আরএডিপিতে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব

-সরকারি-বরাদ্দ-বাড়ানোর-প্রস্তাব.jpg

আরএডিপিতে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব

ডেস্ক রিপোর্ট, Prabartan | আপডেট: ১৮:৪৮, ১৭-০২-১৯

 

প্রস্তাবিত সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) সরকারি (জিওবি) খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিপরীতে প্রকল্প সাহায্য কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ও প্রস্তাবিত সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) তুলনামূলক চিত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।

রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল গত ৭ মাসে এডিপির বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রস্তাবিত আরএডিপিতে জিওবি খাতে ২৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা (২৫ শতাংশ) বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রকল্প সাহায্য খাতে ৯ হাজার কোটি টাকা (১৫ শতাংশ) কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল এডিপি বরাদ্দের তুলনায় মোট ১৯ হাজার ৬৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। যা মোট এডিপি বরাদ্দের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে এডিপিতে ১ হাজার ৪৫১ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন (জিওবি) ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প সাহায্য ৬০ হাজার কোটি টাকা এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা/কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নের পরিমাণ ৭ হাজার ৮৬৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এ অর্থবছরে এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত মোট প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৪৫১টি।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, অধিকাংশ মন্ত্রণালয়/বিভাগ প্রকল্প সাহায্য খাতে বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব করেছে। ৫৮টির মধ্যে ৩৫টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ জিওবি খাতের প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে।

জিওবি খাতে উল্লেখযোগ্য হারে বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে এ রকম মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২ হাজার ৪৫৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, স্থানীয় সরকার বিভাগ ৪ হাজার ৬৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ২ হাজার ৪৫৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ২ হাজার ৬২৪ কোটি ৯ লাখ টাকা, বিদ্যুৎ বিভাগ ৩ হাজার ৮১৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ২ হাজার ২৯৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ২ হাজার ২৪৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, সুরক্ষা সেবা বিভাগ ১ হাজার ৪৫৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, জননিরাপত্তা বিভাগ ১ হাজার ৩৫৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ১ হাজার ৬০২ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ১ হাজার ১৫৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

অন্যদিকে ২৩টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ জিওবি খাতে প্রায় ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় ১ হাজার ৩০০ কোটি ৮৬ লাখ, সেতু বিভাগ ২ হাজার ৫৩৬ কোটি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩০০ কোটি ২৪ লাখ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ২৬৪ কোটি ৪ লাখ, ভূমি মন্ত্রণালয় ২১০ কোটি ৪৪ লাখ এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ ১৭৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা কমানোর প্রস্তাব করেছে।

এ বিষয়ে কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান বলেন, ‘প্রতি বছরই কেউ ভালো পারফর্ম করে, কেউ বিভিন্ন কারণে আটকে যায়। এ জন্য আমাদের এডজাস্ট (সামঞ্জস্য) করতেই হয়। আজকে যারা একটু পিছিয়ে আছে বলে মনে হচ্ছে, তারা কথা দিয়েছে, তাদের কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে। সর্বোপরি আমরা সন্তুষ্ট।’

 

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top