা ও অক্সিজেনের পরিমান কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ময়ূর নদের পানিতে অক্সিেেজনের পরিমান অত্যাধিক কম। লবনাক্ততার পরিমানও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। পরিবেশ অধিদফতরের সিনিয়র কেমিষ্ট মোঃ কামরুজ্জামান সরকার জানায় ,নদীর পানিতে সাড়ে ৪ মিলিগ্রামের ওপরে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা থাকতে হবে।খুলনার রূপসা, ভৈরব ও কাজীবাছা নদীতে খুব বেশি অস্বাভাবিক না থাকলেও ময়ুর নদে দ্রবীভূত অক্সিজেনে মাত্রা অস্বাভাবিক হারে কম। তিনি আরো বলেন পানি প্রবাহের মাত্রা কমে গেলে দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। গত আগষ্ট মাসের গবেষনায় দেখা যায় রূপসা নদীতে ৫.৩ মিলিগ্রাম, ভৈরব নদে ৫.৪ মিলিগ্রাম পর্যন্ত অক্সিজেনের মাত্রা থাকলেও ময়ূর নদে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা মাত্র ১.২ । অনুসন্ধানে জানা যায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়া কারখানার বর্জ্য শোধন করে রূপসা নদীতে ফেলার নিয়ম থাকলেও খরচ বাঁচাতে অনেক প্রতিষ্ঠানই সে নিয়ম মানছে না। ফলে মাছ ও জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক বেঁচে থাকার পরিবেশ বিঘিœত হওয়ার পাশাপাশি মৎস্য পোনার নার্সারি গ্রাউন্ড ধ্বংস হচ্ছে। এছাড়া ভৈরব ও রূপসা নদীর দুই তীরে রয়েছে বেশ কয়েকটি পাটকল। এসব প্রতিষ্ঠানের বর্জ্যও মিশে যাচ্ছে নদীর পানিতে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও ম্যাচ ফ্যাক্টরির রাসায়নিক বর্জ্য নদীতে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। কেসিসির ২২ খাল ও কয়েকশ’ ড্রেনের পানি কোন ধরনের শোধন ছাড়াই ড্রেনের মাধ্যমে সরাসরি গড়িয়ে পড়ছে নদীতে। এছাড়া নদী তীরে রয়েছে অসংখ্য ঝুলন্ত পায়খানা। এসব ঝুলন্ত পায়খানা থেকে নির্গত মানব বর্জ্য, শত শত ড্রেন ও নালা-নর্দমা থেকে বেয়ে আসা ময়লা-আবর্জনা বিষাক্ত করে তুলছে নদীর পানিকে। অপরদিকে ময়ূর ও রূপসা, কাজিবাছা ও ভৈরব নদের দুই তীর দখল করে গড়ে ওঠেছে একাধীক ব্যাবসা প্রতিষ্টান , ইট বাটা সহ বিভিন্ন শিল্প ভবন। উল্লেখ্য কেসিসির সম্প্রিতি নদী দখলদারিদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থার উদ্যেগ নিলে নড়েচড়ে বসছে দখলদারি কতিপয় ভূমিদস্যুরা।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এম রাকিব উদ্দিন বলেন বর্জ্য নিষ্কাষন খুলনা নদী দূষণের অন্যতম কারন। খুলনা অঞ্চলের নদীগুলো ঘিরে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন শিল্প কারখানা । এই শিল্প প্রতিষ্টানগুলোর শিল্প বর্জ্যই নদী দূষণের অন্যতম কারন। তিনি আরো বলেন শহরের মধ্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোল ঘেষে গড়ে ওঠা ময়ুর নদীকে তো খাল ও বলা যায় না। নদীটির অস্তিত্ব পুরোপুরি বিপন্ন যার প্রধান কারন নগরীর ড্রেনগুলো থেকে বর্জ্য নিষ্কাষন হওয়া। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন খুলনা বিভাগীয় শহর হলেও নেই এখানে কোন নদী গবেষনা ইনষ্টিটিউট।
পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক মোঃ হাবিবুল হক খান বলেন , ড্রেন ও নালা-নর্দমার ময়লা-আবর্জনা ও দূষিত পানি নদীতে গিয়ে পড়ায় নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন সাধারন নাগরিক তেকে শুরু করে সব স্তরের মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে কিছুটা হলেও নদি দূষন রোধ হবে। নদীর পাশে গড়ে ওঠা শিল্প কারখানার ব্যাপারে বলেন নদীর পাশের বেশ কিছু প্রতিষ্টান রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান।

 

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top