খায়রুজ্জামানকে দ্রুত ফেরানো নিয়ে আত্মবিশ্বাসী শাহরিয়ার আলম

alam-20220214155936.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : মালয়েশিয়ায় আটক বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার এম খায়রুজ্জামানকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফেরত আনতে পারবেন বলে আত্মবিশ্বাসী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। তাকে ফেরাতে প্রয়োজন হলে সরকার জাতিসংঘের সঙ্গেও আলাপ করবে বলে জানান তিনি।সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কয়েকজন সাংবাদিকের মুখোমুখি হয়ে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে এ ব্যাপারে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করতে চাইছি না বা এটা ঠিক হবে না। কারণ খায়রুজ্জামান এবং তার পরিবার বিএনপি-জামায়াত যেভাবে তাদের রাজনীতি পরিচালনা করে এসেছে, তারা অনেক কিছু এনগেজড করার চেষ্টা করেছে। মালয়েশিয়ার সরকার এবং তাদের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক সেটার ওপর ভিত্তি করে আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে আমরা ফেরত পাব।

সাবেক এ হাইকমিশনারকে ফেরানোর জন্য যথেষ্ঠ তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, যেগুলো আইনি প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে বলে জানান শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব শেষে তাকে হেড কোয়ার্টারে ফেরত আসতে বলেছিল। কিন্তু তিনি আসেননি। পরে তার বিরুদ্ধে অনেক অডিট আপত্তি আসে। অর্থনৈতিক কিছু ইস্যু আছে, সেগুলো তিনি রিজলভ করেননি। এ ধরনের অনেক কিছু আছে যেগুলো যথেষ্ট একটা লিগ্যাল প্রসেসকে আরও শক্তিশালী করার জন্য।

আরও পড়ুন : ৮৫ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

খায়রুজ্জামানকে ফেরাতে প্রয়োজন হলে জাতিসংঘের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে বলেও জানান প্রতিমিন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অপরাধীকে তো অবশ্যই একটা রিফিউজি স্ট্যাটাস দিয়ে রেখে দেওয়া যৌক্তিক নয়। প্রয়োজন হলে আমরা জাতিসংঘকেও জানাব এবং আমরা বিশ্বাস করি তাদেরকে বোঝাতে পারব। কারণ তার রিফিউজি স্ট্যাটাস দরকার নেই। রিফিউজি কারা হন, একজন সাধারণ ও সবল মানুষ; আর্থিকভাবে স্বচ্ছল মানুষ কখনও রিফিউজি হতে পারেন না। তাহলে তো সব অপরাধী কোনো না কোনো দেশে গিয়ে স্ট্যাটাস চাইবে। এটা যৌক্তিক না। আমরা প্রয়োজনে সেটা জাতিসংঘকে ব্যাখা করব।’

প্রয়োজন পড়লে তাকে ফেরাতে সরকার কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যাবি কি না- জানতে চাইলে শাহরিয়ার আলম বলেন, এটার প্রয়োজন নেই। কারণ এটা দুটি রাষ্ট্রের মধ্যকার বিষয়। মালয়েশিয়া সরকার এটাতে রাজি আছে।লবিস্ট নিয়োগ প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে তাদের দলের নেতাকর্মীরা একটা কাগজ ধরিয়ে দিয়ে খুশি করার চেষ্টা করেছেন। সেটাও তার দলের একজন পদধারী নেতার প্রতিষ্ঠান।

এরকম কাজতো তারা অনেক করেন বিভিন্ন জায়গায়।মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশ গত বুধবার বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম খায়রুজ্জামানকে আটক করে। তাকে দেশটির সেলাঙ্গর প্রদেশের আমপাং এলাকা থেকে আটক করা হয়। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন শেষে এক যুগের বেশি সময় ধরে দেশটিতে শরণার্থী হিসেবে অবস্থান করছেন তিনি।

খায়রুজ্জামান সাবেক সেনা কর্মকর্তা। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন তিনি। ওই হত্যাকাণ্ডের পর তার চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি মিয়ানমার, মিশর ও ফিলিপাইনে বাংলাদেশ মিশনে বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন তিনি।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top