মধ্য রাতেও ক্রেতাদের সমাগম খুলনার ফুল মার্কেটে

IMG_0320.jpg

সৌন্দর্যের প্রতীক ফুল। আর এই ফুলকে ভালোবাসে না এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। ভালোবাসা ভালোলাগার সঙ্গে ‘ফুল’ নামক উপকরণটা অঙ্গাঙ্গীভাবেই জড়িত। “বিশ্ব ভালোবাসা দিবস” বা “ভ্যালেন্টাইন ডে” সারাবিশ্বের কোটি কোটি প্রেমিকযুগলের জন্য পরম আকাঙ্ক্ষিত একটি দিন। অপরদিকে পাখির ডাক আর ফুল ফুটার আকুলতা নিয়ে আমাদের দ্বারে ঋতুরাজ বসন্ত ফাল্গুনের আগমন ঘটেছে একই দিনে।

বর্ণিল ফুলের রঙে বাঙালি মাতবে ভালোবাসা ও ফাগুন উৎসবে। এ দিন বাদ যাবে না রক্তের সম্পর্কও। শহর থেকে গ্রামে বিরাজ করবে উৎসবের আমেজ। বাহারি রঙের ফুলে ভরে উঠবে চারদিক। ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুনকে সামনে রেখে খুলনায় বাণিজ্যিক ফুলের দোকান ছাড়াও অলিতে-গলিতে ফুলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন অনেকেই। দিবসকে উপলক্ষে মাত্র একদিনের জন্য ফুল বিক্রেতা তারা। দিনটিতে কেন্দ্র করে যেহেতু বেড়ে যায় ফুলের চাহিদা তাই এই চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে ফুলের দাম কয়েকগুন বাড়িয়ে দেন বিক্রেতারা।

খুলনা মহানগরীর ফারাজিপাড়া রোডের ঐতিহ্যবাহী ফুলবাজারটি বৃহস্পতিবার মধ্যে রাতেও ছিলো ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারনায় মুখরিত। বিক্রেতারা ঢালি সাজিয়ে বসেছেন গোলাপ, রজনী গন্ধা, জিপসি, গ্লাডিয়া, জারবারাসহ নানা রঙের বাহারী ফুলের।

তবে সুযোগ বুঝে দোকানীরা ফুলের দাম কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন দোকানিরা। ৫ থেকে ১০ টাকার গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়। ফুলের তোড়া প্রতিটি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রজনীগন্ধা প্রতিটি ২০ থেকে ৪০ টাকা, গ্যালোডিয়াস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মেয়েদের সাজের জন্য পাহাড়ি ব্যান ১৫০ টাকা, গজরা ১০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

খুলনার নিউ স্বর্ণা চাঁপা ফুল দোকানের মালিক শেখ মফিজুর রহমান তুষার বলেন, চাহিদা থাকায় দাম একটু বেড়েছে। তবে তা সাধ্যের বাইরে নয়। প্রিয়জনকে ভালবাসা জানাতে সব বয়সী মানুষ উচ্ছ্বাসের সাথে ফুল সংগ্রহ করছেন। ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে রাস্তার মোড়ে ফুলের দোকানের পসরা সাজিয়ে বসেছেন অনেকেই বেঁচাকেনাও চলছে খুব ভালো এমনটা জানিয়ে ফুল বিক্রেতারা বলেন, এই বেঁচাকেনা ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও ফাগুনের প্রথম দিন হওয়ায় সকাল থেকে আরও অনেকগুন চাহিদা বাড়বে।

১৪ ফেব্রুয়ারি (পহেলা ফাল্গুন) উপলক্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করা হয়েছে। খুবির বাংলা ডিসিপ্লিনের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আশিক বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারো আমারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। এর মধ্যে সকাল ৮ টায় শোভা যাত্রা, পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিকেল ৪ টায় পুনরায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সন্ধ্যায় ‘এই দিন সেই সময়’ নামক নাটক মঞ্চস্থ করা হবে।

দিনটির নিরাপত্তায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। কেএমপি’র উপ-কমিশনার মনিরুজ্জামান মিঠু (আরসিডি) বলেন, এই দিন উপলক্ষে কেএমপির পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। যাতে কোন প্রাকারের অনাকাঙ্খিত ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে সজাগ থাজকে পুলিশ ও গোয়েন্দারা।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।